অপারেশন সিঁদুরের এক বছর পর ভারত ও পাকিস্তান ভূপৃষ্ঠ থেকে শত শত কিলোমিটার উপরে একটি নীরব প্রতিযোগিতায় নেমেছে।
2
17
চীনের ব্যাপক সমর্থনে পাকিস্তান মহাকাশে নজরদারি ক্ষমতা দ্রুত প্রসারিত করেছে। মাত্র ১৬ মাসে ছ’টি উপগ্রহ উৎক্ষেপণ করেছে। ভারতে পর্যবেক্ষণে সক্ষম একটি উপগ্রহের সমষ্টি তৈরি করেছে।
3
17
১৯৬১ সালে মহাকাশ ও ঊর্ধ্ব বায়ুমণ্ডল গবেষণা কমিশন (সুপারকো) প্রতিষ্ঠার পর থেকে পাকিস্তান কয়েক দশকে মাত্র কয়েকটি স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ করেছিল।
4
17
২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের এপ্রিলের মধ্যে দেশটি অপটিক্যাল ইমেজিং, হাইপারস্পেকট্রাল এবং রিমোট-সেন্সিং প্ল্যাটফর্ম-সহ ছ’টি নতুন উপগ্রহ মোতায়েন করেছে।
5
17
পহেলগাঁও হামলা এবং ভারতের ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর আগেই এই উৎক্ষেপণগুলি শুরু হয়েছিল। বিশেষজ্ঞদের মত, শুধু উপগ্রহের সংখ্যাই নয়, বরং এগুলি কী করতে পারে, তা-ই তাৎপর্যপূর্ণ।
6
17
দ্য প্রিন্ট-এর প্রতিবেদন অনুসারে, এই উপগ্রহগুলির মধ্যে কয়েকটি উচ্চ-রেজোলিউশনের ছবি তুলতে, ভূমির পরিবর্তন শনাক্ত করতে, ছদ্মবেশী বস্তু শনাক্ত করতে এবং গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোর ওপর নিরন্তর নজরদারি চালাতে সক্ষম।
7
17
২০২৫ সালের অক্টোবরে উৎক্ষেপিত পাকিস্তানের হাইপারস্পেকট্রাল উপগ্রহ এইচএস-১ বিভিন্ন পদার্থের মধ্যে পার্থক্য করতে এবং এমন বস্তু শনাক্ত করতে পারে যা প্রচলিত অপটিক্যাল সেন্সরের চোখ এড়িয়ে যেতে পারে।
8
17
অন্যদিকে, পিআরএসসি-ইও২ এবং পিআরএসসি-ইও৩-এর মতো নতুন উপগ্রহগুলিতে উন্নত ইমেজিং এবং এআই-সহায়ক ডেটা প্রক্রিয়াকরণের ক্ষমতা রয়েছে।
9
17
এই অগ্রগতির অনেকটাই সম্ভব হয়েছে চীনের অবদানে। বেশ কয়েকটি উপগ্রহ চীনা রকেটে উৎক্ষেপণ করা হয়েছিল, আর বাকিগুলি পাকিস্তানি ও চীনা সংস্থাগুলির যৌথ উদ্যোগে তৈরি করা হয়েছে।
10
17
বিশ্লেষকরা মনে করেন, এই অংশীদারিত্ব শুধু উৎক্ষেপণ পরিষেবার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং এর মধ্যে প্রযুক্তি হস্তান্তর, স্যাটেলাইটের নকশা এবং তথ্য আদান-প্রদানের ব্যবস্থাও রয়েছে।
11
17
পিআরএসসি-ইও৩ ২০২৬ সালের এপ্রিলে উৎক্ষেপণ করা হয়েছিল। আমেরিকা-ভিত্তিক মহাকাশ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা COMSPOC-এর বিশ্লেষণে বলা হয়েছে যে, স্যাটেলাইটটিকে বিশ্বব্যাপী পর্যবেক্ষণের পরিবর্তে দক্ষিণ এশিয়ার উপর বারবার পর্যবেক্ষণের জন্য বিশেষভাবে উপযোগী একটি কক্ষপথে স্থাপন করা হয়েছে।
12
17
এই ধরনের কক্ষপথ পাকিস্তান এবং জম্মু ও কাশ্মীর-সহ উত্তর ভারতের উপর দিয়ে আরও ঘন ঘন যাতায়াতের সুযোগ করে দেয়। এটি দিয়ে সম্ভবত দিনে একাধিকবার পর্যবেক্ষণ সম্ভব।
13
17
মহাকাশ ও প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের যুক্তি, এই নজরদারি কাঠামো পাকিস্তানকে অঞ্চলজুড়ে সামরিক মোতায়েন, পরিকাঠামোগত উন্নয়ন এবং কৌশলগত কার্যকলাপের একটি অনেক বেশি সুস্পষ্ট চিত্র প্রদান করতে পারে।
14
17
চীনের নিজস্ব অত্যাধুনিক ভূ-পর্যবেক্ষণ নেটওয়ার্ক, যার মধ্যে ইয়াওগান ও গাউফেন স্যাটেলাইট সিরিজ অন্তর্ভুক্ত, তার সঙ্গে মিলিত হয়ে এই ব্যবস্থাটি ইসলামাবাদের গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহের ক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করতে পারে।
15
17
ভারতের কাছে এই সময়টি বেশ গুরুত্বপূর্ণ। গত দু’বছরে ইসরো বেশ কয়েকটি স্যাটেলাইট মিশনে বাধার সম্মুখীন হয়েছে। ভূ-পর্যবেক্ষণ এবং ন্যাভিগেশন কর্মসূচির ব্যর্থ হয়েছে।
16
17
কিছু বিশ্লেষক সতর্ক করেছেন যে, সামগ্রিকভাবে ভারত অনেক বেশি উন্নত মহাকাশ শক্তি হলেও, প্রতিবেশী দেশগুলির দ্রুত বিকশিত সামরিক-মহাকাশ সক্ষমতার সঙ্গে অবশ্যই তাল মিলিয়ে চলতে হবে।
17
17
ভবিষ্যতের সংঘাতগুলি কেবল মাটিতে মোতায়েন করা অস্ত্রের দ্বারাই নয়, বরং মহাকাশ থেকে কে তথ্য নিয়ন্ত্রণ করছে তার দ্বারাও নির্ধারিত হতে পারে। চীনের সহায়তায় মহাকাশে পাকিস্তানের উপস্থিতি প্রসারিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে দক্ষিণ এশিয়ায় আধিপত্যের প্রতিযোগিতা ক্রমশ মহাকাশের দিকে সরে যাচ্ছে।