সোনম ওয়াংচুক, একাধারে তথ্যপ্রযুক্তিবিদ, শিক্ষাবিদ এবং পরিবেশকর্মী। লাদাখের এক প্রত্যন্ত গ্রামে জন্ম নেওয়া এই মানুষটি নিজের পুরো জীবন সঁপে দিয়েছেন শিক্ষার ধারা বদলে দিতে এবং পরিবেশবান্ধব জীবনযাত্রার প্রসারে।
2
11
তাঁর সাফ কথা- শিক্ষা মানে শুধু বইয়ের পাতা মুখস্থ করা নয়, আসল শেখা লুকিয়ে আছে বাস্তবের সমস্যা মেটানোর মধ্যে।
তবে একটা তথ্য জানিয়ে রাখা ভালো, সোনম ওয়াংচুকের এই বিখ্যাত উদ্ভাবনগুলির কোনওটির নামেই কিন্তু কোনও পেটেন্ট থাকার আনুষ্ঠানিক প্রমাণ মেলেনি।
3
11
তাঁর সেরা পাঁচ আবিষ্কার একনজরে দেখে নেওয়া যাক৷
4
11
১) আইস স্তূপ: সোনম ওয়াংচুকের উদ্ভাবনগুলির মধ্যে 'আইস স্তূপ' সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয়। শীতকালে পাহাড়ি এলাকায় বাড়তি জল বরফ করে মোচার মতো উঁচু স্তূপে জমিয়ে রাখা হয়।
5
11
বসন্ত এলে যখন চাষবাসের জন্য জলের হাহাকার পড়ে, তখন এই বরফ গলতে শুরু করে। জমিতে জলের জোগান দেয়। বিদ্যুত বা পাম্প ছাড়াই স্রেফ মাধ্যাকর্ষণ শক্তিকে কাজে লাগিয়ে এই ব্যবস্থা চলে। পাহাড়ি অঞ্চলে জলের সঙ্কট মেটাতে এই প্রযুক্তি এখন বিশ্বজুড়ে প্রশংসিত।
6
11
২) 'সেকমল': লাদাখের ভেঙে পড়া শিক্ষা ব্যবস্থাকে টেনে তুলতে ১৯৮৮ সালে 'স্টুডেন্টস এডুকেশনাল অ্যান্ড কালচারাল মুভমেন্ট অব লাদাখ' তৈরি করেন ওয়াংচুক।
7
11
এখানে পড়াশোনা মানে শুধু পরীক্ষা দেওয়া নয়, হাতে-কলমে শেখা। সৌর শক্তি কীভাবে কাজ করে, তা ছাত্রছাত্রীরা শেখে ক্যাম্পাসের সোলার সিস্টেম দেখাশোনা করতে গিয়ে। একই ভাবে চাষবাস, জল সংরক্ষণ কিংবা খাবার প্রক্রিয়াকরণ- সবই তারা শেখে কাজের মধ্য দিয়ে।
8
11
৩) পাহাড়ি অঞ্চলের ভৌগোলিক চাহিদা মাথায় রেখে সহজ ও টেকসই প্রযুক্তির প্রসার ঘটিয়েছেন ওয়াংচুক। স্রেফ ব্যবসা করার উদ্দেশ্যে নতুন কিছু বানানোর চেয়ে, স্থানীয় মানুষের কাজে লাগে এমন প্রযুক্তি যাতে সহজেই ব্যবহার করা যায় সে দিকেই খেয়াল করেছেন তিনি।
9
11
৪) পরিবেশবান্ধব ঘর: মাটি আর স্থানীয় জিনিসপত্র ব্যবহার করে বিশেষ এক ধরনের বাড়ি তৈরির পদ্ধতি এনেছেন ওয়াংচুক ও তাঁর দল। লাদাখের হাড়কাঁপানো ঠান্ডাতেও বাড়তি কোনও জ্বালানি না পুড়িয়ে বা হিটার না চালিয়ে এই ঘরগুলি বেশ গরম থাকে।
10
11
৫) পরিবেশবান্ধব 'সেকমল' ক্যাম্পাস: 'সেকমল'-এর পুরো ক্যাম্পাসটিই যেন একটা বড় পরীক্ষাগার। এখানে সৌর শক্তিকে কাজে লাগিয়েই যাবতীয় কাজকর্ম চলে। ফলে খনিজ জ্বালানির ওপর নির্ভরতা নেই বললেই চলে।
11
11
তাপমাত্রা হিমাঙ্কের অনেক নিচে নেমে গেলেও এখানকার সোলার-বিল্ডিংগুলি ভেতরে উষ্ণ পরিবেশ বজায় রাখে। প্রাচীন লোকজ্ঞান আর আধুনিক প্রযুক্তির জুড়িবন্দি যে কতটা কার্যকর হতে পারে, এই ক্যাম্পাস তার জলজ্যান্ত প্রমাণ।