স্রোতের ঠিক উপরে ফেনায় তৈরি ঘর, জন্মেই গভীর জলে ডুব, অবিশ্বাস্য মাতৃত্ব
নিজস্ব সংবাদদাতা
৫ জুন ২০২৬ ১০ : ০২
শেয়ার করুন
1
12
মালাবার গ্লাইডিং ফ্রগের অনন্য প্রজনন কৌশল বিজ্ঞানীদের করেছে অবাক, প্রকৃতির অদ্ভুত এক মাতৃত্বের গল্প লুকিয়ে আছে ভারতের পশ্চিমঘাট পর্বতমালার ঘন অরণ্যে। সেখানে বাস করে মালাবার গ্লাইডিং ফ্রগ।
2
12
উজ্জ্বল সবুজ রঙের এই উভচর প্রাণী তার অসাধারণ প্রজনন ক্রিয়া ও গাছ থেকে গাছে উড়ে যাওয়ার ক্ষমতার জন্য বিখ্যাত।
3
12
বেশিরভাগ ব্যাঙ জলে ডিম পাড়লেও এই প্রজাতি পুকুর বা স্রোতের ঠিক উপরে গাছের ডালে ঝুলন্ত ফেনার বাসা তৈরি করে তাতে ডিম রাখে।
4
12
বর্ষা শুরু হলেই এই ব্যাঙের প্রজনন এর সময়৷ স্ত্রী ব্যাঙটি পুকুর বা ধীর স্রোতের ঠিক উপরে থাকা কোনো গাছের ডাল বা পাতা বেছে নেয়।
5
12
এরপর পুরুষ ব্যাঙটি স্ত্রীর পিঠে চেপে বসে। উভচর প্রাণীদের মিলনের এই ভঙ্গিকে বলা হয় ‘অ্যামপ্লেক্সাস’।
6
12
এই অবস্থায় পুরুষ ব্যাঙের ঔরস থেকে সাদা ফেনা তৈরি করতে থাকে। এই ফেনার বাসা প্রায় তিন ইঞ্চি চওড়া হয়।
7
12
এর ভেতরে স্ত্রী ব্যাঙ প্রায় ২০০টি পর্যন্ত ডিম পাড়ে। একই সঙ্গে পুরুষটি সেগুলি নিষিক্ত করে।
এই ফেনা ডিমগুলিকে শিকারি, রোদ ও শুকিয়ে যাওয়ার হাত থেকে রক্ষা করে — এটি যেন প্রকৃতির তৈরি এক স্বয়ংসম্পূর্ণ ইনকিউবেটর।
8
12
ডিম ফুটে ট্যাডপোল বের হলে ফেনা তাদের শুকিয়ে যাওয়া থেকে রক্ষা করে। ট্যাডপোলগুলি ফুটে বেরিয়ে সরাসরি নীচের জলে পড়ে যায়।
9
12
ডিম পাড়ার পর স্ত্রী ব্যাঙটি পাতা দিয়ে ফেনার বাসা ঢেকে দেয়৷ এটি একটি অতিরিক্ত সুরক্ষার স্তর। কখনও কখনও অন্য পুরুষ ব্যাঙেরাও বাসা তৈরিতে সাহায্য করে।
10
12
এই ব্যাঙের আরও একটি বিশেষত্ব হল তার গ্লাইডিং ক্ষমতা। লাফ দেওয়ার সময় পায়ের আঙুলের মধ্যবর্তী পর্দা প্যারাশুটের মতো ছড়িয়ে যায়, যা তাকে এক ডাল থেকে অন্য ডালে ভেসে যেতে সাহায্য করে।
11
12
কেরালার রাজ্য উভচর হিসেবে স্বীকৃত এই প্রাণীটি পশ্চিমঘাটের তামিলনাড়ু, কর্নাটক, গোয়া, মহারাষ্ট্র ও কেরালায় পাওয়া যায়।
12
12
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মালাবার গ্লাইডিং ফ্রগের এই অনন্য প্রজনন কৌশল প্রকৃতির সবচেয়ে বুদ্ধিমান বেঁচে থাকার কৌশলগুলির মধ্যে একটি।