বৃহস্পতিবার দিনের শুরুতেই দুর্বল অবস্থান নেয় ভারতীয় টাকা। মার্কিন ডলারের বিপরীতে টাকা ০.২% কমে ৯৪.০০৫০-তে দাঁড়ায়, যেখানে আগের দিনের ক্লোজিং ছিল ৯৩.৭৯৫০। এই পতনের মূল কারণ হিসেবে উঠে এসেছে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দামের তীব্র উত্থান, যা আবারও ১০০ ডলারের গণ্ডি পেরিয়েছে।
2
10
ক্রুড তেল প্রতি ব্যারেল ১০৩.৪২ ডলারে লেনদেন হচ্ছিল, যা ১.৪৮% বেশি। একই সময়ে ডাব্লুটিআই দাঁড়ায় ৯৪.৫৯ ডলারে, যা ১.৭৫% বৃদ্ধি নির্দেশ করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, তেলের এই ঊর্ধ্বগতি সরাসরি আমদানি নির্ভর ভারতের মতো দেশের মুদ্রার উপর চাপ সৃষ্টি করে।
3
10
বিশেষ করে হরমুজে চলা অস্থিরতা এবং ইরান-মার্কিন শান্তি আলোচনা স্থগিত হয়ে যাওয়ার কারণে সরবরাহে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এই জলপথটি বিশ্ব তেল সরবরাহের একটি গুরুত্বপূর্ণ রুট হওয়ায় এর যে কোনও ব্যাঘাত বাজারে বড় প্রভাব ফেলে।
4
10
বর্তমান পরিস্থিতি অনেকটাই ‘ব্রিঙ্কম্যানশিপ’-এর মতো, যেখানে উভয় পক্ষই নিজেদের অবস্থানে অনড়। ফলে প্রতিদিন এই সংকট দীর্ঘায়িত হলে সরবরাহ ঘাটতি ও মূল্যস্ফীতির ঝুঁকি বাড়ছে।
5
10
এদিকে, গত কয়েক সপ্তাহে টাকার যে সাময়িক শক্তি বৃদ্ধি দেখা গিয়েছিল, তা এখন অনেকটাই ম্লান। মার্চের শেষ এবং এপ্রিলের শুরুতে আরবিআই-এর বিভিন্ন পদক্ষেপ টাকাকে কিছুটা শক্তি জুগিয়েছিল। তবে বাজারের অংশগ্রহণকারীরা মনে করছেন, সেই ‘রিলিফ’ এখন কার্যত শেষ।
6
10
টাকা খুব দ্রুত ৯৪-এর স্তর ছাড়িয়ে যেতে পারে। ৯৫ থেকে ৯২.৫০-এ নামাটা ছিল স্বল্পমেয়াদি পুনরুদ্ধার, কিন্তু এখন তেলের দাম ১০০ ডলারের উপরে থাকায় সেই প্রবণতা বদলে গেছে।
7
10
বাজারে ডলারের চাহিদা বেড়ে যাওয়াও টাকার উপর চাপ বাড়াচ্ছে। বিশেষ করে তেল সংস্থাগুলির পক্ষ থেকে বড় অঙ্কের ডলার কেনার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। অন্যদিকে, বাজারে ডলারের সরবরাহ তুলনামূলক কম থাকায় পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে উঠছে।
8
10
যদিও আরবিআই গত কয়েকদিন ধরে ডলার বিক্রি করে বাজারে হস্তক্ষেপ করছে, তবুও তা টাকার পতন পুরোপুরি ঠেকাতে পারেনি। এই হস্তক্ষেপ পতনের গতি কিছুটা কমালেও সামগ্রিক নিম্নমুখী প্রবণতা রয়ে গেছে।
9
10
মার্কিন ডলার সূচক এখনও প্রায় ৯৮-এর কাছাকাছি স্থিতিশীল রয়েছে, এবং ইরান-আমেরিকা পরিস্থিতি নিয়ে অনিশ্চয়তা বাজারকে সতর্ক করে রাখছে। তাঁর মতে, স্বল্পমেয়াদে টাকা ৯৩.২৫ থেকে ৯৪.৫০-এর মধ্যে ওঠানামা করতে পারে।
10
10
সব মিলিয়ে, আন্তর্জাতিক তেলের দাম এবং রাজনৈতিক পরিস্থিতির উপরই এখন টাকার ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে। যতদিন না পরিস্থিতি স্থিতিশীল হচ্ছে, ততদিন ভারতীয় মুদ্রার উপর চাপ অব্যাহত থাকার সম্ভাবনাই বেশি।