অভিনেতা হওয়ার আগে অপরাধীদের ধরতেন! কীভাবে মুম্বই পুলিশের ‘গোপন অস্ত্র’ হয়েছিলেন নানা পাটেকর?
নিজস্ব সংবাদদাতা
৮ অক্টোবর ২০২৬ ২০ : ০৭
শেয়ার করুন
1
10
নানা পাটেকরকে দর্শক চেনেন তাঁর অভিনয়, জলদগম্ভীর কণ্ঠস্বর এবং বাস্তবধর্মী চরিত্রের জন্য। কখনও পুলিশ অফিসার, কখনও গ্যাংস্টার, কখনও আবার সাধারণ মানুষের রাগ-ক্ষোভের হাসির প্রতিচ্ছবি তুলে ধরেছেন৷ কিন্তু অভিনেতা হিসেবে জনপ্রিয় হওয়ার আগেই নানা পাটেকরের জীবনে এমন একটি অধ্যায় ছিল, যার কথা অনেকেরই অজানা।
2
10
একসময় মুম্বই পুলিশের তদন্তে নিজের আঁকার দক্ষতা দিয়ে সাহায্য করতেন তিনি। অভিনয়ে আসার আগে নানা ছিলেন একজন প্রশিক্ষিত শিল্পী। মুম্বইয়ের জে জে স্কুল অব আর্টস থেকে তিনি চিত্রকলার শিক্ষা নিয়েছিলেন।
3
10
তাঁর আঁকার হাত ছিল অত্যন্ত ভাল। সেই দক্ষতাই পরে তাঁকে পুলিশের কাজে যুক্ত করে। সাক্ষীর বর্ণনা শুনে আঁকতেন সন্দেহভাজনের মুখ, কোনও অপরাধের পর প্রত্যক্ষদর্শী বা সাক্ষীরা সন্দেহভাজন ব্যক্তির চেহারা সম্পর্কে পুলিশকে যে বিবরণ দিতেন, সেই তথ্যের ভিত্তিতে স্কেচ তৈরি করতে সাহায্য করতেন নানা।
4
10
মুখের গঠন, চোখ, নাক, চুল, মুখের আকৃতি—সাক্ষীর মনে থাকা নানা তথ্যকে কাগজে ফুটিয়ে তুলতেন তিনি।ফলে তদন্তকারীদের হাতে সম্ভাব্য অভিযুক্তের একটি চেহারার ধারণা তৈরি হত। সেই স্কেচ তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ সূত্র হিসেবে কাজে লাগত।
5
10
নানা পাটেকরের পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ শুধু স্কেচ তৈরির মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না। মুম্বইয়ে দাঙ্গা ও অপরাধমূলক কার্যকলাপের সময় তিনি পুলিশের হয়ে আন্ডারকভার বা গোপনভাবে তথ্য সংগ্রহের কাজেও সাহায্য করেছিলেন বলে বিভিন্ন সূত্রে উল্লেখ করা হয়েছে৷
6
10
শহরের কোথায় কী ধরনের অশান্তি তৈরি হচ্ছে, কারা তার সঙ্গে যুক্ত—এই ধরনের তথ্য পুলিশের কাছে পৌঁছে দেওয়ার কাজও তিনি করতেন। প্রয়োজন হলে সন্দেহভাজনদের স্কেচও তৈরি করতেন।
7
10
অর্থাৎ, পর্দায় পুলিশ অফিসারের চরিত্রে অভিনয় করার বহু আগেই বাস্তব জীবনে পুলিশের সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা তৈরি হয়েছিল তাঁর। ছোটবেলা থেকেই নানা পাটেকরের জীবনে শিল্পের উপস্থিতি ছিল। আঁকা ছিল তাঁর অন্যতম শক্তি।
8
10
কিন্তু পরবর্তীকালে ধীরে ধীরে থিয়েটারের দিকে ঝুঁকে পড়েন তিনি। মঞ্চে অভিনয়ের মাধ্যমে তৈরি হয় তাঁর নিজস্ব অভিনয়শৈলী। সেখান থেকেই পরবর্তীতে বড় পর্দায় আগমন। ১৯৭৮ সালে ‘গমন’ ছবির মাধ্যমে তাঁর চলচ্চিত্রজীবনের শুরু। এরপর ‘পরিন্দা’, ‘ক্রান্তিবীর’, ‘খামোশি’, ‘অ্যাব তক ছাপ্পান’, ‘রাজনীতি’, ‘নটসম্রাট’-সহ একের পর এক ছবিতে তাঁর অভিনয় দর্শকদের মনে জায়গা করে নেয়।
9
10
নানা পাটেকরের অভিনয়ের সবচেয়ে বড় শক্তি ছিল তাঁর বাস্তব অনুভূতিকে পর্দায় নিয়ে আসার ক্ষমতা। পুলিশ, অপরাধী বা সাধারণ মানুষের চরিত্র, যে ভূমিকাতেই তাঁকে দেখা গিয়েছে, চরিত্রটিকে নিছক অভিনয় বলে মনে হয়নি দর্শকের।
10
10
হয়তো সেই কারণেই তাঁর পুলিশের সঙ্গে বাস্তব জীবনের যোগাযোগের গল্পটিও এতটা আকর্ষণীয়। অভিনেতা হওয়ার আগেই অপরাধ তদন্তের সঙ্গে কোনও না কোনওভাবে যুক্ত ছিলেন তিনি। আর পরবর্তীতে সেই মানুষটিই পর্দায় একের পর এক স্মরণীয় পুলিশ চরিত্রকে জীবন্ত করে তুলেছেন।