কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারী ও পেনশনভোগীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ খবর। আনুষ্ঠানিক ভাবে গঠনের পর ইতিমধ্যেই ১০ মাস পূর্ণ করেছে ৮ম কেন্দ্রীয় বেতন কমিশন।
2
11
কেন্দ্রীয় সরকারের গঠিত এই অস্থায়ী কমিশনের মূল দায়িত্ব হল সরকারি কর্মচারী, পেনশনভোগী, কর্মী সংগঠন ও বিভিন্ন সংশ্লিষ্ট পক্ষের মতামত, দাবি এবং সমস্যাগুলি খতিয়ে দেখে বেতন, ভাতা ও পেনশন কাঠামো সংশোধনের বিষয়ে কেন্দ্রকে সুপারিশ করা। সাম্প্রতিক সময়ে কমিশনের প্রশাসনিক ও পরামর্শমূলক তৎপরতা আরও গতি পেয়েছে।
3
11
গত ৩১ অগস্ট এবং ১ সেপ্টেম্বর জয়পুরে যোগ্য অংশীদারদের সঙ্গে বৈঠক ও আলোচনা করেছে ৮ম পে কমিশন। এবার সেপ্টেম্বর ও অক্টোবর মাসজুড়ে দেশের বিভিন্ন রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে একাধিক সফর ও বৈঠকের প্রস্তুতি চলছে। অর্থাৎ, বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গে সরাসরি আলোচনা ও মতামত সংগ্রহের পর্ব এখন কার্যত আরও গুরুত্বপূর্ণ এবং চূড়ান্ত পর্যায়ে প্রবেশ করছে।
4
11
৮ম পে কমিশনের নেতৃত্বে রয়েছেন চেয়ারপার্সন বিচারপতি রঞ্জনা প্রকাশ দেশাই। কমিশনের পার্ট-টাইম সদস্য হিসেবে রয়েছেন পুলক ঘোষ এবং সদস্য-সচিবের দায়িত্বে রয়েছেন পঙ্কজ জৈন। কমিশনের সদর দপ্তর নয়াদিল্লির জনপথের চন্দরলোক বিল্ডিংয়ের তৃতীয় ও সপ্তম তলায়।
5
11
গত ৩ নভেম্বর ২০২৫ সালে ৮ম কেন্দ্রীয় বেতন কমিশন গঠন করা হয়। কেন্দ্রীয় সরকার কমিশনকে মোট ১৮ মাসের সময়সীমা দিয়েছে।
6
11
এই সময়ের মধ্যে কর্মচারী ও পেনশনভোগীদের বিভিন্ন দাবি, কর্মী সংগঠনগুলির প্রস্তাব এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলির মতামত বিবেচনা করে চূড়ান্ত রিপোর্ট কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে জমা দেওয়ার কথা। সেই হিসেবে ইতিমধ্যেই নির্ধারিত সময়সীমার ১০ মাস অতিক্রান্ত হয়েছে।
7
11
বর্তমানে সবচেয়ে বেশি নজর রয়েছে ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর নিয়ে। কারণ নতুন বেতন কাঠামো নির্ধারণে এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
8
11
ষষ্ঠ পে কমিশনে ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর ছিল ১.৮৬, আর সপ্তম পে কমিশনে তা বেড়ে হয়েছিল ২.৫৭। এবার ৮ম পে কমিশন কত ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর নির্ধারণ করে, সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছেন কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারীরা।
9
11
তবে শুধু ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর নয়, কমিশনের আলোচনায় পেনশন সংস্কার, মূল্যবৃদ্ধির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বেতন বৃদ্ধি, কর্মচারী ও তাঁদের পরিবারের জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন এবং কর্মীদের মনোবল বৃদ্ধির মতো বিষয়ও গুরুত্ব পাচ্ছে।
10
11
বর্তমান পরিকল্পনা অনুযায়ী, ১৮ মাসের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর ২০২৭ সালের মে-জুন নাগাদ ৮ম পে কমিশন তার চূড়ান্ত রিপোর্ট কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে জমা দিতে পারে। সেপ্টেম্বর ও অক্টোবরের রাজ্য সফরগুলি শেষ হওয়ার পর কমিশনের হাতে জমা পড়া বিভিন্ন দাবি ও মতামত বিশ্লেষণ করে সুপারিশ তৈরির কাজ আরও জোরদার হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
11
11
অক্টোবর মাসে বেঙ্গালুরু সফরের পর ৮ম পে কমিশনের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে তাই বিশেষ নজর থাকবে কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারী ও পেনশনভোগীদের। পরামর্শ ও আলোচনা পর্ব শেষের দিকে এগোতেই এবার ধীরে ধীরে আসল সুপারিশ তৈরির প্রক্রিয়ায় নজর দিতে চলেছে কমিশন।