‘ম্যায় হুঁ না’ স্রেফ আর পাঁচটি হিট ছবির মতো নয়। এ ছবি বলিউডের একেবারে খাঁটি কাল্ট ক্লাসিক। আর এবার, দু' দশক পর সেই ছবির সিক্যুয়েল ‘ম্যায় হুঁ না ২’ ঘিরে শুরু হয়েছে জোর গুঞ্জন। শোনা যাচ্ছে, ফারাহ খান ফের এই ফ্র্যাঞ্চাইজিতে পরিচালক হিসেবে ফিরতে চলেছেন, আর শাহরুখ খানকে দেখা যেতে পারে ডাবল রোলে! যা নিয়ে ইতিমধ্যেই উত্তেজনায় ফুটছে অনুরাগীমহল।
2
9
২০০৪ সালের এপ্রিলে মুক্তি পেয়েছিল ‘ম্যায় হুঁ না’। সেই সময় হিন্দি ছবিতে এমন বিভিন্ন ঘরানা ককটেল মিলিয়েমিশিয়ে ছবি খুব একটা দেখা যেত না। অ্যাকশন থ্রিলার, কলেজ ক্যাম্পাস কমেডি, রোম্যান্স আর দেশপ্রেম -সবকিছুর নিখুঁতভাবে মেশানো ছিল এই ছবিতে।
3
9
গল্পের কেন্দ্রে ছিলেন মেজর রাম প্রসাদ শর্মা (শাহরুখ খান), যিনি একদিকে কলেজে ছদ্মবেশে ঢুকে তাঁর জেনারেলের মেয়েকে রক্ষা করেন, অন্যদিকে নিজের বিচ্ছিন্ন সৎভাইয়ের সঙ্গে সম্পর্ক জোড়া লাগানোর চেষ্টা চালান।
4
9
হাই-ভোল্টেজ অ্যাকশন আর হালকা কলেজি খুনসুটি, সঙ্গে আবেগঘন পারিবারিক নাটক -এই ভারসাম্যই ‘ম্যায় হুঁ না’-কে মুহূর্তেই সব বয়সের দর্শকের কাছে জনপ্রিয় করে তোলে। ছবিটি যেন শুধু একটি সিনেমা নয়, বরং ২০০০ দশকের গোড়ার বলিউডের মেজাজের প্রতিফলন, যখন মশালা সিনেমা নিজেকে আরও সচেতন, আরও হালকাভাবে উপস্থাপন করতে শুরু করেছিল।
5
9
এই ছবির কাল্ট স্ট্যাটাসের পেছনে বড় ভূমিকা রয়েছে তার চরিত্র, গান আর ফারাহ খানের স্টাইলিশ টাচের। শাহরুখের সঙ্গে সুস্মিতা সেনের রসায়ন, জায়েদ খান ও অমৃতা রাওয়ের তরুণ আবেদন -সব মিলিয়ে এই এক ঝাঁক চরিত্র আজও পপ কালচারের অংশ। ‘তুমহে জো ম্যায়নে দেখা’ গানের সঙ্গে শিফন শাড়িতে সুস্মিতার সেই স্লো-মোশন এন্ট্রি, কিংবা বারবার হাঁচি দেওয়া সতীশ শাহের অধ্যাপকের চরিত্র -ভোলা যায় কি?এর উপর ‘তুমসে মিলকে দিল কা জো হাল’ বা ‘ম্যায় হুঁ না’র মতো গান আজও বলিউডের মিউজিক হল অফ ফেমে জায়গা করে নিয়েছে।
6
9
এই ছবির মাধ্যমেই পরিচালক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছিলেন ফারাহ খান, যিনি দেখিয়ে দিয়েছিলেন কীভাবে জাঁকজমক আর আবেগ একসঙ্গে পর্দায় ধরা যায়। আর শাহরুখের কেরিয়ারে ‘ম্যায় হুঁ না’ ছিল আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ পালক। তিনি যে অ্যাকশন হিরো আর রোম্যান্টিক লিড - এই দুই ভূমিকাতেই সাবলীল, তার প্রমাণ ছিল এই ছবি।
7
9
এখন শোনা যাচ্ছে, ‘ম্যায় হুঁ না ২’ ডেভলপ হচ্ছে। দীর্ঘ এক দশকেরও বেশি সময় পর ফারাহ খান ও শাহরুখ খানের এই রিইউনিয়ন ঘিরে স্বাভাবিকভাবেই কৌতূহল তুঙ্গে। সবচেয়ে চর্চিত বিষয় -শাহরুখের সম্ভাব্য ডাবল রোল। ইন্ডাস্ট্রির অন্দরের খবর অনুযায়ী, ফারাহ এমন একটি কনসেপ্ট শাহরুখকে বলেছেন, যেখানে 'কিং খান'কে দেখা যাবে দুই একেবারে বিপরীত চরিত্রে। এই ভাবনাই নাকি শাহরুখের মন কেড়েছে, ফলে ‘কিং’-এর পর তাঁর পরবর্তী ছবির দৌড়ে ‘ম্যায় হুঁ না ২’ বেশ শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী।
8
9
তবে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে, সিক্যুয়েল কি আবার কলেজ ক্যাম্পাসে ফিরবে, না কি একেবারে নতুন প্রেক্ষাপটে গল্প এগোবে? সূত্রের খবর, ছবির দেশপ্রেমের মূল সুর বজায় থাকলেও আবেগ ও বিনোদনের মাত্রা থাকবে আগের মতোই। ডাবল রোলের ব্যবহার করে পরিচয়, দায়িত্ব আর পরিবারের মতো বিষয়গুলোকে নতুনভাবে তুলে ধরার পরিকল্পনাও থাকতে পারে।
9
9
অনুরাগীদের কাছে ‘ম্যায় হুঁ না ২’ শুধুই নস্টালজিয়া নয়। এটা এক যুগকে সংজ্ঞায়িত করা পরিচালক-অভিনেতা জুটির রিউনিয়ন । ‘ওম শান্তি ওম’ থেকে ‘হ্যাপি নিউ ইয়ার’ - ফারাহ এবং শাহরুখ জুটি মানেই বড় মাপের স্পেকট্যাকল। কিন্তু তাঁদের সব কাজের মধ্যে ‘ম্যায় হুঁ না’ আজও সবচেয়ে প্রিয়। তাই ২০ বছরেরও বেশি সময় পর সেই জগতে ফেরার ভাবনাই আবেগে ভরিয়ে দিচ্ছে দর্শকদের।