প্রধানমন্ত্রী কিষান সম্মান নিধি প্রকল্পের ২,০০০ কিস্তির বদলে মোবাইলে মাত্র ১ পয়সা জমা পড়ার এসএমএস পেয়ে চরম বিভ্রান্তিতে পড়লেন মহারাষ্ট্রের এক কৃষক পরিবার। তবে পরে কৃষি দফতর জানায়, এটি শুধুই একটি প্রযুক্তিগত ত্রুটি। কৃষকের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে নির্ধারিত ২,০০০-ই সফলভাবে জমা হয়েছে।
2
11
ঘটনাটি মহারাষ্ট্রের ভান্ডারা জেলার জেভানালা গ্রামের ৬৫ বছর বয়সি কৃষক লক্ষ্মীবাইকে ঘিরে। চলতি সপ্তাহে তাঁর মোবাইলে একটি এসএমএস আসে, যেখানে দেখা যায় পিএম কিষাণ প্রকল্পের অধীনে তাঁর অ্যাকাউন্টে মাত্র ০.০১, অর্থাৎ ১ পয়সা জমা হয়েছে। এই বার্তা দেখেই উদ্বেগে পড়ে যায় গোটা পরিবার।
3
11
লক্ষ্মীবাইয়ের ছেলে খেমরাজ গিরেপুঞ্জে সংবাদমাধ্যমকে জানান, প্রথমে তাঁরা বিশ্বাসই করতে পারেননি যে সরকারের প্রতিশ্রুত ২,০০০-এর বদলে মাত্র ১ পয়সা এসেছে।
4
11
বিষয়টি তাঁদের আরও দুশ্চিন্তায় ফেলে, কারণ খরিফ মরসুমের চাষের জন্য বীজ, সার এবং অন্যান্য কৃষি সামগ্রী কেনার উদ্দেশ্যে তাঁরা এই অর্থের অপেক্ষায় ছিলেন।
5
11
উল্লেখ্য, প্রধানমন্ত্রী কিষান সম্মান নিধি প্রকল্পের আওতায় যোগ্য কৃষকদের বছরে মোট ৬,০০০ আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়। এই অর্থ বছরে তিনটি সমান কিস্তিতে, অর্থাৎ প্রতি চার মাস অন্তর ২,০০০ করে সরাসরি কৃষকদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পাঠানো হয়।
6
11
ঘটনার পর দ্রুত বিষয়টি খতিয়ে দেখে মহারাষ্ট্র কৃষি দফতর। ভান্ডারা জেলার কৃষি আধিকারিক সঙ্গীতা মানে জানান, কৃষকের মোবাইলে পৌঁছানো এসএমএস-এ একটি প্রযুক্তিগত ত্রুটির কারণে ভুল অঙ্ক দেখানো হয়েছে।
7
11
সরকারি রেকর্ড অনুযায়ী লক্ষ্মীবাইয়ের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে নির্ধারিত ২,০০০ সম্পূর্ণ সফলভাবে জমা পড়েছে এবং অর্থ স্থানান্তরে কোনও সমস্যা হয়নি।
8
11
কৃষি দফতরের বক্তব্য, সমস্যাটি শুধুমাত্র এসএমএস নোটিফিকেশনে সীমাবদ্ধ ছিল। অর্থ লেনদেনের প্রক্রিয়ায় কোনও ধরনের ত্রুটি ঘটেনি। ফলে উপভোক্তার প্রাপ্য অর্থ সম্পূর্ণভাবেই তাঁর অ্যাকাউন্টে পৌঁছে গেছে।
9
11
এই ঘটনা এমন এক সময় সামনে এসেছে, যখন মহারাষ্ট্রের অধিকাংশ কৃষক খরিফ মরসুমের চাষের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। এই সময় বীজ, সার এবং অন্যান্য কৃষি উপকরণ কেনার জন্য অনেক কৃষক এই প্রকল্পের অর্থের উপর নির্ভরশীল থাকেন। তাই টাকা জমা পড়েছে কি না, তা নিয়ে সামান্য বিভ্রান্তিও কৃষকদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করতে পারে।
10
11
বিশেষজ্ঞদের মতে, সরকারি আর্থিক সহায়তা সংক্রান্ত এসএমএস বা ডিজিটাল নোটিফিকেশনে এই ধরনের প্রযুক্তিগত ত্রুটি সাধারণ মানুষের মধ্যে অযথা আতঙ্ক ও বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে পারে। তাই সংশ্লিষ্ট দফতরগুলির উচিত এমন সমস্যার দ্রুত সমাধান করা এবং প্রয়োজনে উপভোক্তাদের স্পষ্টভাবে বিষয়টি জানানো।
11
11
যদিও এই ঘটনায় শেষ পর্যন্ত লক্ষ্মীবাই তাঁর প্রাপ্য ২,০০০ পেয়েছেন, তবুও এটি ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থায় নির্ভুল তথ্য প্রদানের গুরুত্বকে আরও একবার সামনে এনে দিল। কৃষকদের আস্থা বজায় রাখতে এবং সরকারি প্রকল্পের কার্যকারিতা নিশ্চিত করতে প্রযুক্তিগত ত্রুটি দ্রুত সংশোধন করা অত্যন্ত জরুরি।