সোনা ও রুপোর দামের ওঠানামা যারা নিয়মিত নজরে রাখেন এবং ফিউচার্স ট্রেডিংয়ে নামার কথা ভাবছিলেন, তাঁদের জন্য এল স্বস্তির খবর। এমসিএক্স এবং স্টক এক্সচেঞ্জ সম্প্রতি সোনা ও রুপোর ফিউচার্স চুক্তিতে আরোপিত অতিরিক্ত মার্জিন তুলে নিয়েছে।
2
12
ফিউচার্স চুক্তি হল এমন এক আর্থিক চুক্তি, যেখানে ভবিষ্যতের নির্দিষ্ট দিনে নির্দিষ্ট দামে কোনও সম্পদ কেনা বা বেচার অঙ্গীকার করা হয়। এখানে সম্পদ বলতে শারীরিক গয়না বা রুপোর বার নয়; বরং এমন একটি চুক্তি, যার মূল্য বাজারদরের সঙ্গে ওঠানামা করে। দাম বাড়লে লাভ, কমলে লোকসান।
3
12
ফিউচার্স ট্রেডিংয়ে পুরো মূল্য একবারে দিতে হয় না। তার একটি অংশ জমা রাখতে হয়, যাকে বলা হয় মার্জিন। মার্জিন অনেকটা সিকিউরিটি ডিপোজিটের মতো—বাজার বিপরীতে গেলে সম্ভাব্য ক্ষতি সামলাতে এটি সুরক্ষা দেয়।
4
12
মার্জিনেরও ধরণ আছে। ইনিশিয়াল মার্জিন হল ট্রেড খোলার সময় ন্যূনতম প্রয়োজনীয় অঙ্ক। মেইনটেন্যান্স মার্জিন হল সেই ন্যূনতম ব্যালান্স, যা অ্যাকাউন্টে রাখতে হবে ট্রেড চালু রাখতে।
5
12
বাজারে ক্ষতির কারণে ব্যালান্স এই স্তরের নিচে নেমে গেলে ব্রোকার মার্জিন কল দেয়—অর্থাৎ দ্রুত অতিরিক্ত টাকা জমা করতে হয়।
6
12
সম্প্রতি সোনা ও রুপোর দামে তীব্র অস্থিরতা দেখা দেওয়ায় এক্সচেঞ্জগুলি অতিরিক্ত মার্জিন আরোপ করেছিল। এই অতিরিক্ত স্তরটি স্বাভাবিক মার্জিনের ওপর চাপানো হয়েছিল, যাতে উচ্চ ভোলাটিলিটির সময় ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণ করা যায়। ভোলাটিলিটি মানে অল্প সময়ে দামের দ্রুত ও বড় পরিবর্তন।
7
12
অতিরিক্ত মার্জিন থাকলে বাজারে প্রবেশের খরচ বেড়ে যায়। উদাহরণস্বরূপ, আগে যদি সোনার ফিউচার্সে একটি পজিশন নিতে ১ লক্ষ টাকা মার্জিন লাগত, অতিরিক্ত মার্জিনের কারণে আরও বেশি অর্থ আটকে রাখতে হত। রুপো, যা সাধারণত সোনার তুলনায় বেশি ওঠানামা করে, সেখানে এই চাপ আরও বেশি ছিল।
8
12
এখন সেই অতিরিক্ত স্তর তুলে নেওয়ায় ট্রেডারদের কম অগ্রিম মূলধনেই কাজ শুরু করা সম্ভব। ফলে ক্যাপিটাল এফিসিয়েন্সি বাড়ে—অর্থাৎ একই মূলধন দিয়ে বেশি সুযোগ নেওয়া যায়, বড় অংশ মার্জিনে আটকে থাকে না।
9
12
খুচরা বা রিটেল ট্রেডারদের জন্য বিষয়টি বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। বড় প্রতিষ্ঠান বা ফান্ডের তুলনায় তাঁদের পুঁজি সীমিত। মার্জিন বাড়লে তাঁদের ওপর চাপ দ্রুত পড়ে; কমলে অংশগ্রহণ বাড়ার সম্ভাবনা থাকে। এর ফলে বাজারে লিকুইডিটিও বাড়তে পারে—অর্থাৎ সহজে কেনাবেচা করা যায়, দামে বড় ধাক্কা না লাগিয়ে।
10
12
তবে মনে রাখতে হবে, কম মার্জিন মানেই কম ঝুঁকি নয়। ফিউচার্সে লিভারেজ থাকে—অল্প টাকায় বড় অঙ্কের সম্পদের নিয়ন্ত্রণ। এতে লাভ যেমন দ্রুত বাড়তে পারে, তেমন ক্ষতিও দ্রুত ফুলে উঠতে পারে। বাজার বিপরীতে গেলে বড় লোকসান হওয়ার ঝুঁকি থেকেই যায়।
11
12
সোনা ও রুপোর দাম আন্তর্জাতিক নানা কারণে প্রভাবিত হয়—মার্কিন সুদের হার, মুদ্রাস্ফীতি প্রত্যাশা, ডলারের গতিপ্রকৃতি, রাজনৈতিক উত্তেজনা ইত্যাদি। পরিস্থিতি বদলালে আবারও মার্জিন বাড়তে পারে।
12
12
এক্সচেঞ্জ ও ক্লিয়ারিং কর্পোরেশন বাজারের স্থিতি রক্ষায় নিয়ম সময়ে সময়ে বদলায়। অতএব, সুযোগ বাড়লেও শৃঙ্খলাবদ্ধ ঝুঁকিই ফিউচার্স ট্রেডিংয়ে টিকে থাকার মূল চাবিকাঠি।