ভারতীয় শেয়ারবাজারে নতুন করে আশার আলো জ্বলেছে। গত তিনটি ট্রেডিং সেশনে প্রায় ১,৩০০ পয়েন্ট বেড়েছে সেনসেক্স, আর এই উত্থানের পেছনে বড় কারণ হিসেবে উঠে এসেছে পশ্চিম এশিয়ার রাজনৈতিক পরিস্থিতি—বিশেষ করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য শান্তি আলোচনা।
2
9
বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি এই উত্তেজনা পুরোপুরি প্রশমিত হয়, তাহলে সেনসেক্সের সামনে ৮৫,০০০-এর মতো উচ্চ স্তরও অদূর ভবিষ্যতে বাস্তব হতে পারে। তবে এই পথ মোটেও একমুখী নয়—ঝুঁকিও কম নয়।
3
9
প্রথমত, তেলের দাম স্থিতিশীল হওয়া বড় ইতিবাচক সংকেত। ইরান-মার্কিন সংঘাত কমলে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম কমতে পারে, যা ভারতের মতো তেল আমদানিকারক দেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এতে মুদ্রাস্ফীতি কমে এবং কর্পোরেট মুনাফা বাড়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়।
4
9
দ্বিতীয়ত, বিশ্ব বাজারে ইতিবাচক প্রবণতা এবং বিদেশি বিনিয়োগকারীদের বিক্রি কমে যাওয়াও বাজারে শক্তি জুগিয়েছে।
5
9
তৃতীয়ত, বিনিয়োগকারীদের মনোভাব বদলেছে। কয়েক সপ্তাহ আগেও যুদ্ধের আশঙ্কায় বাজারে তীব্র পতন দেখা গিয়েছিল—একদিনেই ১,৪০০ পয়েন্ট পর্যন্ত পড়েছিল সেনসেক্স।
এখন সেই ভয় অনেকটাই কমেছে।
6
9
যদি সত্যিই একটি স্থায়ী শান্তি চুক্তি হয়, তাহলে এর প্রভাব শুধু ভারত নয়, গোটা বিশ্ব অর্থনীতিতে পড়বে। তেলের দাম আরও কমতে পারে। টাকার শক্তি বাড়তে পারে। বৈদেশিক বিনিয়োগ বাড়তে পারে।
7
9
এই তিনটি ফ্যাক্টর মিলেই সেনসেক্সকে নতুন উচ্চতায় ঠেলে দিতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ৮৫,০০০ ছোঁয়া অসম্ভব নয়, তবে কিছু শর্ত পূরণ হওয়া জরুরি। যুদ্ধ পরিস্থিতির সম্পূর্ণ অবসান। তেলের দাম নিয়ন্ত্রিত থাকা। বৈদেশিক বিনিয়োগের প্রত্যাবর্তন। কর্পোরেট আয়ের ধারাবাহিক বৃদ্ধি।
8
9
তবে মনে রাখতে হবে, এই বাজার এখনও “হেডলাইন-ড্রিভেন”—অর্থাৎ খবরের উপর নির্ভরশীল। যদি হঠাৎ করে আবার উত্তেজনা বাড়ে বা শান্তি আলোচনা ভেঙে যায়, তাহলে বাজার দ্রুত দিক বদলাতে পারে। অতীতে এমনটা একাধিকবার দেখা গেছে।
9
9
বর্তমানে বাজারে যে ইতিবাচক গতি দেখা যাচ্ছে, তা অনেকটাই রাজনৈতিক পরিস্থিতির উপর নির্ভরশীল। মার্কিন ইরান শান্তি যদি বাস্তবায়িত হয়, তাহলে সেনসেক্সের ৮৫,০০০ ছোঁয়া শুধু স্বপ্ন নয়—বাস্তবও হতে পারে।
তবে বিনিয়োগের আগে ঝুঁকি মাথায় রাখা এখন আগের চেয়ে বেশি জরুরি।