পেশগত দক্ষতা বৃদ্ধির সুযোগ, এই সরকারি প্রকল্পে মিলবে ঋণ, প্রশিক্ষণ, কীভাবে আবেদন করবেন?
নিজস্ব সংবাদদাতা
২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১৪ : ৫৬
শেয়ার করুন
1
10
দেশের বহু মানুষ এখনও নিজেদের প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে চলে আসা পেশার উপর নির্ভর করে জীবিকা নির্বাহ করেন। কেউ কাঠের কাজ করেন, কেউ মাটির পাত্র তৈরি করেন, কেউ লোহার কাজ, আবার কেউ দর্জির কাজ করে সংসার চালান। এই সমস্ত ঐতিহ্যবাহী কারিগর ও শিল্পীদের আর্থিকভাবে স্বনির্ভর করে তুলতে কেন্দ্রীয় সরকারের গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ পিএম বিশ্বকর্মা প্রকল্প।
2
10
২০২৩ সালের সেপ্টেম্বর মাসে চালু হওয়া এই প্রকল্পের আওতায় কারিগরদের শুধু আর্থিক সাহায্যই নয়, দেওয়া হয় দক্ষতা বৃদ্ধির প্রশিক্ষণ, যন্ত্রপাতি কেনার সহায়তা, ঋণের সুবিধা। ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রকল্পের আওতায় ৩০ লক্ষ উপভোক্তা নথিভুক্ত করার সরকারি লক্ষ্য পূরণ হয়েছে।
3
10
এই প্রকল্পে মোট ১৮টি পেশা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছেন কাঠমিস্ত্রি, কামার, স্বর্ণকার, কুমোর, ভাস্কর, পাথর ভাঙার কাজের সঙ্গে যুক্ত কারিগর, মুচি, রাজমিস্ত্রি, তালাচাবি প্রস্তুতকারক, দর্জি, নাপিত এবং ধোপা।
4
10
এছাড়াও ঝুড়ি, মাদুর ও ঝাঁটা প্রস্তুতকারক এবং ঐতিহ্যবাহী মাছ ধরার জাল তৈরি করেন এমন কারিগররাও এই তালিকায় রয়েছেন। তবে প্রকল্পের সুবিধা পাওয়ার জন্য নির্দিষ্ট যোগ্যতা ও যাচাইয়ের শর্ত পূরণ করতে হবে।
5
10
এই প্রকল্পের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হল দক্ষতা বৃদ্ধির সুযোগ। উপভোক্তারা তাঁদের কাজের সঙ্গে সম্পর্কিত আধুনিক যন্ত্রপাতি, প্রযুক্তি, নকশা এবং ব্যবসা পরিচালনার পদ্ধতি সম্পর্কে প্রশিক্ষণ নিতে পারবেন।সাধারণত ৫ থেকে ৭ দিনের বেসিক ট্রেনিং এবং প্রয়োজন অনুযায়ী ১৫ দিন বা তার বেশি সময়ের অ্যাডভান্স ট্রেনিং-এর ব্যবস্থা রয়েছে।
6
10
প্রশিক্ষণ চলাকালীন উপভোক্তাদের প্রতিদিন ৫০০ টাকা করে স্টাইপেন্ড দেওয়ার ব্যবস্থাও রয়েছে। ডিজিটাল লেনদেন, বিপণন এবং ব্যবসা পরিচালনার বিষয়ও প্রশিক্ষণের অংশ।
7
10
অনেক কারিগরের ব্যবসার উন্নতির পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায় আধুনিক সরঞ্জামের অভাব। সেই সমস্যা দূর করতেও এই প্রকল্পে নিজের কাজের প্রয়োজন অনুযায়ী সরঞ্জাম কেনার সুবিধা আছে৷
8
10
কারিগরদের ব্যবসা বাড়ানোর জন্য প্রকল্পের অধীনে জামানত ছাড়া ঋণ সহায়তার ব্যবস্থাও রয়েছে। ব্যবসার জন্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম কেনা, উৎপাদন বাড়ানো বা পেশার সঙ্গে যুক্ত অন্যান্য প্রয়োজন মেটাতে এই ঋণ কাজে লাগানো যেতে পারে। তবে এটি সরাসরি নগদ অনুদান নয়; প্রকল্পের নির্ধারিত শর্ত মেনেই ঋণের সুবিধা পাওয়া যায়।
9
10
পাশাপাশি তাঁদের তৈরি পণ্য আরও বড় বাজারে পৌঁছে দেওয়ার জন্য সরকারি ই কমার্স প্ল্যাটফর্ম, মেলা ও প্রদর্শনীর মতো বিভিন্ন মাধ্যমে বাজার সংযোগ তৈরির উদ্যোগ রয়েছে।
10
10
অর্থাৎ, পিএম বিশ্বকর্মা প্রকল্প শুধুমাত্র কোনও আর্থিক সহায়তা প্রকল্প নয়। দক্ষতা বৃদ্ধি থেকে সরঞ্জাম, ঋণ, ডিজিটাল লেনদেন এবং বাজার—ঐতিহ্যবাহী কারিগরদের ব্যবসাকে আরও শক্তিশালী করার জন্য একাধিক সুবিধাকে একই কাঠামোর মধ্যে আনার লক্ষ্যেই এই প্রকল্প।