ভারত প্রতি বছর বিপুল পরিমাণ সোনা আমদানি করে, কিন্তু এবার দেশের দেশীয় খনি চিত্রটা হয়তো বদলাতে চলেছে। আগামী কয়েক বছরের মধ্যে অন্ধ্রপ্রদেশ ভারতের সবচেয়ে বড় সোনা উৎপাদনকারী রাজ্য হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে প্রস্তুত। সম্প্রতি সেখানে বিপুল খনিজ সম্পদের খোঁজ পাওয়া গেছে এবং বেসরকারি খনির প্রকল্পেও জোর দেওয়া হয়েছে।
2
12
রাজ্য সরকারের আধিকারিকরা জানিয়েছেন, স্থানীয় খনিজ সম্পদের সঠিক ব্যবহারের মাধ্যমে দেশের অভ্যন্তরীণ সোনার চাহিদার একটা বড় অংশ মেটানো সম্ভব হবে, যা এতদিন আন্তর্জাতিক আমদানির ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল ছিল।
3
12
এই নতুন সম্ভাবনার কেন্দ্রে রয়েছে কুরনুল জেলার জোনাগিরি গ্রাম। খনি ও ভূতত্ত্ব বিভাগের প্রিন্সিপাল সেক্রেটারি মুকেশ কুমার মিনা এক সাংবাদিক সম্মেলনে জানিয়েছেন যে, শুধুমাত্র জোনাগিরিতেই প্রায় ৫০ টন সোনার মজুত রয়েছে বলে অনুমান করা হচ্ছে।
4
12
এই মূল প্রকল্পের পাশাপাশি রাজ্য সরকার আরও চারটি সম্ভাবনাময় এলাকার খোঁজ পেয়েছে— যার মধ্যে রয়েছে রামগিরি, জাভভাকুলা এবং চিগুরুকুন্টা-বিসনাথম। এই উদ্যোগগুলি মূলত অব্যবহৃত খনিজ ব্লকগুলি চিহ্নিত করে ইজারা দেওয়ার বৃহত্তর কাঠামোগত প্রচারণারই অংশ।
5
12
২০০০ সালে বিখ্যাত কোলার গোল্ড ফিল্ডস বা কেজিএফ বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর থেকে ভারতে দেশীয় সোনা উৎপাদন বেশ সীমিত। গত দুই দশকের বেশি সময় ধরে কর্ণাটকের রাষ্ট্রায়ত্ত হাট্টি গোল্ড মাইনস দেশের একমাত্র সক্রিয় বড় সোনা উৎপাদক, যা বছরে মাত্র ১.৫ টন সোনা উৎপাদন করে। অথচ ভারতে প্রতি বছর ৮০০ টনেরও বেশি সোনার চাহিদা রয়েছে।
6
12
এর ফলে বৈদেশিক মুদ্রার ভাণ্ডারে যেমন চাপ পড়ে, তেমনই দেশীয় খনি অনুসন্ধানের গুরুত্বও বাড়ে। এই ঘাটতি মেটানোর লক্ষ্যেই অন্ধ্রপ্রদেশে জোনাগিরি সোনা প্রকল্প চালু করা হয়েছে, যা স্বাধীনতার পর দেশের প্রথম বড় মাপের বেসরকারি সোনা খনি উদ্যোগ।
7
12
জিওমাইসোর সার্ভিসেস ইন্ডিয়া প্রাইভেট লিমিটেড-এর দ্বারা ৪০০ কোটি টাকারও বেশি বিনিয়োগে তৈরি এই উন্মুক্ত খনিটি প্রায় ৫৯৮ হেক্টর জায়গা জুড়ে বিস্তৃত।
8
12
আশা করা হচ্ছে, আগামী ১৫ বছর ধরে এই খনি থেকে বছরে সর্বোচ্চ ১,০০০ কিলোগ্রাম পর্যন্ত পরিশোধিত সোনা উৎপাদিত হবে, যা জাতীয় সরবরাহ শৃঙ্খলে একটি শক্ত ভিত তৈরি করবে।
9
12
অর্থনৈতিক সম্ভাবনা প্রচুর হলেও, আধিকারিকরা জোর দিয়ে বলছেন যে আধুনিক পদ্ধতিতে সোনা নিষ্কাশনের জন্য যথেষ্ট মূলধন ও বিশেষ কারিগরি দক্ষতার প্রয়োজন। এই কারণেই রাজ্য সরকার স্বচ্ছ নিলাম প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বেসরকারি সংস্থাগুলিকে খনির অধিকার দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
10
12
আধুনিক খনিশিল্পের বাস্তবতায় এই বেসরকারি অংশগ্রহণ অত্যন্ত জরুরি, কারণ সময়ের সাথে সাথে আকরিক থেকে সোনা উদ্ধারের হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। লাভজনক থাকার জন্য এখনকার প্রসেসিং ফেসিলিটিগুলিকে বিপুল পরিমাণ পাথর ও মাটি প্রক্রিয়াজাত করতে হয়। ঐতিহাসিকভাবে এক টন পাথর থেকে তিন গ্রাম সোনা পাওয়া গেলেও, বর্তমানে তা কমে আনুমানিক এক গ্রামে দাঁড়িয়েছে।
11
12
আর তা যদি ০.৮ গ্রামের নিচে নেমে যায়, তবে তা আর্থিকভাবে লাভজনক বলে গণ্য হয় না। জোনাগিরি প্ল্যান্টে উন্নত ক্রাশিং, কার্বন-ইন-লিচ প্রসেসিং এবং আধুনিক স্মেল্টিং ফার্নেস ব্যবহার করে শক্ত পাথর থেকে অত্যন্ত বিশুদ্ধ ডোরে বার তৈরি করা হচ্ছে।
12
12
ইজারা দেওয়া খনি এলাকার একটা বড় অংশে এখনও দ্বিতীয় পর্যায়ের অনুসন্ধান চলছে, আর রাজ্য সরকার আশা করছে যে এর ফলে প্রমাণিত মজুতের পরিমাণ আরও বাড়বে, যা খনিজ সম্পদে স্বনির্ভর হওয়ার ক্ষেত্রে ভারতকে অনেকটা এগিয়ে দেবে।