শচীন তেণ্ডুলকরের ক্রিকেটজীবনের ২০ বছর পূর্তি উদ্যাপনের সময় নিজের পুরনো দিনের কথাও মনে পড়েছিল প্রাক্তন ক্রিকেটার সলিল আঙ্কোলার। তাঁর স্মৃতিচারণে উঠে এসেছিল কিশোর সচিনের এমন এক ঘটনা, যা পরবর্তীকালে ক্রিকেটমহলে প্রায় কিংবদন্তির গল্প হয়ে যায়।
2
9
শচীন তখনই তারকা। রঞ্জি ট্রফিতে অভিষেক ম্যাচেই সেঞ্চুরি করে নিজের প্রতিভার জানান দিয়ে ফেলেছিলেন। অন্যদিকে মহারাষ্ট্রের হয়ে কয়েকটি উইকেট নিয়ে নজর কেড়েছিলেন আঙ্কোলাও। দু’জনের দল আলাদা হলেও ক্রিকেটের সূত্রেই প্রথম পরিচয়।
3
9
আঙ্কোলা লিখেছিলেন, সচিনকে নিয়ে অনেক কথা শুনেছিলেন। তাই তাঁর সঙ্গে দেখা করার আগ্রহ ছিল। শেষ পর্যন্ত ঔরঙ্গাবাদের একটি ম্যাচে তাঁদের দেখা হয়। প্রথম দেখাতেই শচীনের শান্ত স্বভাব এবং ব্যাট হাতে দৃঢ়তা তাঁকে মুগ্ধ করেছিল। এরপর অনূর্ধ্ব-২২ দলের হয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরেও তাঁরা একসঙ্গে যান।
4
9
তবে দু’জনের বন্ধুত্ব আরও গভীর হয় একটি প্রশিক্ষণ শিবিরে। প্রায় এক মাস একসঙ্গে থাকার সময় তাঁরা আবিষ্কার করেন, ক্রিকেটের পাশাপাশি তাঁদের আর একটি মিল রয়েছে। আর তা হল ভাল খাবারের প্রতি ভালবাসা। মাঠের বাইরে কয়েকজন মিলে তাঁদের আড্ডার অন্যতম বিষয় হয়ে উঠত খাবার। শচীনের বিশেষ পছন্দ ছিল ভাজা বোম্বিল মাছ।
5
9
তবে শচীনের একাগ্রতার আসল পরিচয় পেয়েছিলেন আঙ্কোলা ১৯৮৯ সালের পাকিস্তান সফরে। সেটিই ছিল মাস্টার ব্লাস্টারের প্রথম পাকিস্তান সফর।
6
9
শিয়ালকোটে ভারতীয় দলের হোটেলে থাকার সময় এক রাতে ঘটে অদ্ভুত ঘটনা। নতুন কয়েকটি ব্যাট অর্ডার করেছিলেন কিশোর শচীন। পরের দিন সেই ব্যাটগুলি এসে পৌঁছনোর কথা। সেই ব্যাট নিয়েই নাকি এতটাই উত্তেজিত ও চিন্তিত ছিলেন তিনি যে মাঝরাতে ঘুমের মধ্যেই উঠে পড়েন।
7
9
চোখ তখনও বন্ধ। সেই অবস্থাতেই তিনি হাঁটতে হাঁটতে সতীর্থ মনিন্দর সিংয়ের ঘরে গিয়ে হাজির। তারপর ঘুমের মধ্যেই প্রশ্ন করেন, “আমার ব্যাটগুলো এসেছে? আমি তো অর্ডার করেছিলাম!”
8
9
ঘুমের মধ্যেই ব্যাটের খোঁজ করছেন সতীর্থরা! শেষ পর্যন্ত তরুণ শচীনকে আবার ঘুম পাড়িয়ে দেওয়া হয়। পরের দিন অবশ্য গোটা দলের কাছে ঘটনাটি হয়ে ওঠে হাসির বিষয়।
9
9
কিন্তু সময়ের সঙ্গে সেই ঘটনা আর নিছক মজার গল্প থাকেনি। আঙ্কোলার চোখে, ঘটনাটি যেন শচীনের ক্রিকেট-পাগলামি ও একাগ্রতারই প্রতীক হয়ে উঠেছিল।