দুর্গাপুজোর আগে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের কাছে নবরাত্রি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি সময়। টানা ৯ দিন ধরে দেবী দুর্গার বিভিন্ন রূপের পুজো করা হয়। অনেকেই এই সময়ে উপবাস বা ব্রত পালন করেন। কেউ টানা ৯ দিন উপবাস করেন, আবার কেউ প্রথম ও শেষ দিন বা নির্দিষ্ট কয়েকটি দিনে ব্রত রাখেন। তবে উপবাস মানেই একেবারে না খেয়ে থাকা নয়। বরং নবরাত্রির ব্রতে নির্দিষ্ট কিছু খাবার খাওয়ার রীতি রয়েছে।
2
13
২০২৬ সালে শারদীয়া নবরাত্রি শুরু হবে ১১ অক্টোবর, চলবে ১৯ অক্টোবর পর্যন্ত। ২০ অক্টোবর পালিত হবে বিজয়া দশমী। নবরাত্রির উপবাসে সাধারণত চাল, গম, ডাল, পেঁয়াজ, রসুনের মতো বেশ কিছু খাবার এড়িয়ে চলা হয়। পরিবর্তে কুট্টু, সিংহাড়া, রাজগিরা, সামা চাল, সাবুদানা, ফল, দুধ, দই, মাখানা ইত্যাদি খাওয়া হয়। তবে অঞ্চল ও পরিবারভেদে নিয়মে কিছুটা পার্থক্য থাকতে পারে।
3
13
নবরাত্রির উপবাসে কী কী খেতে পারেন?কুট্টুর আটা: নবরাত্রির উপবাসে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত উপকরণগুলির মধ্যে রয়েছে কুট্টুর আটা। এটি দিয়ে রুটি, পুরি বা অন্যান্য পদ তৈরি করা যায়। সাধারণ গমের আটার পরিবর্তে এই আটা ব্যবহার করেন অনেকে।
4
13
সামা চাল: সামা বা সামক চাল সাধারণ চালের বিকল্প হিসেবে ব্যবহৃত হয়। এই চাল দিয়ে খিচুড়ি তৈরি করা যায়। সাবুদানা: নবরাত্রির ব্রতের অন্যতম জনপ্রিয় খাবার সাবুদানা। সাবুদানা খিচুড়ি, সাবুদানা বড়া বা বিভিন্ন পদ তৈরি করা হয়। তবে অতিরিক্ত তেলে ভাজা খাবারের বদলে কম তেলে রান্না করা সাবুদানা খিচুড়ি তুলনামূলক ভাল বিকল্প হতে পারে।
5
13
নবরাত্রির উপোসে আপেল, কলা, পেয়ারা, পেঁপে, কমলালেবু, ডালিমের মতো ফল রাখতে পারেন খাদ্যতালিকায়। ফল শরীরে প্রয়োজনীয় কিছু পুষ্টি জোগানোর পাশাপাশি দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা রাখতেও সাহায্য করতে পারে।ডাবের জলও উপবাসের সময়ে ভাল বিকল্প হতে পারে। দীর্ঘক্ষণ না খেয়ে থাকলে শরীরে জলের ঘাটতি হতে পারে। তাই পর্যাপ্ত জল এবং তরল খাবার খাওয়ার দিকে নজর দেওয়া জরুরি।
6
13
নবরাত্রির ব্রতে দুধ, দই, ছানা বা পনিরের মতো দুগ্ধজাত খাবার অনেক পরিবারেই খাওয়া হয়। এগুলি খাবারে প্রোটিন যোগ করতে পারে। মাখানা দিয়েও নবরাত্রির জন্য বিভিন্ন পদ তৈরি করা যায়। হালকা করে ভেজে মাখানা খাওয়া যায়, আবার মাখানার ক্ষীরও তৈরি করা হয়।
7
13
আলু নবরাত্রির উপবাসে বহুল ব্যবহৃত একটি সবজি। এছাড়াও মিষ্টি আলু, কুমড়ো, লাউ, শসা, কাঁচা কলা, টমেটোর মতো কিছু সবজি বিভিন্ন পরিবারে উপবাসের খাবার হিসেবে খাওয়া হয়।তবে সব পরিবারের নিয়ম এক নয়। যেমন পালং, গাজর বা বিনসের মতো কিছু সবজি কোনও কোনও পরিবারে খাওয়া হলেও কড়া উপবাসের নিয়মে সেগুলি বাদ দেওয়া হয়। তাই নিজের পারিবারিক রীতি মেনে চলাই ভালো।
8
13
নবরাত্রির ব্রতে সাধারণ খাবার নুনের পরিবর্তে সৈন্ধব নুন বা রক সল্ট ব্যবহারের রীতি রয়েছে। উপবাসের খাবারে এটি ব্যবহার করেন বহু মানুষ। তবে বাজার থেকে কেনা প্যাকেটজাত উপবাসের খাবারে কী কী উপাদান রয়েছে, তা দেখে নেওয়া উচিত। কারণ অনেক প্রক্রিয়াজাত খাবারে এমন উপাদান থাকতে পারে, যা আপনার উপবাসের নিয়মের সঙ্গে মেলে না।
9
13
নবরাত্রির প্রচলিত উপবাসে সাধারণত চাল, গম এবং অন্যান্য শস্য এড়িয়ে চলা হয়। পেঁয়াজ, রসুন, আমিষ খাবার, অ্যালকোহল, অতিরিক্ত প্রক্রিয়াজাত খাবার খাওয়া এড়িয়ে চলতে হয়৷
10
13
নবরাত্রির সময়ে কুট্টুর পুরি, সাবুদানা বড়া, আলুর পদ কিংবা নানা ধরনের ভাজা খাবার খাওয়ার প্রবণতা রয়েছে। কিন্তু দিনের পর দিন বেশি তেল-মশলাযুক্ত খাবার খেলে হজমের সমস্যা হতে পারে। তাই খাবার রান্নার ক্ষেত্রে সেদ্ধ, ভাপানো, রোস্ট বা কম তেলে রান্না করা পদ্ধতিকে অগ্রাধিকার দেওয়া যেতে পারে। অতিরিক্ত ভাজাভুজি এড়িয়ে চলাই ভাল।
11
13
ব্রত রাখার সময় অনেকেই খাবারের দিকে নজর দিলেও পর্যাপ্ত জল খান না। এটি শরীরে জলের ঘাটতি তৈরি করতে পারে। তাই উপবাসের নিয়মে জল খাওয়ার অনুমতি থাকলে পর্যাপ্ত জল পান করা জরুরি।জলের পাশাপাশি ডাবের জল, দুধ, দই বা উপযুক্ত তরল খাবারও নেওয়া যেতে পারে। তবে যাঁরা কঠোর উপবাস বা নির্জলা ব্রত পালন করেন, তাঁদের ক্ষেত্রে পারিবারিক ধর্মীয় নিয়ম আলাদা হতে পারে।
12
13
দীর্ঘক্ষণ না খেয়ে থাকার পর একসঙ্গে প্রচুর খাবার খাওয়া ঠিক নয়। বিশেষ করে সন্ধ্যায় উপবাস ভাঙার পর খুব বেশি ভাজাভুজি বা মিষ্টি খাওয়ার বদলে হালকা খাবার দিয়ে শুরু করা যেতে পারে। স্বাস্থ্যকর উপবাসের ক্ষেত্রেও এই বিষয়টির উপর জোর দেওয়া হয়।
13
13
উপবাসের উদ্দেশ্য শরীরকে কষ্ট দেওয়া নয়; ভক্তি, সংযম ও আত্মনিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে দেবীর আরাধনা করাই এর মূল ভাবনা। অর্থাৎ নবরাত্রির ৯ দিনে খাবারের ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, সাত্ত্বিক, পরিমিত ও সহজপাচ্য খাবার বেছে নেওয়া এবং নিজের পারিবারিক রীতি মেনে ব্রত পালন করা।