আন্দামান উপকূলবর্তী অঞ্চলে আবারও প্রাকৃতিক গ্যাসের সন্ধান পেল রাষ্ট্রায়ত্ত তেল ও গ্যাস অনুসন্ধান সংস্থা অয়েল ইন্ডিয়া। সংস্থার তৃতীয় কূপ ‘বিজয়পুরম-৩’-এ গ্যাসের উপস্থিতি মিলেছে, যা আন্দামান অফশোর বেসিনকে ভারতের সম্ভাব্য নতুন জ্বালানি কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার আশাকে আরও জোরালো করেছে।
2
11
শুক্রবার শেয়ারবাজারে জমা দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, আন্দামান শ্যালো অফশোর ব্লকে অবস্থিত বিজয়পুরম-৩ কূপে প্রাকৃতিক গ্যাসের অস্তিত্ব ধরা পড়েছে। এটি এই ব্লকে ওআইএলের চলা অনুসন্ধান কর্মসূচির দ্বিতীয় হাইড্রোকার্বন আবিষ্কার।
3
11
সংস্থার প্রাথমিক মূল্যায়নে জানা গিয়েছে, কূপটিতে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে হাইড্রোকার্বন সঞ্চয়ের সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে ভবিষ্যতে আরও অনুসন্ধান ও মূল্যায়ন কার্যক্রমের ক্ষেত্রে নতুন উৎসাহ তৈরি হয়েছে।
4
11
বিজয়পুরম-৩ কূপটি আন্দামান দ্বীপপুঞ্জের পূর্ব উপকূল থেকে প্রায় ১৫ কিলোমিটার দূরে এবং ৩৫৫ মিটার গভীর সমুদ্রে অবস্থিত। ভারতের ওপেন অ্যাকরেজ লাইসেন্সিং পলিসির আওতায় এই কূপ খনন করা হয়েছে।
5
11
ওআইএল জানিয়েছে, ১,৯০০ মিটারেরও বেশি গভীরে অবস্থিত ইওসিন স্তরে পরীক্ষামূলক উৎপাদনের সময় ধারাবাহিক গ্যাস ফ্লেয়ারিং দেখা যায়, যা প্রাকৃতিক গ্যাসের উপস্থিতি নিশ্চিত করেছে। কূপে ছিদ্র করার পর দ্রুত চাপ বৃদ্ধি এবং গ্যাস উৎপাদন শুরু হওয়ায় বিজ্ঞানীরা নিশ্চিত হয়েছেন যে সেখানে একটি সক্রিয় হাইড্রোকার্বন সিস্টেম বিদ্যমান।
6
11
বর্তমানে গ্যাসের নমুনা সংগ্রহ করে তার রাসায়নিক গঠন ও তাপ নির্ধারণের কাজ চলছে। পাশাপাশি আইসোটোপ বিশ্লেষণের মাধ্যমে গ্যাসের উৎস সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জানার চেষ্টা করা হচ্ছে।
7
11
যদিও এই মুহূর্তে গ্যাসক্ষেত্রটির বাণিজ্যিক সম্ভাবনা নিশ্চিত করা যায়নি, তবুও বিশেষজ্ঞদের মতে এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আবিষ্কার। কারণ, এটি প্রমাণ করছে যে আন্দামান অফশোর বেসিনে তেল ও গ্যাস জমা হওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় ভূতাত্ত্বিক পরিবেশ বিদ্যমান।
8
11
এর আগে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে বিজয়পুরম-২ কূপেও প্রাকৃতিক গ্যাসের সন্ধান মিলেছিল। ফলে এখন পর্যন্ত খনন করা তিনটি অনুসন্ধানমূলক কূপের মধ্যে দু’টিতেই হাইড্রোকার্বনের উপস্থিতি পাওয়া গেল।
9
11
গত কয়েক বছরে আন্দামান অফশোর বেসিন আন্তর্জাতিক জ্বালানি মহলের নজর কেড়েছে। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার একাধিক সমৃদ্ধ গ্যাস ও তেলক্ষেত্রের সঙ্গে এই অঞ্চলের ভূতাত্ত্বিক বৈশিষ্ট্যের মিল থাকায় বিশেষজ্ঞরা এটিকে সম্ভাবনাময় এলাকা হিসেবে দেখছেন।
10
11
ওআইএল ইতিমধ্যে পুরনো দ্বিমাত্রিক সিসমিক তথ্য পুনর্বিশ্লেষণ করেছে এবং অতিরিক্ত ৬০০ বর্গকিলোমিটার ত্রিমাত্রিক সিসমিক তথ্য সংগ্রহ করেছে। বর্তমানে সেই তথ্যের বিশ্লেষণ চলছে। এর ফলাফলের ভিত্তিতে ভবিষ্যতে মূল্যায়নমূলক ড্রিলিং শুরু হবে, যা মজুদের আকার, গুণমান এবং বাণিজ্যিক লাভজনকতা নির্ধারণ করবে।
11
11
ভারতের জন্য এই আবিষ্কার অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ ভারত এখনও বিপুল পরিমাণ তেল ও গ্যাস আমদানির ওপর নির্ভরশীল। আন্দামান অঞ্চলে সফলভাবে গ্যাস উৎপাদন শুরু হলে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা বাড়বে এবং আমদানি নির্ভরতা কমাতে বড় ভূমিকা রাখতে পারে।