দীর্ঘ গলা-এই বৈশিষ্ট্যই গিরাফকে পৃথিবীর অন্য প্রাণীদের থেকে আলাদা করে তোলে। কিন্তু গিরাফের গলা এত লম্বা কেন, প্রশ্ন বহু পুরনো। দীর্ঘ বছর ধরে বিজ্ঞানীরা ভেবে এসেছেন এই লম্বা গলার রহস্য আসলে কী?
2
7
এতদিন পর্যন্ত প্রচলিত ধারণা ছিল, সঙ্গমের সময়ে পুরুষ গিরাফরা গলা দিয়ে পরস্পরকে আঘাত করে বা ধাক্কা দিয়ে নিজেদের শক্তি প্রমাণ করে। যাকে বলা হয় ‘নেক ফাইট’।শক্তিশালী গলা থাকলে সে প্রতিদ্বন্দ্বীকে হারিয়ে স্ত্রী গিরাফের মন জয় করতে পারে। তাই ধারণা ছিল, এই লড়াইয়ের কারণেই গলা লম্বা হয়েছে। কিন্তু সাম্প্রতিক এক গবেষণা এই ধারণায় বড়সড় পরিবর্তন এনেছে।
3
7
গবেষকরা দেখেছেন, গিরাফের স্ত্রী সদস্যদের গলা অনুপাতিকভাবে পুরুষদের চেয়ে বেশি লম্বা। এই তথ্য থেকে নতুন এক তত্ত্ব উঠে এসেছে, গলা লম্বা হওয়ার পেছনে আসলে খাবারের সন্ধানই প্রধান কারণ হতে পারে।
4
7
আফ্রিকার বিস্তীর্ণ তৃণভূমিতে যেখানে গিরাফরা বসবাস করে, সেখানে শুষ্ক মরশুমে নিচের দিকের গাছপালা শুকিয়ে যায় বা অন্য প্রাণীরা খেয়ে ফেলে। তখন গিরাফদের জন্য বেঁচে থাকার উপায় হল গাছের উঁচু শাখায় থাকা সতেজ পাতা পর্যন্ত পৌঁছে খাওয়া।
5
7
বিশেষ করে গর্ভবতী বা দুগ্ধদানকারী স্ত্রী গিরাফদের বেশি পুষ্টি ও শক্তি দরকার। গবেষকদের মতে, মহিলা গিরাফদের খাদ্যচাহিদা তুলনামূলকভাবে বেশি। তারা প্রজননকালীন সময়ে বা দুধ উৎপাদনের সময় অতিরিক্ত পুষ্টির প্রয়োজন অনুভব করে। এজন্য তারা গাছের সবচেয়ে উঁচু পাতায় পৌঁছে খাবার সংগ্রহ করে, যেসব পাতা অন্য প্রাণীরা সহজে পায় না। ফলে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তাদের গলা আরও লম্বা হতে থাকে। যা এক ধরনের খাদ্যনির্ভর অভিযোজন।
6
7
অন্যদিকে, পুরুষ গিরাফদের গলা হয়তো লম্বার তুলনায় বেশি মোটা ও শক্তিশালী হয়ে উঠেছে লড়াইয়ের প্রয়োজনে। অর্থাৎ, গলার দৈর্ঘ্যের জন্য দায়ী হতে পারে খাবারের খোঁজ, আর গলার পেশী ও কাঠামোর জন্য দায়ী যৌন প্রতিযোগিতা-দুইয়ের মধ্যে ভারসাম্যই তৈরি করেছে গিরাফ গঠন।
7
7
গবেষকরা সতর্ক করেছন, এই ফলাফল শুধু এক বৈজ্ঞানিক কৌতূহল নয়, সংরক্ষণের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ। যদি খাদ্য ও পরিবেশই গলার বিবর্তনের মূল কারণ হয় তবে গিরাফের আবাসস্থল নষ্ট হলে তাদের অস্তিত্বও হুমকির মুখে পড়বে।