লটারির টিকিট কেটে কোটিপতি হওয়ার স্বপ্ন অনেকেই দেখেন, তবে সেই স্বপ্ন সত্যি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে কোটি ভাগের এক ভাগ। কিন্তু ভাবুন তো, যদি কেউ একবার-দু’বার নয়, টানা ১৪ বার লটারি জিতে নেন, তা-ও আবার ভাগ্যের ভরসায় নয়—একেবারে সাধারণ গণিতের অঙ্কে ভর করে!
2
10
শুনতে সিনেমার চিত্রনাট্য মনে হলেও, রোমানিয়ার বংশোদ্ভূত অর্থনীতিবিদ ও গণিতবিদ স্টেফান ম্যান্ডেল ঠিক এই অবিশ্বাস্য কাণ্ডটিই ঘটিয়ে দেখিয়েছিলেন গোটা বিশ্বকে।
3
10
ষাট ও সত্তরের দশকে চরম কমিউনিস্ট শাসনের অধীনে রোমানিয়ায় তখন টিকে থাকাই ছিল লড়াই। পরিবারের নিরাপত্তা ও দেশ ছাড়ার স্বপ্ন নিয়ে ম্যান্ডেল হাত দেন এক জটিল সমীকরণে। তিনি লক্ষ্য করেন, লটারি নিছক ভাগ্যের খেলা হলেও এটি মূলত একটি গাণিতিক সম্ভাবনার বিষয়।
4
10
যদি কোনও লটারির জ্যাকপটের অর্থমূল্য সমস্ত সম্ভাব্য সংখ্যার সংমিশ্রণের মোট টিকিট কেনার খরচের চেয়ে তিন গুণেরও বেশি হয়, তবে গাণিতিকভাবে লাভ নিশ্চিত।
5
10
তিনি একটি বিশেষ অ্যালগরিদম তৈরি করেন এবং বন্ধুদের সাহায্যে প্রথম প্রচেষ্টাতেই রোমানিয়ায় প্রথম পুরস্কার জিতে দেশ ছেড়ে অস্ট্রেলিয়ায় পাড়ি জমান।
6
10
অস্ট্রেলিয়া এবং পরবর্তীতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া লটারিতে ম্যান্ডেল এই কৌশলকে এক বিশাল ব্যবসায়িক মডেলে পরিণত করেন। তিনি সম্ভাব্য লক্ষ লক্ষ সংখ্যার সমন্বয় তৈরি করতে কম্পিউটার ও প্রিন্টার ব্যবহার করতেন এবং বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহ করে নির্দিষ্ট দোকানের সব টিকিট পাইকারি হারে কিনে নিতেন।
7
10
ভার্জিনিয়ার এক বিশেষ লটারিতে প্রায় ৭০ লক্ষ সংখ্যার সংমিশ্রণ ছিল, যেখানে জ্যাকপটের অঙ্ক দাঁড়িয়েছিল ২৭ মিলিয়ন ডলারে। ম্যান্ডেল ও তাঁর দল কয়েক দিনের মধ্যে সবকটি টিকিট কিনে নেন এবং প্রথম পুরস্কারের পাশাপাশি দ্বিতীয় ও তৃতীয় পুরস্কার বাবদ কোটি কোটি ডলার জিতে নেন।
8
10
তাঁর এই অভাবনীয় কৌশলে বিশ্বজুড়ে লটারি কর্তৃপক্ষ রীতিমতো নড়েচড়ে বসে। সিআইএ এবং এফবিআই দীর্ঘ তদন্ত চালিয়েও তাঁর পদ্ধতিতে কোনও জালিয়াতি বা বেআইনি বিষয় খুঁজে পায়নি, কারণ তিনি আইনের কোনও ফাঁক না ভেঙে শুধু ব্যবস্থার ভেতরকার গাণিতিক ফাঁকফোকর ব্যবহার করেছিলেন।
9
10
তবে তাঁর এই অবিস্মরণীয় সাফল্যের পর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও অস্ট্রেলিয়া লটারির নিয়মে বড়সড় বদল আনে—পাইকারি হারে টিকিট কেনা এবং বাড়িতে টিকিট প্রিন্ট করার ওপর জারি হয় কঠোর নিষেধাজ্ঞা।
10
10
বর্তমানে লটারির নিয়ম ও বিশাল সংখ্যার পরিধির কারণে এই কৌশল আর খাটানো সম্ভব নয়, কিন্তু ভাগ্যের চাকা নয়, স্রেফ মাথা খাটিয়ে যে গোটা বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দেওয়া যায়, স্টেফান ম্যান্ডেলের এই গল্প আজও তার এক অবিস্মরণীয় প্রমাণ।