মধ্য এশিয়ার উত্তেজনা কমার ইঙ্গিত মিলতেই ভারতীয় শেয়ারবাজারে দেখা গেল জোরদার উত্থান। বুধবার সকালে বেঞ্চমার্ক সূচক সেনসেক্স এবং নিফটি প্রায় ৪ শতাংশ পর্যন্ত লাফিয়ে ওঠে। সেনসেক্স প্রায় ২,৮০০ পয়েন্ট বেড়ে দিনের সর্বোচ্চ ৭৭,৩৯২-এ পৌঁছায়, অন্যদিকে নিফটি ৫০ সূচক ৮০০ পয়েন্টের বেশি উঠে ২৩,৯৩৯ ছুঁয়ে ফেলে।
2
10
শুধু বড় শেয়ার নয়, মিডক্যাপ ও স্মলক্যাপ সেগমেন্টেও ৪ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি দেখা যায়, যা বাজারে বিস্তৃত ক্রয় প্রবণতার ইঙ্গিত দেয়। একই সঙ্গে বাজারের অস্থিরতা মাপার সূচক ১৯ শতাংশেরও বেশি কমে ২০-এর নিচে নেমে আসে—যা বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগ কমার ইঙ্গিত দেয়।
3
10
বাজারের এই দ্রুত উত্থানে কয়েক মিনিটের মধ্যেই বিনিয়োগকারীদের সম্পদ প্রায় ১৪ লাখ কোটি বেড়ে যায়। বিএসই-তে তালিকাভুক্ত সংস্থাগুলির মোট বাজারমূল্য ৪২৯ লাখ কোটি থেকে বেড়ে ৪৪৩ লাখ কোটিতে পৌঁছায়।
4
10
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ দুই সপ্তাহের জন্য স্থগিত রাখার ঘোষণা করেছেন। ইরানও এই প্রস্তাবে সম্মতি জানিয়েছে। ফলে পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধ পরিস্থিতি কমার সম্ভাবনায় বাজারে ইতিবাচক মনোভাব তৈরি হয়েছে। ইসলামাবাদে আলোচনার সম্ভাবনাও বিনিয়োগকারীদের আশাবাদী করে তুলেছে।
5
10
আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ১৪ শতাংশ কমে ব্যারেল প্রতি ৯৫ ডলারের নিচে নেমে এসেছে। তেলের দাম কমা ভারতের মতো আমদানিনির্ভর দেশের জন্য বড় স্বস্তি। এতে মুদ্রাস্ফীতি কমতে পারে, অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি বাড়তে পারে এবং শেয়ারবাজারে ইতিবাচক প্রভাব পড়ে।
6
10
ডলার সূচক ১ শতাংশের বেশি কমে যাওয়ায় ভারতীয় মুদ্রা শক্তিশালী হয়েছে। বুধবার সকালে টাকা ৫০ পয়সা বেড়ে ডলারের বিপরীতে ৯২.৫৬-এ পৌঁছায়। শক্তিশালী টাকা বিদেশি বিনিয়োগ বাড়াতে সাহায্য করে, যা বাজারকে আরও উঁচুতে নিয়ে যায়।
7
10
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধবিরতির ঘোষণার পর এশিয়ার অন্যান্য বাজারেও জোরদার উত্থান দেখা গেছে। জাপানের এবং দক্ষিণ কোরিয়ার সূচক ৬ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে। এই ইতিবাচক প্রবণতা ভারতীয় বাজারেও প্রভাব ফেলেছে।
8
10
বাজারের নজর এখন আরবিআই-এর মুদ্রানীতি বৈঠকের দিকে। আশা করা হচ্ছে, রেপো রেট ৫.২৫ শতাংশে অপরিবর্তিত রাখা হবে এবং নীতিগত অবস্থান ‘নিউট্রাল’ থাকবে। স্থিতিশীল সুদের হার বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়ায়।
9
10
যদিও বাজারে এখন আশা স্পষ্ট, বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন এই উত্থান পুরোপুরি স্থায়ী নাও হতে পারে। যুদ্ধবিরতি মাত্র দুই সপ্তাহের জন্য এবং চূড়ান্ত শান্তিচুক্তি এখনও অনিশ্চিত। তবুও আপাতত বাজারে ইতিবাচক প্রবণতা বজায় থাকার সম্ভাবনাই বেশি।
10
10
সব মিলিয়ে, রাজনৈতিক চাপ কমা, তেলের দামে পতন এবং বিশ্বের ইতিবাচক সংকেত—এই তিনের মিলিত প্রভাবে ভারতীয় শেয়ারবাজারে নতুন করে গতি ফিরে এসেছে।