১৩ বছরেই বিয়ে! প্রথম রাতেই ছয়বার 'খেয়েও' মন না ভরায় সপ্তমবার চাইল 'বর'
নিজস্ব সংবাদদাতা
১৫ জানুয়ারি ২০২৬ ১২ : ৩৪
শেয়ার করুন
1
7
পাকিস্তানে ১৩ বছরের এক কিশোর ও ১২ বছরের এক কিশোরীর বিয়ে ঘিরে সামাজিক মাধ্যমে তীব্র বিতর্ক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। আইনত নিষিদ্ধ হওয়া সত্ত্বেও কীভাবে এমন একটি বিয়ে হল তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে পাকিস্তানে শিশুবিবাহের বাস্তবতা ও সরকারি নীতির কার্যকারিতা নিয়ে।
2
7
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ওই কিশোর ও কিশোরীর ‘বাত পাক্কি’ অর্থাৎ আনুষ্ঠানিক বাগদানের অনুষ্ঠান ইতিমধ্যেই সম্পন্ন হয়েছে। অনুষ্ঠানের দিন আনন্দের ঠেলায় ৭ প্লেট বিরিয়ানি খেয়ে সাফ করেও দিয়েছে বলে জানা যাচ্ছে ওই কিশোর। পাকিস্তানের বিনোদন ও সামাজিক মাধ্যমভিত্তিক সংবাদমাধ্যম 'Reviewit.pk' জানায়, দুই পরিবারের পক্ষ থেকেই বিষয়টি প্রকাশ্যে স্বীকার করা হয়েছে এবং উভয় পক্ষই বিয়েতে সম্মত। দুই সন্তানের মা-ই সংবাদমাধ্যমে কথা বলেছেন, যা পরিস্থিতিকে আরও চাঞ্চল্যকর করে তুলেছে।
3
7
আইন অনুযায়ী, পাকিস্তানে পুরুষের বিয়ের ন্যূনতম বয়স ১৮ বছর হলেও মহিলাদের ক্ষেত্রে তা এখনো ১৬ বছর। যদিও আন্তর্জাতিকভাবে ছেলে-মেয়ে নির্বিশেষে ১৮ বছরকেই ন্যূনতম বয়স হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়। সিন্ধু প্রদেশে ২০১৩ সালে ছেলে ও মেয়ে উভয়ের জন্য বিয়ের ন্যূনতম বয়স ১৮ বছর নির্ধারণ করে আইন পাস হলেও, তা এখনো দেশজুড়ে কার্যকর হয়নি। ফলে প্রাদেশিক আইন ও জাতীয় আইনের এই বৈপরীত্য শিশু বিবাহ বন্ধে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়ে আছে।
4
7
ঘটনার আরেকটি দিক সামাজিক মাধ্যমে আরও বেশি আলোচনার জন্ম দিয়েছে। জানা গেছে, ওই ১৩ বছরের কিশোর নাকি পরিবারকে স্পষ্ট জানিয়ে দেয় তাকে যদি বিয়ে করতে না দেওয়া হয়, তবে সে পড়াশোনা না। এই ‘আলটিমেটাম’-এর পরেই দুই পরিবার বিয়ের বিষয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেয় বলে অভিযোগ। শিশুর ভবিষ্যৎ শিক্ষার সঙ্গে এমন এক ভয়ংকর শর্ত জুড়ে দেওয়া কতটা দায়িত্বজ্ঞানহীন, তা নিয়েই প্রশ্ন তুলছেন অনেকেই।
5
7
কিশোরীর মা, যিনি নিজেও ১৬ বছর বয়সে বিয়ে করেছিলেন, সংবাদমাধ্যমে বলেন তিনি এতে কোনও অস্বাভাবিকতা দেখছেন না এবং নিজের অভিজ্ঞতার আলোকে মেয়ের বিয়েকে স্বাভাবিক বলেই মনে করেন। অন্যদিকে, কিশোরের মা যিনি নিজে ২৫ বছর বয়সে বিয়ে করেছিলেন তিনিও ছেলের ইচ্ছাকে সমর্থন জানিয়েছেন। এই বক্তব্যগুলো সামাজিক মাধ্যমে আরও ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে, কারণ অনেকের মতে, প্রজন্মগত অভিজ্ঞতা থেকেই যেখানে সচেতনতা আসার কথা, সেখানে উল্টো শিশুবিবাহকে স্বাভাবিক করে তোলার চেষ্টা চলছে।
6
7
সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রতিক্রিয়াগুলো ছিল তীব্র ও আবেগঘন। একজন ব্যবহারকারী লিখেছেন, “এটা আর সহ্য করার মতো নয়।” আরেকজন মন্তব্য করেন, “এনগেজমেন্ট হয়ে গেছে এই বাচ্চার বাবা নাকি খুব অসুস্থ এবং তার একমাত্র ছেলে সে। বাবার খুশির জন্য এইসব অনুষ্ঠান?” কেউ কেউ আবার পুরো ঘটনাকে সাজানো নাটক বলেও সন্দেহ করছেন। এক ব্যবহারকারীর মন্তব্য, “যদি সে পরে কনটেন্ট ক্রিয়েটর হয়ে যায়, তাহলে বুঝতে হবে সব কিছু আগেই পরিকল্পনা করা ছিল।”
7
7
এই ঘটনা আবারও সামনে এনে দিয়েছে পাকিস্তানে শিশুবিবাহের সামাজিক শিকড়, যেখানে আইন থাকলেও তার প্রয়োগ দুর্বল, আর পারিবারিক ও সামাজিক চাপ আইনের ঊর্ধ্বে উঠে যায়। শিশুদের শিক্ষা, মানসিক বিকাশ ও ভবিষ্যৎ জীবনকে বিপন্ন করে এমন সিদ্ধান্তের দায় কে নেবে এই প্রশ্নই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে।