হঠাৎ করে ওজন কমে যাওয়া অনেক সময় শরীরের ভেতরের কোনও সমস্যার গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত হতে পারে। আপাতভাবে ওজন কমে গেলে অনেকেই খুশি হন, কিন্তু যদি ডায়েট, ব্যায়াম বা জীবনযাত্রায় কোনও পরিবর্তন ছাড়াই শরীরের ওজন কমতে থাকে, তাহলে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা দরকার।
2
10
চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় এই শারীরিক পরিবর্তনকে বলা হয় 'আনইনটেনশনাল ওয়েট লস'। সাধারণভাবে যদি ৬ মাসের মধ্যে শরীরের মোট ওজনের প্রায় ৫% বা তার বেশি কমে যায়, তাহলে সেটিকে সতর্ক সংকেত হিসেবে ধরা হয়। কারণ এর পেছনে অনেক ধরনের শারীরিক বা মানসিক সমস্যা লুকিয়ে থাকতে পারে।
3
10
সবচেয়ে সাধারণ একটি কারণ হল থাইরয়েডের সমস্যা। বিশেষ করে হাইপারথাইরয়েডিজম হলে শরীরের মেটাবলিজম খুব দ্রুত কাজ করে। তখন স্বাভাবিক খাওয়াদাওয়া করলেও শরীর বেশি ক্যালরি খরচ করে এবং ওজন কমে যায়।
4
10
আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ হল ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে না থাকা। এতে শরীর খাবার থেকে ঠিকমতো এনার্জি নিতে পারে না, ফলে ওজন ধীরে ধীরে কমতে থাকে। একইভাবে দীর্ঘদিন ধরে থাকা সংক্রমণ, যেমন টিউবারকুলোসিস, শরীরকে দুর্বল করে দেয় এবং ওজন কমিয়ে দেয়।
5
10
হজমের সমস্যা বা অন্ত্রের রোগ থাকলেও খাবার ঠিকমতো শোষিত হয় না, ফলে শরীর প্রয়োজনীয় পুষ্টি পায় না। এতে ধীরে ধীরে ওজন কমে যায়। কিছু ক্ষেত্রে ক্যানসারের মতো গুরুতর রোগের প্রাথমিক লক্ষণ হিসেবেও অজান্তে ওজন কমতে পারে, তাই বিষয়টি অবহেলা করা উচিত নয়।
6
10
শুধু শারীরিক কারণ নয়, মানসিক কারণও খুব গুরুত্বপূর্ণ। দীর্ঘদিন স্ট্রেস, দুশ্চিন্তা বা ডিপ্রেশনের কারণে অনেকের খাওয়ার ইচ্ছা কমে যায়। কেউ কেউ ঠিকমতো ঘুমাতে পারে না, ফলে শরীর দুর্বল হয়ে ওজন কমতে শুরু করে।
7
10
এছাড়া অতিরিক্ত কাজের চাপ, অনিয়মিত জীবনযাপন, বা খাবার ঠিকমতো না খাওয়ার কারণেও ওজন কমে যেতে পারে। অনেক সময় মানুষ বুঝতেই পারে না যে সে পর্যাপ্ত ক্যালরি বা পুষ্টি নিচ্ছে না।
8
10
এমন পরিস্থিতিতে শরীর আরও কিছু সংকেত দেয়।যেমন সবসময় ক্লান্ত লাগা, দুর্বলতা, মাথা ঘোরা, ক্ষুধা কমে যাওয়া, বা মনোযোগ কমে যাওয়া। এসব লক্ষণ একসঙ্গে দেখা দিলে দেরি না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
9
10
প্রয়োজনে রক্ত পরীক্ষা, থাইরয়েড টেস্ট, ডায়াবেটিস পরীক্ষা বা অন্যান্য ডায়াগনস্টিক করা হয়। কারণ দ্রুত রোগ ধরা পড়লে চিকিৎসাও সহজ হয়।
10
10
সবশেষে বলা যায়, হঠাৎ ওজন কমে যাওয়া কখনওই সাধারণ বিষয় নয়। এটি শরীরের ভেতরের কোনও সমস্যার সতর্ক সংকেত হতে পারে। তাই সময়মতো সচেতন হওয়া এবং চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।