মহাকাশ ও পৃথিবীর বার্ষিক গতিপথে একটি গুরুত্বপূর্ণ দিন। এদিন সূর্য অতিক্রম করবে এক বিশেষ জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক সীমারেখা।
2
12
পালিত হবে সেপ্টেম্বর বা শরৎ বিষুব। উত্তর গোলার্ধে এই ঘটনাকে জ্যোতির্বিদ্যার হিসাবে শরতের সূচনা হিসেবে ধরা হয়। ভারতের ক্ষেত্রে এদিন ভোর ৫টা ৩৫ মিনিটে ঘটবে এই বিশেষ মহাজাগতিক ঘটনা।
3
12
বিষুবের সঠিক মুহূর্তে সূর্যের কেন্দ্র পৃথিবীর বিষুবরেখার সমতল অতিক্রম করে উত্তর থেকে দক্ষিণ দিকে এগিয়ে যায়। এর ফলে সূর্যের আলো পৃথিবীর উত্তর ও দক্ষিণ গোলার্ধে তুলনামূলকভাবে সমানভাবে পড়ে। তবে এর অর্থ এই নয় যে, পৃথিবীর প্রতিটি প্রান্তে ঠিক ১২ ঘণ্টা দিন এবং ১২ ঘণ্টা রাত হবে।
4
12
কী এই বিষুব? বছরে দু’বার বিষুব ঘটে। একটি মার্চ মাসে এবং অন্যটি সেপ্টেম্বর মাসে। ‘Equinox’ শব্দটি এসেছে লাতিন শব্দ থেকে, যার অর্থ ‘সমান রাত’। দিন ও রাতের দৈর্ঘ্য কাছাকাছি চলে আসার কারণেই এমন নামকরণ।
5
12
পৃথিবীর অক্ষ তার কক্ষপথের তুলনায় প্রায় ২৩.৫ ডিগ্রি হেলে রয়েছে। সূর্যকে প্রদক্ষিণ করার সময় এই হেলনের কারণে বছরের বিভিন্ন সময়ে উত্তর ও দক্ষিণ গোলার্ধে সূর্যের আলো পড়ার মাত্রা বদলাতে থাকে।
6
12
বিষুবের সময় কোনও একটি গোলার্ধই সূর্যের দিকে বিশেষভাবে হেলে থাকে না। ফলে দুই গোলার্ধেই সূর্যালোক তুলনামূলকভাবে সমানভাবে পৌঁছয়।
7
12
মার্চের বিষুব উত্তর গোলার্ধে জ্যোতির্বিদ্যার বসন্তের সূচনা করে। অন্যদিকে সেপ্টেম্বরের বিষুব উত্তর গোলার্ধে জ্যোতির্বিদ্যার শরৎকালের সূচনা করে।
8
12
বিষুবের নামের সঙ্গে ‘সমান রাত’-এর ধারণা থাকলেও বাস্তবে প্রতিটি জায়গায় ঠিক ১২ ঘণ্টা দিন ও ১২ ঘণ্টা রাত হয় না। এর অন্যতম কারণ পৃথিবীর বায়ুমণ্ডল। বায়ুমণ্ডলের কারণে সূর্যের আলো কিছুটা বেঁকে যায়। পাশাপাশি সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত নির্ধারণের পদ্ধতিও দিনের দৈর্ঘ্যের হিসাবকে প্রভাবিত করে।
9
12
ফলে বিষুবের সময় সাধারণত দিনের দৈর্ঘ্য ১২ ঘণ্টার তুলনায় সামান্য বেশি থাকে। তবে এই সময় থেকেই একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের প্রবণতা স্পষ্ট হয়। সেপ্টেম্বর বিষুবের পর উত্তর গোলার্ধে সূর্যের সরাসরি আলো ধীরে ধীরে কমতে থাকে।
10
12
শরৎ বিষুব মানেই ভারতে হঠাৎ করে শরতের আবহাওয়া শুরু হয়ে যাওয়া নয়। দেশের আবহাওয়া নির্ধারণে বর্ষা, ভৌগোলিক অবস্থান, সমুদ্রের প্রভাব এবং আঞ্চলিক জলবায়ু গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাই বিষুবের কারণে তাপমাত্রা বা আবহাওয়ায় একদিনে বড় কোনও পরিবর্তন দেখা যাবে না।
11
12
তবে দিনের দৈর্ঘ্যের ক্ষেত্রে ধীরে ধীরে পরিবর্তন শুরু হবে। ২৩ সেপ্টেম্বরের পর থেকে উত্তর গোলার্ধে দিনের সময় ক্রমশ কমতে থাকবে এবং রাতের দৈর্ঘ্য বাড়বে। এই পরিবর্তন চলতে থাকবে ডিসেম্বরের শীতকালীন অয়নান্ত পর্যন্ত। তখন উত্তর গোলার্ধে বছরের সবচেয়ে ছোট দিন এবং দীর্ঘতম রাত দেখা যায়।
12
12
অর্থাৎ, শরৎ বিষুব কোনও আকস্মিক আবহাওয়াগত পরিবর্তনের ঘটনা নয়। বরং এটি পৃথিবীর বার্ষিক জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক চক্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ বাঁক, যার পর থেকেই ভারতে ধীরে ধীরে ছোট হতে থাকবে দিনের দৈর্ঘ্য।