পিতৃপক্ষে দান করুন এই ৭ জিনিস, পূর্বপুরুষের আশীর্বাদে জীবনে আসবে শান্তি সমৃদ্ধি, জেনে নিন নিয়ম
নিজস্ব সংবাদদাতা
২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১৭ : ২৩
শেয়ার করুন
1
10
পিতৃপক্ষ হিন্দু ধর্মে পূর্বপুরুষদের স্মরণ ও তাঁদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর বিশেষ সময়। এই সময়ে শ্রাদ্ধ, তর্পণ ও পিণ্ডদানের পাশাপাশি দান-পুণ্যেরও বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে বলে ধর্মীয় বিশ্বাস।
2
10
২০২৬ সালে ২৭ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হচ্ছে মূল পিতৃপক্ষ, চলবে ১০ অক্টোবর পর্যন্ত। তার আগে ২৬ সেপ্টেম্বর পালিত হবে পূর্ণিমা শ্রাদ্ধ। ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, পিতৃপক্ষে সামর্থ্য অনুযায়ী দান করলে পূর্বপুরুষদের প্রতি শ্রদ্ধা প্রকাশ করা হয়।
3
10
অন্নদান: অন্নদানকে হিন্দু ধর্মে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দান হিসেবে বিবেচনা করা হয়। পিতৃপক্ষে গম, চাল, যব, কালো ছোলা বা অন্যান্য প্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী দান করার রীতি রয়েছে। বিশ্বাস করা হয়, এতে সংসারে অন্নের অভাব থাকে না এবং সমৃদ্ধি বজায় থাকে।
4
10
কালো তিল: শ্রাদ্ধ, তর্পণ ও পিণ্ডদানের ক্ষেত্রে কালো তিলের বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে বলে ধর্মীয় গ্রন্থে উল্লেখ পাওয়া যায়। পিতৃপক্ষে কালো তিল দান করাকেও শুভ বলে মনে করা হয়। পূর্বপুরুষের সন্তুষ্টির জন্য এই দান করা হয় বলে ধর্মীয় বিশ্বাস।
5
10
গোদান বা গোসেবা: গরুকে ঘিরে হিন্দু ধর্মে বিশেষ ধর্মীয় বিশ্বাস রয়েছে। পিতৃপক্ষে গোদান সম্ভব না হলে গোশালায় গরুর খাবারের জন্য সবুজ ঘাস, গুড় বা খড় দান করার রীতিও রয়েছে। এটিকে পূর্বপুরুষের কল্যাণের সঙ্গে যুক্ত করা হয়।
6
10
বস্ত্রদান: পিতৃপক্ষে দরিদ্র বা ব্রাহ্মণকে ধুতি, কুর্তা, গামছা কিংবা চাদরের মতো বস্ত্র দান করার রীতি রয়েছে। ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, বস্ত্রদান করলে সম্মান, সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ুর আশীর্বাদ পাওয়া যায়।
7
10
ঘি ও গুড় দান: পিতৃপক্ষে ঘি ও গুড় দানকেও শুভ বলে মনে করা হয়। বিশেষ করে সংসারে অশান্তি বা আর্থিক সমস্যার সময়ে এই দানের কথা ধর্মীয় বিশ্বাসে উল্লেখ করা হয়। ধারণা করা হয়, এর মাধ্যমে পরিবারে শান্তি ও সম্পর্কের মাধুর্য বজায় থাকে।
8
10
রুপো বা সোনা দান: সামর্থ্য অনুযায়ী রুপো বা সোনা দান করতে পারেন৷ রুপোর সঙ্গে চন্দ্রের সম্পর্ক রয়েছে। তাই পিতৃপক্ষে এই ধরনের দানকে পূর্বপুরুষের শান্তি ও পারিবারিক কল্যাণের সঙ্গে যুক্ত করা হয়।
9
10
নুন দান: পিতৃপক্ষে নুন দান করারও একটি ধর্মীয় রীতি রয়েছে। জ্যোতিষ ও ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, নুন দান করলে নেতিবাচকতা দূর হয় এবং জীবনের নানা অশুভ প্রভাব থেকে মুক্তি পাওয়া যায় বলে মনে করা হয়।
10
10
পিতৃপক্ষে শ্রাদ্ধ ও দানের ক্ষেত্রে দুপুরের সময়কে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। বিশেষ করে কুতুপ কাল শ্রাদ্ধকর্মের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে ধর্মীয় মত রয়েছে। তবে নির্দিষ্ট সময় স্থানভেদে পরিবর্তিত হতে পারে। তাই শ্রাদ্ধ বা তর্পণের ক্ষেত্রে স্থানীয় পঞ্জিকা এবং পরিবারের প্রচলিত নিয়ম মেনে চলাই ভাল। পিতৃপক্ষের আচার-অনুষ্ঠান অঞ্চল, পরিবার ও সম্প্রদায়ভেদে কিছুটা আলাদা হতে পারে। তাই কোনও রীতি পালনের আগে নিজের পারিবারিক পরম্পরা ও স্থানীয় পঞ্জিকার নিয়মকে গুরুত্ব দেওয়া উচিত।