সামনেই ভ্যালেন্টাইন্স ডে, মনের মানুষ খুঁজে পেতে এখনই পুজো দিন এই মন্দিরে
নিজস্ব সংবাদদাতা
৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৭ : ৩৮
শেয়ার করুন
1
9
এই ঐতিহাসিক মন্দিরটি উৎসর্গ করা আছে ভগবান বিষ্ণুর বরাহ অবতারের উদ্দেশ্যে। এখানে তিনি নিত্যকল্যাণ পেরুমাল নামে পূজিত—যার অর্থ ‘চিরন্তন বিবাহের অধিপতি’। প্রাচীন বৈষ্ণব ধর্মীয় ঐতিহ্যে এই মন্দির বিশেষ মর্যাদা রাখে। সপ্তম শতকে পল্লব রাজাদের আমলে নির্মিত এই মন্দির পরবর্তীকালে চোল রাজাদের সময়ে সম্প্রসারিত হয়। এটি বৈষ্ণবদের ১০৮টি পবিত্র 'দিব্য দেশমের' অন্যতম, যা একে ধর্মীয় দিক থেকে আরও গুরুত্বপূর্ণ করে তোলে।
2
9
মন্দিরকে ঘিরে রয়েছে একাধিক পৌরাণিক কাহিনি। সবচেয়ে প্রচলিত কাহিনি অনুযায়ী, ঋষি কালাভার ৩৬০ কন্যাকে বরাহ অবতার প্রতিদিন একজন করে বিয়ে করেছিলেন, পুরো এক বছর ধরে। এই কাহিনি থেকেই ধারণা জন্মায় ভগবান বিষ্ণু এখানে প্রতিদিন বিবাহ করেন। ভক্তদের বিশ্বাস, এই দৈনন্দিন ঐশ্বরিক বিবাহের শক্তিই মানুষের ব্যক্তিগত জীবনের বিয়ের বাধা দূর করতে সক্ষম।
3
9
মন্দির পরিচালনা করে ভারতীয় পুরাতত্ত্ব সর্বেক্ষণ (এএসআই), আর দৈনন্দিন পূজা ও আচার সম্পন্ন করে তামিলনাড়ু হিন্দু ধর্মীয় ও দাতব্য দপ্তর। বিশ্বাসীদের কাছে এটি ‘ইটার্নাল ম্যারেজ টেম্পল’ নামে পরিচিত। বিশেষ করে রাহু-কেতু দোষ বা অন্যান্য জ্যোতিষগত সমস্যাকে বিয়ের বড় অন্তরায় হিসেবে যাঁরা মনে করেন, তাঁদের কাছে এই মন্দিরের মাহাত্ম্য আরও গভীর।
4
9
চেন্নাইয়ের কাছেই তামিলনাড়ুর থিরুভিদান্দাই গ্রামে অবস্থিত শতাব্দীপ্রাচীন নিত্যকল্যাণ পেরুমাল মন্দির আজ হাজার হাজার মানুষের আশার কেন্দ্রবিন্দু। বিশেষত যাঁরা দীর্ঘদিন ধরে বিয়েতে দেরি, পারিবারিক বাধা বা জ্যোতিষজনিত সমস্যার মুখোমুখি, তাঁদের কাছে এই মন্দির এক ধরনের আধ্যাত্মিক ভরসার নাম। বিশ্বাস অনুযায়ী, এখানে ভগবান বিষ্ণু প্রতিদিন ভক্তদের সঙ্গে আধ্যাত্মিক বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন এবং তাঁদের জীবনে উপযুক্ত জীবনসঙ্গী আসার পথ সুগম করেন।
5
9
এখানকার সবচেয়ে জনপ্রিয় আচার হল বিশেষ পদ্ধতিতে প্রদক্ষিণ। ভক্তদের দুইটি মালা নিয়ে মন্দিরের চারদিকে নয়বার প্রদক্ষিণ করতে হয়, একটি মালা দেবতার উদ্দেশ্যে অর্পণ করা হয়, অন্যটি ভক্ত নিজের পিঠে বহন করেন। পূজা শেষে সেই মালা বাড়িতে নিয়ে গিয়ে যত্নসহকারে শুকিয়ে রাখা হয়। অনেক দম্পতি বিয়ে সম্পন্ন হওয়ার পর আবার মন্দিরে ফিরে এসে সেই ব্যবহৃত মালা পবিত্র পুন্নাই গাছে অর্পণ করেন, যা মানত পূরণের প্রতীক। বহু ভক্ত দাবি করেন, গভীর বিশ্বাস নিয়ে এখানে পূজা করার কয়েক মাসের মধ্যেই তাঁদের জীবনে বিয়ের প্রস্তাব বা সম্পর্কের সূচনা হয়েছে।
6
9
তেনকালাই বৈষ্ণব সম্প্রদায়ের রীতি অনুযায়ী, নিত্যকল্যাণ পেরুমাল ও তাঁর সহধর্মিণী কোমলাবল্লী থায়ারের জন্য প্রতিদিন চার দফা পূজা হয়। এর মধ্যে আরতি, প্রসাদ নিবেদন ও বিশেষ সাজসজ্জা অন্তর্ভুক্ত।
7
9
বৈকুণ্ঠ একাদশী এবং চিত্রাই ব্রহ্মোৎসবের সময় মন্দিরে ভক্তসমাগম চোখে পড়ার মতো বেড়ে যায়। বিশেষ করে ব্রহ্মোৎসবের সময় গোটা গ্রাম উৎসবের রঙে রঙিন হয়ে ওঠে। দেবদেবীকে পালকিতে করে মন্দির প্রাঙ্গণ ঘিরে শোভাযাত্রা বের হয়, আর গ্রামবাসী ও ভক্তরা মিলিতভাবে এই ধর্মীয় উৎসবে অংশ নেন।
8
9
সাম্প্রতিক বছরগুলিতে সামাজিক মাধ্যম এবং মুখে-মুখে প্রচারের ফলে তামিলনাড়ুর বাইরে থেকেও মন্দিরটির জনপ্রিয়তা বেড়েছে। বেঙ্গালুরু, চেন্নাই এমনকি দূরবর্তী রাজ্য থেকেও অবিবাহিত নারী-পুরুষরা এখানে আসছেন আশায় ও বিশ্বাসে। যদিও মন্দির কর্তৃপক্ষ এবং অভিজ্ঞ ভক্তরা বলেন, এখানে এলেই সঙ্গে সঙ্গে ফল মিলবে, এমন কোনও নিশ্চয়তা নেই। কারও ক্ষেত্রে কয়েক সপ্তাহ, কারও ক্ষেত্রে কয়েক মাস সময় লাগে।
9
9
তবু নিত্যকল্যাণ পেরুমাল মন্দির আজ কেবল একটি উপাসনাস্থল নয়, এটি হয়ে উঠেছে অপেক্ষা, বিশ্বাস ও মানুষের ব্যক্তিগত জীবনের গভীর আকাঙ্ক্ষার প্রতীক।