আগামী শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি মহাকাশে এক বিরল ও মহাজাগতিক দৃশ্যের সাক্ষী হতে যাচ্ছে বিশ্ব। এদিন আকাশজুড়ে সারিবদ্ধভাবে অবস্থান করবে সৌরজগতের ছয়টি গ্রহ, যাকে জ্যোতির্বিজ্ঞানের ভাষায় বলা হয় ‘প্ল্যানেট প্যারেড’ বা গ্রহের মহাবিন্যাস। জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের জন্য এটি একটি বিশেষ সুযোগ।
2
10
কী এই গ্রহের বিন্যাস? যখন সৌরজগতের একাধিক গ্রহ নিজ নিজ কক্ষপথে ঘোরার সময় পৃথিবীর সাপেক্ষে আকাশের একই অংশে বা কাছাকাছি অবস্থানে চলে আসে, তখন তাকে গ্রহের সারিবদ্ধকরণ বা 'প্ল্যানেট প্যারেড' বলা হয়।
3
10
যদিও গ্রহগুলো বাস্তবে একে অপরের থেকে কোটি কোটি মাইল দূরে থাকে, কিন্তু পৃথিবী থেকে আমাদের দেখার দৃষ্টিভঙ্গির কারণে মনে হয় তারা এক লাইনে বা একই গুচ্ছে রয়েছে।
4
10
কখন এবং কীভাবে দেখা যাবে? এই দৃশ্যটি দেখার সবচেয়ে উপযুক্ত সময় হল ২৮ ফেব্রুয়ারি সূর্যাস্তের ঠিক ৩০ থেকে ৬০ মিনিট পর। সন্ধ্যার আকাশে এই বিরল দৃশ্যটি উপভোগ করা যাবে।
5
10
এই দৃশ্যটি দেখার জন্য সবসময় দামি দূরবীন বা টেলিস্কোপের প্রয়োজন হবে না। খালি চোখেই এই মহাজাগতিক সৌন্দর্যের অনেকটা উপভোগ করা সম্ভব।
6
10
শহরের দূষণ এবং আলোকসজ্জা থেকে দূরে কোনও অন্ধকার ও খোলা জায়গায় গেলে দৃশ্যটি আরও স্পষ্টভাবে ধরা দেবে।
7
10
ভারত ও বাংলাদেশ থেকে দৃশ্যমানতা: এই ছয় গ্রহের বিন্যাসে বুধ, শুক্র, মঙ্গল, বৃহস্পতি, ইউরেনাস এবং নেপচুন অংশ নেবে। তবে খালি চোখে সবকটি গ্রহ দেখা যাবে না।
8
10
শুক্র সবচেয়ে উজ্জ্বল গ্রহ এবং খুব সহজেই একে চেনা যাবে। শুক্রের পাশাপাশি বৃহস্পতিকেও খুব স্পষ্টভাবে দেখা যাবে। অন্যান্য গ্রহের মধ্যে মঙ্গলকেও খালি চোখে দেখা সম্ভব হতে পারে। তবে ইউরেনাস, নেপচুন এবং বুধের অবস্থান ও উজ্জ্বলতার কারণে এগুলো খালি চোখে দেখা কঠিন হতে পারে। এই গ্রহগুলোকে স্পষ্টভাবে দেখার জন্য বাইনোকুলার বা টেলিস্কোপের সাহায্য প্রয়োজন হবে।
9
10
সতর্কতা ও প্রস্তুতি: ১. পরিষ্কার আকাশ: মেঘমুক্ত পরিষ্কার আকাশ এই দৃশ্য দেখার প্রধান শর্ত। ২. দূষণমুক্ত স্থান: শহরের ধোঁয়াশা এবং কৃত্রিম আলো থেকে দূরে কোনো গ্রাম বা ফাঁকা মাঠ দৃশ্যটি দেখার জন্য আদর্শ। ৩. আগে থেকে প্রস্তুতি: সূর্যাস্তের আগেই জায়গা নির্বাচন করে রাখা ভালো যাতে সময়ের অপচয় না হয়।
10
10
এই ধরনের মহাজাগতিক ঘটনা বেশ বিরল। বিশেষ করে যখন একসঙ্গে অনেকগুলো উজ্জ্বল গ্রহ আকাশের এক কোণে জড়ো হয়, তখন তা কেবল বিজ্ঞানীদের জন্য নয়, সাধারণ মানুষের কাছেও এক বিস্ময়কর অভিজ্ঞতা হয়ে দাঁড়ায়। তাই ২০২৬ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারির এই রাতটি ক্যালেন্ডারে দাগিয়ে রাখার মতো।