মোদি মেতেছেন 'ভজন ক্লাবিংয়ে', নতুন এই ট্রেন্ড কী জানেন? কেন জনপ্রিয়
নিজস্ব সংবাদদাতা
২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১১ : ০০
শেয়ার করুন
1
10
ক্লাবিং বলতেই সাধারণত চোখের সামনে ভেসে ওঠে জোরালো মিউজিক, ডিজে, নাচ আর পার্টির পরিবেশ। কিন্তু সেই চেনা ছবিটাই এখন বদলাচ্ছে। কারণ আধুনিক মিউজিকের সঙ্গে মিশে যাচ্ছে ভজন, কীর্তন ও আধ্যাত্মিক সঙ্গীত। আর এই নতুন ট্রেন্ডের নাম দেওয়া হয়েছে ভজন ক্লাবিং ‘Bhajan Clubbing’।
2
10
দিল্লি, মুম্বই, বেঙ্গালুরু, কলকাতা-সহ একাধিক শহরে তরুণদের মধ্যে এই ধরনের অনুষ্ঠানের জনপ্রিয়তা বাড়ছে। সম্প্রতি এই ট্রেন্ড আরও আলোচনায় এসেছে দিল্লিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর একটি ভজন ক্লাবিং ‘Bhajan Clubbing’ অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার পর।
3
10
২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, দীনদয়াল উপাধ্যায়ের ১১০তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে বিজেপির সদর দফতরের বিপরীতে একটি পার্কে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ভজন ক্লাবিংয়ে যোগ দেন বলে জানা গিয়েছে সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে৷
4
10
ভজন ক্লাবিং কী? সহজ ভাষায় বললে, এটি ভজন বা কীর্তনের সঙ্গে আধুনিক কনসার্টের পরিবেশের মেলবন্ধন। এখানে পুরনো ভজন বা মন্ত্রের সঙ্গে যুক্ত হতে পারে ইলেকট্রনিক বিট, গিটার, ড্রাম, আলো এবং আধুনিক সাউন্ড প্রোডাকশন। ফলে মন্দির বা প্রচলিত ভজন সন্ধ্যার বদলে তৈরি হয় অনেকটা কনসার্টের মতো পরিবেশ।
5
10
তবে এখানে মূল আকর্ষণ কোনও সাধারণ পার্টি মিউজিক নয়। ‘হরে কৃষ্ণ’, ‘শ্রীকৃষ্ণ গোবিন্দ হরে মুরারি’, হনুমান চালিসা বা অন্যান্য ভক্তিগীতি নতুন মিউজিক অ্যারেঞ্জমেন্টে পরিবেশন করা হয়। দর্শকরাও শুধু বসে শোনেন না, তাল দেন, গান করেন, কখনও নাচেনও।
6
10
Bhajan Clubbing-এর সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হল এর অন্যরকম পরিবেশ। প্রচলিত ক্লাব সংস্কৃতির বদলে এখানে পাওয়া যায় গান, সমবেতভাবে গাওয়া এবং একটি আধ্যাত্মিক আবহ। অনেক আয়োজক ও শিল্পীর বক্তব্য, তরুণ প্রজন্মের একটা অংশ এমন বিনোদন খুঁজছে যেখানে আনন্দের পাশাপাশি কমিউনিটি বা একসঙ্গে থাকার অনুভূতিও পাওয়া যায়।
7
10
এই কারণেই ১৮ থেকে ৩৫ বছর বয়সি শহুরে তরুণদের মধ্যে এর জনপ্রিয়তা বিশেষভাবে দেখা যাচ্ছে। তবে শুধু Gen Z নয়, বিভিন্ন বয়সের মানুষও এই ধরনের অনুষ্ঠানে অংশ নিচ্ছেন বলে বিভিন্ন রিপোর্টে উঠে এসেছে।
8
10
Bhajan Clubbing-এর আর একটি আলোচিত দিক হল এখানে অ্যালকোহল বা প্রচলিত পার্টি সংস্কৃতির বদলে সঙ্গীত ও সমবেত ভক্তিগানকেই আনন্দের কেন্দ্র করা হচ্ছে। তাই কোথাও কোথাও এই অভিজ্ঞতাকে সোবার হাই বলা হচ্ছে৷ একদিকে আধুনিক সাউন্ড ও কনসার্টের উত্তেজনা, অন্যদিকে বহু পুরনো ভক্তিগানের সঙ্গে সংযোগ, দুইয়ের মিশেলই এই নতুন ট্রেন্ডকে আলাদা করে তুলেছে।
9
10
কেউ মনে করছেন, আধুনিক প্রজন্মের কাছে ভক্তিগানকে নতুনভাবে পৌঁছে দেওয়ার এটি একটি উপায়। আবার সমালোচকদের একাংশের প্রশ্ন, ধর্মীয় সঙ্গীতকে কনসার্টের মতো উপস্থাপন করলে তার আধ্যাত্মিক গুরুত্ব কি কমে যায়? অর্থাৎ Bhajan Clubbing-কে ঘিরে যেমন আগ্রহ তৈরি হয়েছে, তেমনই ধর্মীয় অনুভূতি ও বাণিজ্যিক বিনোদনের সীমারেখা নিয়েও বিতর্ক রয়েছে।
10
10
তবে একটা বিষয় স্পষ্ট—ভজন ও কীর্তনকে ঘিরে তরুণ প্রজন্মের আগ্রহ নতুনভাবে সামনে এসেছে। মন্দিরের চেনা পরিবেশের বাইরে আধুনিক আলো, সাউন্ড, কনসার্টের আবহে ভক্তিগান শোনার এই প্রবণতা এখন ভারতের শহুরে সংস্কৃতির একটি আলোচিত অংশ হয়ে উঠেছে। আর প্রধানমন্ত্রী মোদীর সাম্প্রতিক অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের পর ‘Bhajan Clubbing’ নিয়ে আলোচনা আরও বেড়েছে।