বহু মানুষের সারাজীবনের উপার্জিত সঞ্চয় দিয়ে একটি বাড়ি বা ফ্ল্যাট কেনা অত্যন্ত আবেগপ্রবণ বিষয়। কেনার কাজ শেষ হলেই হাতে চলে আসে রেজিস্টার্ড দলিল। কিন্তু অনেকেই ভাবেন, এই দলিলটিই হয়তো সম্পত্তিটির মালিকানার শেষ কথা।
2
11
এদিকে আইনের বর্তমান নিয়ম কিন্তু ভিন্ন। শুধু দলিলের ভরসায় বসে থাকলে সম্পত্তির ওপর আপনার সম্পূর্ণ আইনি অধিকার নিশ্চিত হয় না।
3
11
নিজের ফ্ল্যাট বা বাড়ির ওপর আইনত অধিকার কায়েম করতে সরকারি রেকর্ড বা খতিয়ানে নাম তোলানো জরুরি। তার জন্য দৌড়তে হবে স্থানীয় পুরসভা বা পুরনিগমের দরজায়।
4
11
আইন মেনে ফ্ল্যাট কেনাবেচার পর ক্রেতা দলিল হাতে পেলেও পুরসভার রাজস্ব বিভাগের খাতায় অনেক সময়েই দেখা যায় পুরনো মালিকেরই নাম থেকে গিয়েছে। এই বৈষম্য মিটিয়ে নিজের নাম তুলতে গেলে নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে পুর কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করতে হবে।
5
11
একেই বলা হয় ‘মিউটেশন’। মিউটেশন হয়ে গেলে পুরসভা ও ভূমি রাজস্ব দপ্তরের নথিতে আনুষ্ঠানিকভাবে জায়গা পায় নতুন মালিকের নাম। ফলে প্রশাসনিক কিংবা আইনি স্তরেও তিনিই নতুন মালিক হিসেবে স্বীকৃতি পান।
6
11
অনেক জায়গায় এই মিউটেশন প্রক্রিয়াটি ‘দাখিল-খারিজ’ নামেও পরিচিত। এই পর্ব মিটলেই পুরসভা সংশ্লিষ্ট সম্পত্তির ওপর নতুন করে কর নির্ধারণ করতে পারে।
7
11
মিউটেশনের পর বাড়ির মালিককে প্রধানত দুটি জায়গায় কর দিতে হয়। জমি বাবদ কর জমা পড়ে ভূমি ও ভূমি রাজস্ব বিভাগে, আর ফ্ল্যাট বা বাড়ির নিজস্ব সম্পত্তি কর বা ‘প্রপার্টি ট্যাক্স’ যায় স্থানীয় পুরসভার ঘরে।
8
11
এমনিতে সম্পত্তি হস্তান্তরের এই আবেদন প্রক্রিয়া বেশ সহজ। একটি নির্দিষ্ট ফর্ম পূরণ করে তার সঙ্গে কোর্ট ফি স্ট্যাম্প সাঁটিয়ে জমা দিতে হয়। অঞ্চল ও সম্পত্তির ধরনভেদে ভূমি রাজস্ব বিভাগ কিছু বাড়তি নথিও চাইতে পারে, যা ঠিক করেন দপ্তরের কমিশনার পদমর্যাদার কর্তারা।
9
11
সাধারণত ১৫ থেকে ৩০ দিনের মধ্যেই গোটা আইনি প্রক্রিয়া মিটে যায়।
10
11
অনেক সময়েই দেখা যায়, জমির অতিরিক্ত ট্যাক্স মেটানো কিংবা ঝুটঝামেলা এড়াতে বাড়ির নতুন মালিকরা মিউটেশন করাতে চান না। কিন্তু প্রশাসনিক বিশেষজ্ঞদের সাফ কথা, আজ গাফিলতি করলে ভবিষ্যতে প্রপার্টি নিয়ে আইনি জটিলতা হতে পারে।
11
11
তাছাড়া জালিয়াতি ও প্রতারক চক্রের হাত থেকে নিজের সম্পত্তি বাঁচিয়ে রাখতে মিউটেশনের কাগজ অন্যতম বড় রক্ষা কবচ।