আজকাল ওয়েবডেস্ক: প্রশাসনিক প্রধান হিসাবে কাটিয়েছেন ২৫ বছর। আজই সেই মেয়াদপূর্তির দিন। নিজের দীর্ঘমেয়াদি শাসনকালের মাইলফলক ছুঁয়েই দেশের উন্নয়ন ও প্রগতির উদ্দেশ্যে নতুন উন্মাদনা তৈরি করেন প্রধানমন্ত্রী মোদি। বুধবার নয়াদিল্লির ইন্দিরা গান্ধী ইন্ডোর স্টেডিয়ামে এক জনসমাবেশের ভাষণে দেশকে এক নতুন বার্তা দেন— 'উই উইল ডু ইট' (আমরাই করব)। সেই উদ্দেশ্যেই দেশের নাগরিকদের সামনে পাঁচটি বড় লক্ষ্যও বেঁধে দেন প্রধানমন্ত্রী।
2
7
ঠিক ২৫ বছর আগে, ২০০১ সালের ৭ অক্টোবর গুজরাটের ১৪তম মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে প্রথমবার শপথ গ্রহণ করেন নরেন্দ্র মোদি। পরবর্তীতে ২০১৪ সাল থেকে ছিলেন দেশের প্রধানমন্ত্রীর পদে। বুধবার নিজের রাজনৈতিক জীবনের এই রজতজয়ন্তী উদযাপনকে কেবল স্মৃতিচারণে সীমাবদ্ধ রাখেননি তিনি। দেশের ভবিষ্যৎ সংকল্প নিয়েও নয়া সঙ্কল্পের কথাও জানিয়ে দেন।
3
7
সভামঞ্চ থেকে মোদী বলেন, "আজকের দিনটি শুধুই স্মৃতির নয়, আজ আমাদের নতুন শক্তিতে সংকল্পবদ্ধ হওয়ার দিন। আজকের দিনে দাঁড়িয়ে আবার সেই প্রতিজ্ঞা করার সময় এসেছে— উই উইল ডু ইট! উই উইল ডু ইট!"
4
7
এদিন সভামঞ্চ থেকে বিকশিত ভারত গড়ার লক্ষ্যের কথা ফের একবার মনে করিয়ে দেন তিনি। ২০৪৭ সালের মধ্যে দেশকে উন্নত করার লক্ষ্যে দূরদর্শী পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন তিনি। এ জন্য পাঁচটি লক্ষ্য নির্ধারণ করেন তিনি। বলেন- ১. বিশ্বের শীর্ষ তিন অর্থনীতির তালিকায় স্থান করে নেওয়া।২. আত্মনির্ভর ভারত গঠন করা। ৩. ভারতকে বিশ্বের প্রধান ম্যানুফ্যাকচারিং হাব বা উৎপাদন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা। ৪. অলিম্পিক গেমসের আয়োজন করা।৫. মহাকাশে মানুষের পা নিজস্ব উপস্থিতি সুদৃঢ় করা।
5
7
পাশাপাশি, করোনা মহামারি, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ এবং মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক অস্থিরতায় বিশ্বব্যাপী সরবরাহ শৃঙ্খল ব্যাহত হওয়া সত্ত্বেও ভারতের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার কথাও সভামঞ্চ থেকে মনে করিয়ে দেন মোদি। বলেন, "আগে সামান্য সঙ্কটে ভারতের অর্থনীতি কেঁপে উঠত। আর আজ আন্তর্জাতিক সঙ্কটের মুখেও বিশ্বমঞ্চে ভারতের শক্তির চর্চা হয়। অতীতে নীতিগত পক্ষাঘাত নিয়ে আলোচনা হতো, আজ আলোচনা হয় 'রিফর্মস এক্সপ্রেস' নিয়ে।"
6
7
এ ছাড়াও প্রধানমন্ত্রী বলেন, "আজ আমরা নিজেরাই আমাদের ভাগ্যের নির্মাতা। তাই ভারতের মতো বিশাল দেশের জন্য ছোট বা সহজ লক্ষ্য স্থির করা ভারতমাতার সঙ্গে অবিচার হবে। এটাই আমাদের সময়, যখন একটি জাতি হিসেবে আমাদের আরও বড় লক্ষ্য নির্ধারণ করতে হবে।"
7
7
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক একাধিক রাজনৈতিক বিতর্ক ও বিরোধীদের আন্দোলনের মুখে দাঁড়িয়ে প্রধানমন্ত্রীর এই ভাষণ বিজেপির কর্মী-সমর্থকদের নতুন করে চাঙ্গা করবে বলেই মনে করা হচ্ছে।