ঠাণ্ডা যুদ্ধের সেই পুরোনো আতঙ্ক আবার নতুন করে ফিরে আসছে বিশ্ব রাজনীতিতে। মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর সাম্প্রতিক এক গোপন রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, রাশিয়া মহাকাশে পরমাণু অস্ত্র মোতায়েন করে যেকোনও দেশের স্যাটেলাইট বা কৃত্রিম উপগ্রহ ধ্বংস করার প্রযুক্তি তৈরি করছে। আর এই খবর সামনে আসতেই ওয়াশিংটনে রীতিমতো শোরগোল পড়ে গেছে।
2
6
আমেরিকার প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের প্রশাসন প্রথম দিকে বিষয়টি কিছুটা চেপে রাখার চেষ্টা করলেও শেষ রক্ষা হয়নি। মার্কিন সংসদের নিম্নকক্ষে রিপাবলিকান দলের নেতা মাইক টার্নার আকস্মিকভাবে এই গোপন রিপোর্ট নিয়ে একটি অস্পষ্ট কিন্তু সতর্কবার্তা জারি করেন। তিনি একে ‘জাতীয় নিরাপত্তার জন্য এক মারাত্মক হুমকি’ বলে উল্লেখ করার পর থেকেই মার্কিন সংবাদমাধ্যমগুলোতে এই গোপন নথির নানা অংশ ফাঁস হতে শুরু করে। বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, রাশিয়ার এই নতুন সামরিক সক্ষমতা নিয়ে হোয়াইট হাউস অত্যন্ত উদ্বেগের মধ্যে রয়েছে।
3
6
মার্কিন গোয়েন্দাদের দাবি অনুযায়ী, রাশিয়া যদি সত্যিই মহাকাশে এই পরমাণু প্রযুক্তি কার্যকর করতে পারে, তবে তা যেকোনও দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থা, ইন্টারনেট এবং সামরিক নজরদারি এক নিমেষে স্তব্ধ করে দিতে পারবে।
4
6
তবে মহাকাশে পরমাণু অস্ত্র ব্যবহারের এই আলোচনার মাঝেই সামরিক বিশেষজ্ঞদের মনে পড়ে যাচ্ছে রাশিয়ার আরও একটি ভয়ঙ্কর ও গোপন প্রযুক্তির কথা, যার নাম ‘ডেড হ্যান্ড’ বা পেরিমিটার সিস্টেম। অনেকেই মহাকাশের এই নতুন হুমকির সঙ্গে একে গুলিয়ে ফেলছেন, যদিও দুটি সম্পূর্ণ আলাদা ব্যবস্থা। ডেড হ্যান্ড কোনও মহাকাশচারী প্রযুক্তি নয়, এটি রাশিয়ার সম্পূর্ণ স্থল-ভিত্তিক একটি স্বয়ংক্রিয় পারমাণবিক প্রতিশোধ ব্যবস্থা।
5
6
ঠাণ্ডা যুদ্ধের সময় তৈরি হওয়া এই ‘ডেড হ্যান্ড’ মূলত এমন এক মানববিহীন সিস্টেম, যা কোনও আকস্মিক হামলায় রাশিয়ার শীর্ষ সামরিক নেতৃত্ব বা ক্রেমলিন সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেলেও নিজে নিজেই সচল হয়ে ওঠে। যদি কোনও কারণে দেশের মূল নেতৃত্বের সঙ্গে যোগাযোগের সব পথ বন্ধ হয়ে যায়, তবে এই সিস্টেম ধরে নেয় যে দেশ ধ্বংস হয়ে গেছে। আর ঠিক তখনই কোনও মানুষের আদেশ ছাড়াই এটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে রাশিয়ার পুরো পারমাণবিক অস্ত্রভাণ্ডারকে শত্রুপক্ষের দিকে ছুড়ে দেবে। এটি এমন এক বিধ্বংসী ব্যবস্থা যা একবার সক্রিয় হলে থামানোর আর কোনও উপায় থাকে না।
6
6
মহাকাশে স্যাটেলাইট ধ্বংসের নতুন রুশ চেষ্টা এবং মাটিতে ওত পেতে থাকা এই ‘ডেড হ্যান্ড’—সব মিলিয়ে রাশিয়ার সামরিক কৌশল এখন মার্কিন প্রশাসনের কপালে চিন্তার ভাঁজ আরও চওড়া করে তুলেছে। বিশ্ব জুড়ে আধিপত্য বিস্তারের এই খেলায় পরমাণু অস্ত্রের এমন ভয়ঙ্কর ব্যবহার মানবজাতিকে এক অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকে ঠেলে দিচ্ছে বলেই মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকেরা।