ডিজিটাল লেনদেনের যুগে অনলাইন জালিয়াতির ঘটনা ক্রমশ বেড়েই চলেছে। অনেক সময় দেখা যায়, হঠাৎ মোবাইলে একটি এসএমএস আসে— ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থেকে ১৮ হাজার টাকা কেটে নেওয়া হয়েছে।
2
13
অথচ সেই লেনদেনের অনুমতি গ্রাহক দেননি। এমন পরিস্থিতিতে অধিকাংশ মানুষের প্রথম প্রশ্ন হয়, হারানো টাকা কি আর ফেরত পাওয়া যাবে?
3
13
এবার সেই প্রশ্নের উত্তর আরও স্পষ্ট করে দিল ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাঙ্ক। ২০২৬ সালের ২৪ জুন ‘রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া থার্ড অ্যামেন্ডমেন্ট ডিরেকশনস, ২০২৬’ জারি করেছে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে অনলাইন জালিয়াতির শিকার গ্রাহকরা শুধু পুরো টাকা ফেরতই পাবেন না, এমনকি নিজের ভুল থাকলেও ক্ষতিপূরণ পাওয়ার সুযোগ থাকবে।
4
13
নিয়মগুলি ১ জানুয়ারি ২০২৭ থেকে কার্যকর হবে এবং ওই তারিখের পর সংঘটিত ইলেকট্রনিক ব্যাঙ্কিং ট্রানজ্যাকশনের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে। এর আওতায় থাকবে ইউপিআই, মোবাইল ব্যাঙ্কিং, নেট ব্যাঙ্কিং, ডেবিট ও ক্রেডিট কার্ড লেনদেনসহ প্রায় সমস্ত ডিজিটাল পেমেন্ট।
5
13
নতুন নির্দেশিকার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হল, জালিয়াতির ক্ষেত্রে গ্রাহকের দায় প্রমাণ করার দায়িত্ব এখন ব্যাঙ্কের উপর থাকবে। অর্থাৎ ব্যাঙ্ক আর সহজে দাবি করতে পারবে না যে গ্রাহকের অসাবধানতার কারণেই টাকা খোয়া গেছে। বরং তাদেরই প্রমাণ করতে হবে যে গ্রাহক ভুল করেছেন।
6
13
আরবিআই তিনটি সম্ভাব্য পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করেছে। প্রথমত, যদি ব্যাঙ্কের গাফিলতি, নিরাপত্তা ত্রুটি বা প্রযুক্তিগত সমস্যার কারণে জালিয়াতি ঘটে, তাহলে গ্রাহকের কোনও দায় থাকবে না। এমন ক্ষেত্রে পুরো অর্থ ফেরত দেওয়ার দায়িত্ব ব্যাঙ্কের।
7
13
দ্বিতীয়ত, যদি কোনও তৃতীয় পক্ষ— যেমন পেমেন্ট অ্যাপ, পেমেন্ট গেটওয়ে বা টেলিকম পরিষেবা প্রদানকারীর কারণে প্রতারণা ঘটে এবং গ্রাহক বা ব্যাঙ্কের কোনও দোষ না থাকে, তাহলে গ্রাহক পাঁচ দিনের মধ্যে অভিযোগ জানালে সম্পূর্ণ অর্থ ফেরত পাবেন।
8
13
তৃতীয় এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরিস্থিতি হল, যদি গ্রাহকের অসাবধানতার কারণে প্রতারণা ঘটে। উদাহরণস্বরূপ, ওটিপি শেয়ার করা, ফিশিং লিঙ্কে ক্লিক করা বা ভুয়ো অ্যাপ ডাউনলোড করা। এতদিন এমন ক্ষেত্রে ক্ষতিপূরণ পাওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম ছিল। কিন্তু নতুন নিয়মে এখানে বড় পরিবর্তন আনা হয়েছে।
9
13
আরবিআই জানিয়েছে, প্রকৃত জালিয়াতির শিকার কোনও ব্যক্তি বা একক মালিকানাধীন ব্যবসায়ী যদি ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত ক্ষতির সম্মুখীন হন এবং পাঁচ দিনের মধ্যে ব্যাঙ্ক ও জাতীয় সাইবার অপরাধ পোর্টাল অথবা ১৯৩০ নম্বরে অভিযোগ জানান, তাহলে তিনি ক্ষতিপূরণ পাওয়ার যোগ্য হবেন। ক্ষতিপূরণের পরিমাণ হবে প্রকৃত ক্ষতির ৮৫ শতাংশ অথবা সর্বোচ্চ ২৫ হাজার টাকা, যেটি কম।
10
13
ধরা যাক, একজন গ্রাহক ৪০ হাজার টাকা হারালেন। পরে ব্যাঙ্ক ১৫ হাজার টাকা উদ্ধার করতে সক্ষম হল। সেক্ষেত্রে প্রকৃত ক্ষতি দাঁড়াবে ২৫ হাজার টাকা। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, ওই গ্রাহক ২১,২৫০ টাকা ক্ষতিপূরণ পেতে পারেন।
11
13
সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, এই ক্ষতিপূরণের অর্থ শুধু ব্যাঙ্ক নয়, আরবিআই নিজেও বহন করবে। ছোট অঙ্কের প্রতারণার ক্ষেত্রে ক্ষতিপূরণের বড় অংশ রিজার্ভ ব্যাঙ্ক বহন করবে, যা আগে কখনও দেখা যায়নি।
12
13
তবে একটি বিষয় মনে রাখা জরুরি— এই সুবিধা পেতে হলে প্রতারণার ঘটনা ঘটার পাঁচ দিনের মধ্যে অভিযোগ জানানো বাধ্যতামূলক। সময়মতো অভিযোগ না করলে অধিকাংশ সুরক্ষা ও ক্ষতিপূরণের সুযোগ হাতছাড়া হতে পারে।
13
13
বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন নিয়ম ডিজিটাল ব্যাঙ্কিং ব্যবস্থায় গ্রাহকদের আস্থা আরও বাড়াবে এবং অনলাইন জালিয়াতির শিকার সাধারণ মানুষের জন্য বড় সুরক্ষা হিসেবে কাজ করবে।