২০২০ সালের ২৪ মার্চ। এই দিনটা অনেকেই এখনও ভুলতে পারেননি। সেদিনই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সারা দেশে হঠাৎ করে ২১ দিনের লকডাউন ঘোষণা করেন।
2
10
কোভিড ১৯-সংক্রমণ থামানোর লক্ষ্যেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়।
3
10
ঘোষণার পর মধ্যরাত থেকেই শুরু হয় ‘লকডাউন ১.০’। মানুষকে স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেওয়া হয়, খুব জরুরি কাজ ছাড়া ঘর থেকে না বেরনোর নির্দেশিকা জারি হয়।
4
10
ট্রেন, বাস, বিমান-সব ধরনের যাতায়াত বন্ধ হয়ে যায়। রাস্তা একেবারে ফাঁকা, শহর যেন হঠাৎ থেমে যায়। অফিস, স্কুল, কলেজ, দোকানপাট-সবই বন্ধ। শুধু হাসপাতাল, ওষুধের দোকান আর কিছু জরুরি পরিষেবা খোলা ছিল।
5
10
সেই সময় পরিস্থিতি ছিল খুবই ভয়ঙ্কর ও অনিশ্চিত। নতুন এই ভাইরাস সম্পর্কে মানুষের ধারণা কম ছিল, আর সংক্রমণ দ্রুত ছড়াচ্ছিল। তাই ভারত সরকার কড়া পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হয়। মূল উদ্দেশ্য ছিল, মানুষে মানুষে দূরত্ব বজায় রাখা, যাতে সংক্রমণ কমে।
6
10
তবে এই লকডাউনের প্রভাব সকলের জীবনে একরকম ছিল না। অনেকের কর্মসংস্থান বন্ধ হয়ে যায়, আয় না থাকায় তারা চরম সমস্যায় পড়েন।
7
10
পরিযায়ী শ্রমিকেরা শহর ছেড়ে নিজের গ্রামে ফিরতে শুরু করেন। কেউ বাস বা ট্রেন না পেয়ে শত শত কিলোমিটার হেঁটে বাড়ি ফেরেন।
8
10
অন্যদিকে, অনেক মানুষ প্রথমবার এতদিন ঘরে কাটানোর সুযোগ পান। অফিসের কাজ শুরু হয় ‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম’-এ। স্কুল-কলেজে চালু হয় অনলাইন ক্লাস। পরিবারকে সময় দেওয়া, নতুন কিছু শেখা-এসবও এই সময়ের অংশ হয়ে ওঠে।
9
10
২১ দিনের লকডাউন শেষ হওয়ার পরও পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসেনি। ধাপে ধাপে লকডাউন বাড়ানো হয়। পরে শুরু হয় ‘আনলক’ পর্ব, যেখানে ধীরে ধীরে সবকিছু খুলতে থাকে, কিন্তু নিয়ম মেনে।
10
10
সবমিলিয়ে, ২০২০ সালের এই লকডাউন শুধু একটি সিদ্ধান্ত ছিল না। ছিল এমন একটি সময়, যা মানুষের জীবনযাপন, কাজের ধরন এবং ভাবনাচিন্তাকে অনেকটাই বদলে দেয়। আজও সেই সময়ের অভিজ্ঞতার স্মৃতি অনেকের মনে টাটকা রয়েছে।