ক্যানসারের ঝুঁকি কমাতে আজ থেকেই বদলান ৬ অভ্যাস, চিকিৎসকদের পরামর্শে নজরে রাখুন এই বিষয়গুলি
নিজস্ব সংবাদদাতা
২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১৪ : ১১
শেয়ার করুন
1
8
ক্যানসার নিয়ে আতঙ্কের অন্যতম কারণ হল, এই রোগের পিছনে একাধিক কারণ কাজ করে। জিনগত কারণ যেমন রয়েছে, তেমনই আমাদের দৈনন্দিন জীবনযাপন, খাবার, শরীরচর্চার অভ্যাস, তামাক বা অ্যালকোহল সেবন এবং কিছু সংক্রমণও ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। তবে সব ক্যানসার প্রতিরোধ করা সম্ভব নয়। কিন্তু জীবনযাত্রায় কিছু পরিবর্তন এনে বেশ কিছু ক্যানসারের ঝুঁকি কমানো যায়। তাই প্রতিদিনের জীবনে কয়েকটি সহজ অভ্যাসকে গুরুত্ব দেওয়া জরুরি।
2
8
তামাক থেকে দূরে থাকুন: সিগারেট, বিড়ি বা অন্যান্য তামাকজাত দ্রব্য ক্যানসারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ঝুঁকির কারণ। শুধু ধূমপান নয়, ধোঁয়াবিহীন তামাকও ক্ষতিকর। তামাকের ধোঁয়ায় থাকা বহু রাসায়নিক শরীরের কোষের ক্ষতি করতে পারে এবং দীর্ঘদিনের ব্যবহারে বিভিন্ন ধরনের ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ে। তাই ধূমপান না করাই সবচেয়ে নিরাপদ। যারা ধূমপান করেন, তাঁদের ক্ষেত্রে ছেড়ে দেওয়ার চেষ্টা করাও গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। শুধু নিজের ধূমপান নয়, অন্যের ধোঁয়ার সংস্পর্শও যতটা সম্ভব এড়িয়ে চলা উচিত।
3
8
ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখুন: অতিরিক্ত ওজন বা স্থূলতা শুধু ডায়াবেটিস কিংবা হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ায় না, কিছু ক্যানসারের সঙ্গেও এর সম্পর্ক রয়েছে। তাই দ্রুত ওজন কমানোর কোনও কঠিন ডায়েটের বদলে দীর্ঘমেয়াদে স্বাস্থ্যকর ওজন বজায় রাখার দিকে নজর দেওয়া বেশি জরুরি। এর জন্য খাবারের পরিমাণ ও গুণমানের দিকে নজর দেওয়ার পাশাপাশি নিয়মিত শারীরিক সক্রিয়তা প্রয়োজন।
4
8
প্রতিদিন শরীরচর্চার অভ্যাস করুন: সারাদিন বসে থাকা এবং শারীরিকভাবে নিষ্ক্রিয় জীবনযাপন স্বাস্থ্যের জন্য ভাল নয়। নিয়মিত শারীরিক সক্রিয়তা শরীরের ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে এবং ক্যানসারসহ একাধিক দীর্ঘমেয়াদি রোগের ঝুঁকি কমাতে ভূমিকা রাখতে পারে।জিমে যেতেই হবে এমন নয়। হাঁটা, সাইকেল চালানো, সাঁতার, নাচ কিংবা নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী অন্য কোনও শারীরিক কাজও দৈনন্দিন সক্রিয়তার অংশ হতে পারে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হল নিয়মিত নড়াচড়া করা এবং দীর্ঘ সময় একটানা বসে না থাকা।
5
8
বেশি ফল ও সবজি: প্রতিদিনের খাবারে বিভিন্ন ধরনের ফল, সবজি এবং অন্যান্য পুষ্টিকর খাবার রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়।অতিরিক্ত প্রক্রিয়াজাত খাবার, বেশি ক্যালরিযুক্ত খাবার এবং অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের বদলে ভারসাম্যপূর্ণ খাবারে গুরুত্ব দেওয়া উচিত। শুধু কোনও একটি ‘সুপারফুড’ খেলেই ক্যানসারের ঝুঁকি দূর হয়ে যায়—এমন বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই। বরং সামগ্রিক খাদ্যাভ্যাসই গুরুত্বপূর্ণ।
6
8
অ্যালকোহল যতটা সম্ভব এড়িয়ে চলুন: অ্যালকোহল সেবনের সঙ্গেও বিভিন্ন ধরনের ক্যানসারের ঝুঁকির সম্পর্ক পাওয়া গেছে। অনেকেই মনে করেন অল্প অ্যালকোহল নিয়মিত খেলেও কোনও সমস্যা নেই। কিন্তু ক্যানসারের ঝুঁকির দিক থেকে WHO অ্যালকোহল গ্রহণ কমানোর পরামর্শ দেয়।
7
8
প্রয়োজনীয় টিকা ও নিয়মিত পরীক্ষা ভুলবেন নাকিছু সংক্রমণ পরবর্তীকালে ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। যেমন Human papillomavirus বা HPV জরায়ুমুখের ক্যানসারের সঙ্গে যুক্ত। আবার হেপাটাইটিস বি, হেপাটাইটিস সি লিভার ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে HPV ও Hepatitis B-এর টিকা ক্যানসার-সৃষ্টিকারী সংক্রমণের বিরুদ্ধে সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
8
8
এর পাশাপাশি বয়স, লিঙ্গ, পারিবারিক ইতিহাস এবং ব্যক্তিগত ঝুঁকির উপর নির্ভর করে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ক্যানসার স্ক্রিনিং করানোও গুরুত্বপূর্ণ। কারণ কিছু ক্যানসার উপসর্গ দেখা দেওয়ার আগেই স্ক্রিনিংয়ের মাধ্যমে শনাক্ত করা সম্ভব। দ্রুত শনাক্ত হলে অনেক ক্যানসারের চিকিৎসার ফলও ভালো হতে পারে।