মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র–ইজরায়েল ও ইরানের সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ায় বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম টানা তৃতীয় সেশনে বেড়েছে। সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কায় বাজারে বাড়ছে উদ্বেগ। বিশ্বের অন্যতম প্রধান তেল উৎপাদনকারী অঞ্চল হওয়ায় এই সংঘাতের প্রভাব পড়েছে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে।
2
11
মঙ্গলবার ০৪০০ জিএমটি-তে ফিউচার্সের দাম দাঁড়ায় ব্যারেলপ্রতি ৭৯.৪৪ ডলার, যা আগের দিনের তুলনায় ১.৭০ ডলার বা ২.২% বেশি। সোমবার ব্রেন্ট এক সময় ৮২.৩৭ ডলারে পৌঁছেছিল—যা জানুয়ারি ২০২৫-এর পর সর্বোচ্চ—যদিও পরে কিছুটা নেমে গিয়ে ৬.৭% ঊর্ধ্বগতিতে সেশন শেষ করে।
3
11
অন্যদিকে, অপরিশোধিত তেলের দাম বেড়ে দাঁড়ায় ব্যারেলপ্রতি ৭২.৪০ ডলারে, যা ১.৬% বৃদ্ধি। আগের সেশনে ডব্লিউটিআই জুন ২০২৫-এর পর সর্বোচ্চ স্তরে উঠেছিল এবং শেষ পর্যন্ত ৬.৩% ঊর্ধ্বগতিতে বন্ধ হয়।
4
11
বাজারের প্রধান উদ্বেগের কেন্দ্রবিন্দু এখন হরমুজ প্রণালী যেটি সংকীর্ণ সমুদ্রপথ, যার মাধ্যমে বিশ্বের প্রায় ২০% তেল ও গ্যাস সরবরাহ পরিবাহিত হয়। বিশ্লেষকরা সতর্ক করছেন, এই জলপথে চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠলে বিশ্বের সরবরাহে বড় ধাক্কা লাগতে পারে।
5
11
সংঘাতের জেরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েল সোমবার ইরানের বিরুদ্ধে বিমান হামলা জোরদার করে। ইজরায়েল লেবাননে আঘাত হানে, আর ইরান পাল্টা হিসেবে উপসাগরীয় অঞ্চলের জ্বালানি অবকাঠামো এবং হরমুজ প্রণালিতে ট্যাঙ্কারের ওপর হামলা চালায় বলে জানা গেছে। ইরানের এক শীর্ষ কর্মকর্তা দাবি করেছেন, হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে এবং যে কোনও জাহাজ সেখানে প্রবেশের চেষ্টা করলে গুলি চালানো হবে।
6
11
এই পরিস্থিতিতে বীমা সংস্থাগুলি ওই অঞ্চলে চলাচলকারী জাহাজের কভারেজ বাতিল করায় অনেক ট্যাঙ্কার ও কনটেইনার জাহাজ বিকল্প পথ বেছে নিচ্ছে। ফলে বিশ্বের তেল ও গ্যাস পরিবহন খরচও দ্রুত বেড়েছে।
7
11
শুধু অপরিশোধিত তেল নয়, পরিশোধিত জ্বালানির বাজারেও প্রভাব পড়েছে। মধ্যপ্রাচ্য গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি সরবরাহকারী হওয়ায় সেখানে রিফাইনারি বা প্রক্রিয়াকরণ কেন্দ্রের ওপর হামলার আশঙ্কা বাজারকে আরও অস্থির করেছে। সোমবার সৌদি আরব ড্রোন হামলার পর তাদের বৃহত্তম দেশীয় তেল শোধনাগার সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেয়।
8
11
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে আল্ট্রা-লো সালফার ডিজেল ফিউচার্স ৪.২% বেড়ে গ্যালনপ্রতি ৩.০২০৭ ডলারে পৌঁছায়, যা দুই বছরের সর্বোচ্চ স্তরের কাছাকাছি। গ্যাসোলিন ফিউচার্সও ১.৭% বেড়ে দাঁড়ায় ২.৪১১৩ ডলারে।
9
11
ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু জানিয়েছেন, ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ “কিছুটা সময়” চলতে পারে, তবে তা বছরের পর বছর স্থায়ী হবে না। তবে বিশ্লেষকদের মতে, উত্তেজনা যতদিন থাকবে তেলের দাম ততদিন অস্থিরই থাকবে।
10
11
গবেষণা সংস্থা বার্নস্টেন ২০২৬ সালের জন্য ব্রেন্ট তেলের গড় মূল্য অনুমান ৬৫ ডলার থেকে বাড়িয়ে ৮০ ডলার করেছে। চরম পরিস্থিতিতে দাম ১২০ থেকে ১৫০ ডলার পর্যন্ত উঠতে পারে বলেও তারা সতর্ক করেছে।
11
11
বিশেষজ্ঞদের মতে, রাজনৈতিক উত্তেজনা প্রায়ই বাজারে অতিরিক্ত মূল্যবৃদ্ধি ঘটায়। তবে আপাতত মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতির ওপরই নজর রাখছে বিশ্ব তেলবাজার।