বয়স ৯৬, অশক্ত পায়ে ৬০ কিলোমিটার দূরে পড়াতে যান বৃদ্ধা অধ্যাপিকা, ইচ্ছেশক্তিতেই প্রজ্জ্বলিত শিক্ষাদীপ
নিজস্ব সংবাদদাতা
৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১৭ : ০৪
শেয়ার করুন
1
17
বয়স ৯৬। এই বয়সে যেখানে অধিকাংশ মানুষ অবসর জীবন কাটান, সেখানে অশক্ত পায়ে লাঠিতে ভর দিয়ে প্রতিদিন নতুন করে ক্লাসে যাওয়ার প্রস্তুতি নেন তিনি।
2
17
ঘুম থেকে উঠে পড়েন ভোর ৪ টেয়৷ প্রাত্যহিক কাজকর্ম সেরেই লাঠিতে ভর দিয়ে এগিয়ে চলেন সেঞ্চুরিয়ান বিশ্ববিদ্যালয়ের দিকে৷
3
17
পড়াতে যেতে প্রতিদিন প্রায় ৬০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দেন। তিনি অন্ধ্রপ্রদেশের চিলুকুরি শান্তাম্মা, শিক্ষাজগতের এক অনন্য নাম, যাঁর জীবন প্রমাণ করে, শেখা ও শেখানোর কোনও বয়স হয় না।
4
17
আন্ধ্রপ্রদেশের এই প্রবীণ শিক্ষিকার জন্ম ১৯২৮ সালের ৩ সেপ্টেম্বর। জীবনের শুরুটা খুব একটা সহজ ছিল না। ছোট বয়সেই বাবাকে হারিয়েছিলেন তিনি।
5
17
কিন্তু প্রতিকূলতা তাঁর পড়াশোনার পথে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারেনি। ছাত্রজীবন থেকেই মেধার পরিচয় দিতে শুরু করেন শান্তাম্মা।
6
17
পরবর্তীকালে পদার্থবিদ্যায় উচ্চশিক্ষা সম্পূর্ণ করে গবেষণার জগতেও নিজের জায়গা তৈরি করেন।বিশাখাপত্তনমের এভিএন কলেজে পড়াশোনার পর অন্ধ্র বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পদার্থবিদ্যায় সাম্মানিক-সহ স্নাতক হন।
7
17
অন্ধ্রের ওই বিশ্ববিদ্যালয় থেকেই মাইক্রোওয়েভ স্পেকট্রোস্কপিতে ডিএসসি ডিগ্রি লাভ করেন, এই ডিগ্রি পিএইচডির সমান৷ এরপর অন্ধ্র বিশ্ববিদ্যালয়ে পদার্থবিদ্যায় লেকচারার হিসাবে কর্মজীবন শুরু করেন সন্তাম্মা।
8
17
১৯৫৬ সালে ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের কলেজ অফ সায়েন্সে যোগ দেন তিনি।লেকচারার থেকে অধ্যাপিকা। কাউন্সিল অফ সায়েন্টিফিক অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল রিসার্চ (সিএসআইআর), বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) এবং ডিপার্টমেন্ট অফ সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি (ডিএসটি)-তে অনুসন্ধানকারী দলের নেতৃত্বও দিয়েছেন সন্তম্মা।
9
17
পঞ্চাশের দশকে শিক্ষকতা শুরু করেন শান্তাম্মা। সেই সময় মহিলাদের উচ্চশিক্ষা এবং গবেষণার সুযোগ আজকের মতো সহজ ছিল না। তবু নিজের অধ্যবসায় এবং মেধার জোরে এগিয়ে যান তিনি।
10
17
দীর্ঘ কর্মজীবনে অন্ধ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং পদার্থবিদ্যার শিক্ষক হিসেবে বহু পড়ুয়ার ভবিষ্যৎ গড়ে দিয়েছেন। তাঁর গবেষণার অন্যতম ক্ষেত্র ছিল অ্যাটমিক ও মলিকিউলার স্পেকট্রোস্কপি।
11
17
১৯৮৯ সালে নিয়মমাফিক অবসর নেন তিনি। কিন্তু অবসর নিয়েও একদিনের জন্য শিক্ষকতা বন্ধ করেননি৷ বয়স যত বেড়েছে, ততই যেন বেড়েছে পড়ানোর প্রতি তাঁর টান।
12
17
বিশাখাপত্তনম থেকে বিজয়নগরমের একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াতে যেতে তাঁকে প্রায় ৬০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে হয়। এমনকী হাঁটুর অস্ত্রোপচার হওয়ার পরেও তাঁর এই রুটিন থামেনি।
13
17
শুধু ক্লাস নেওয়াই নয়, দিনের শুরু হয় ভোররাতেই। নিজের পড়ানোর প্রস্তুতি নেওয়া থেকে শুরু করে রান্না—সবই নিজে সামলান তিনি। তাঁর জীবনযাপন যেন বারবার মনে করিয়ে দেয়, বয়স শুধুমাত্র একটি সংখ্যা, ইচ্ছাশক্তিই আসল।
14
17
শিক্ষকতার পাশাপাশি সমাজসেবাতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছেন শান্তাম্মা। বিশাখাপত্তনমে নিজের বাড়িটি একটি মেডিক্যাল ট্রাস্টকে দান করেছেন তিনি, যাতে সেখানে সাধারণ মানুষের চিকিৎসার জন্য পরিষেবা গড়ে তোলা যায়।
15
17
বিজ্ঞান ও শিক্ষার পাশাপাশি আধ্যাত্মিক বিষয়েও তাঁর আগ্রহ রয়েছে। তিনি ভগবদ্গীতার একটি ইংরেজি ব্যাখ্যাগ্রন্থও লিখেছেন—‘Bhagavad Gita – The Divine Directive’।
16
17
চিলুকুরি শান্তাম্মার পরিবারের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে আরও একটি পরিচিত নাম—উষা চিলুকুরি ভ্যান্স। মার্কিন রাজনীতিবিদ জে ডি ভ্যান্সের স্ত্রী উষা তাঁর পরিবারের সদস্য।
17
17
২০২৪ সালে জে ডি ভ্যান্স মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডোনাল্ড ট্রাম্পের রানিং মেট হিসেবে মনোনীত হওয়ার পর শান্তাম্মাকে নিয়ে নতুন করে চর্চা শুরু হয়।