বিদ্যুতের বিলের খরচ ক্রমশ বৃদ্ধি পাওয়ায় সাধারণ মানুষের জীবন ক্রমশ দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। এই খরচের হাত থেকে বাঁচতে অনেকেই সৌরবিদ্যুতের দিকে ঝুঁকছেন।
2
15
এখানেই সুরাহা নিয়ে হাজির হয়েছে নরেন্দ্র মোদির সরকার। কেন্দ্রের প্রকল্পে বাড়িতে সোলার প্যানেল লাগালেই প্রতি মাসে ৩০০ ইউনিট ফ্রি বিদ্যুৎ পাবেন। আসুন জেনে নেওয়া যাক সেই প্রকল্পের বিষয়ে।
3
15
২০২৪ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ‘পিএম সূর্য ঘর মুফত বিজলি যোজনা’-র উদ্বোধন করেন। ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে কেন্দ্র এই প্রকল্পের জন্য ৭৫ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ করে। লক্ষ্য, দেশের একটি বাড়িকে আলোকিত করা।
4
15
কোনও পরিবার তাদের বাড়ির ছাদে একটি সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন করে, দিনের বেলায় নিজেরাই বিদ্যুৎ উৎপাদন করে দৈনন্দিন কাজে ব্যবহার করতে পারবে। এর ফলে প্রচলিচ বিদ্যুতে ব্যবহার কমবে।
5
15
এই প্রকল্পে উদ্বৃত্ত বিদ্যুৎ গ্রিডে ফেরত পাঠানো যায়, যার অর্থ, কোনও পরিবার তাদের অব্যবহৃত বিদ্যুৎ থেকেও আয় করতে পারবে। সরকারের লক্ষ্য হল, পরিবারের বিদ্যুৎ বিল কমানো, আয় বৃদ্ধি করা, পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তির ব্যবহার বাড়ানো এবং সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন খাতে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা।
6
15
কত টাকা ভর্তুকি পাবেন গ্রাহকরা? সৌরবিদ্যুৎ তৈরির ক্ষমতা, পরিবারটি কতটা বিদ্যুৎ ব্যবহার করছে তার উপর নির্ভর করে ভর্তুকির পরিমাণ নির্ধারণ করা হবে। যা একেবারে গ্রাহকের অ্যাকাউন্টে সরাসরি পাঠিয়ে দেবে কেন্দ্র।
7
15
যে সব পরিবার মাসে ১৫০ ইউনিট পর্যন্ত বিদ্যুৎ ব্যবহার করে, তাদের জন্য ১ থেকে ২ কিলোওয়াটের একটি প্ল্যান্ট উপযুক্ত। সেক্ষেত্রে ভর্তুকির পরিমাণ ৩০ হাজার থেকে ৬০ হাজার টাকা পর্যন্ত।
8
15
মাসে ১৫০ থেকে ৩০০ ইউনিট বিদ্যুৎ ব্যবহারে ২ থেকে ৩ কিলোওয়াটের প্ল্যান্ট আদর্শ। ভর্তুকির পরিমাণ ৬০ হাজার থেকে ৭৮ হাজার টাকা। যে সব পরিবার মাসে ৩০০ ইউনিটের বেশি বিদ্যুৎ ব্যবহার করে, তারা ৩ কিলোওয়াটের বেশি ক্ষমতার প্ল্যান্ট স্থাপন করতে পারবে। এক্ষেত্রে ভর্তুকির সর্বোচ্চ সীমা ৭৮ হাজার টাকা।
9
15
১ কিলোওয়াটের জন্য ভর্তুকি ৩০ হাজার টাকা, ২ কিলোওয়াটের জন্য ৬০ হাজার টাকা এবং ৩ কিলোওয়াট বা তার বেশি ক্ষমতার জন্য সর্বোচ্চ ৭৮ হাজার টাকা। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২ কিলোওয়াটের পর থেকে জন্য প্রতি কিলোওয়াটে ভর্তুকির হার কম।
10
15
যে সব পরিবার অগ্রিম বাকি টাকা মেটাতে পারে না, তারা সহজ শর্তে ব্যাঙ্ক ঋণ নিতে পারবে। এই প্রকল্পে সৌর প্যানেল স্থাপনের জন্য সুদের হার ৭ থেকে ৯ শতাংশের মধ্যে থাকে।
11
15
প্রকল্পে আবেদনের জন্য আবেদনকারীকে অবশ্যই ভারতের নাগরিক হতে হবে। বাড়ির ছাদে সোলার প্যানেল বসানোর জন্য পর্যাপ্ত জায়গা থাকতে হবে। পরিবারের নামে বৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ থাকতে হবে। পরিবার যদি সোলার প্যানেলের জন্য সরকারের কাছ থেকে আগে অন্য কোনও ভর্তুকি পেয়ে থাকলে তাহলে আবেদন বৈধ বলে গৃহীত হবে না।
12
15
নতুন ও পুনর্নবীকরণ শক্তি মন্ত্রক এই প্রকল্পের দেখাশোনা করে। কেন্দ্রের পোর্টালে গিয়ে রাজ্য বিদ্যুৎ সংস্থার নাম নির্বাচন করে লগ ইন করে সোলার প্যানেল ইনস্টলেশনের জন্য আবেদন করতে হবে। আবেদন মঞ্জুর হলে বিদ্যুৎ বন্টন সংস্থার দ্বারা (ডিসকম) নির্বাচিত ভেন্ডরের মাধ্যমে সোলার প্ল্যান্ট ইনস্টল করা যাবে।
13
15
ইনস্টলেশনের পর, পোর্টালে প্ল্যান্টের বিবরণ জমা দিন এবং একটি নেট মিটারের জন্য আবেদন করুন। যা গ্রিড থেকে আপনার নেওয়া বিদ্যুৎ এবং ফেরত পাঠানো উদ্বৃত্ত বিদ্যুতের হিসাব রাখে। ডিসকম নেট মিটার ইনস্টল ও পরিদর্শন করে গেলে, পোর্টালের মাধ্যমে কমিশনিং সার্টিফিকেট তৈরি হয়।
14
15
সবশেষে, একটি বাতিল চেকসহ আপনার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের বিবরণ আপলোড করুন। কমিশনিং রিপোর্টের ৩০ দিনের মধ্যে ভর্তুকির টাকা আপনার অ্যাকাউন্টে জমা হয়ে যায়।
15
15
আবেদন করার আগে পরিচয়পত্র, ঠিকানার প্রমাণপত্র, সাম্প্রতিক বিদ্যুৎ বিল এবং ছাদের মালিকানার শংসাপত্র। স্ক্যান করা কপি হাতে থাকলে অনলাইন ফর্ম পূরণ করতে অনেক সুবিধা হবে।