মিউচুয়াল ফান্ডে বিনিয়োগের প্রবণতা আরও জোরালো হচ্ছে। আগস্ট মাসে দেশের মিউচুয়াল ফান্ড শিল্পের মোট অ্যাসেট আন্ডার ম্যানেজমেন্ট পৌঁছে গেল ৮৭.০৮ লক্ষ কোটি টাকায়।
2
14
একই সময়ে এসআইপি-এর মাধ্যমে বিনিয়োগও গড়ল নতুন রেকর্ড।AMFI-এর তথ্য অনুযায়ী, আগস্টে এসআইপি-র মাধ্যমে মোট ৩২,২৯৭ কোটি টাকা সংগ্রহ হয়েছে। জুলাইয়ে এই অঙ্ক ছিল ৩১,৯৬১ কোটি টাকা।
3
14
পরিসংখ্যান বলছে, ৩১ আগস্ট ২০২৬-এ দেশের মিউচুয়াল ফান্ড শিল্পের মোট এইউএম ছিল ৮৭,০৭,৮৮৮ কোটি টাকা। জুলাইয়ের তুলনায় তা প্রায় ১.৫ শতাংশ বেশি।
4
14
আগস্ট মাসে শিল্পের ক্ষেত্রে এটি ছিল ৮৮,৩০,৭৭৬ কোটি টাকা। গত এক দশকে মিউচুয়াল ফান্ড শিল্পের আকার উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ২০১৬ সালের আগস্টে এইউএম ছিল ১৫.৬৩ লক্ষ কোটি টাকা, যা ২০২৬ সালের আগস্টে বেড়ে হয়েছে ৮৭.০৮ লক্ষ কোটি টাকা।
5
14
এসআইপি-র ক্ষেত্রেও ছবিটা বেশ গুরুত্বপূর্ণ। আগস্টে এসআইপি-এর মাধ্যমে ৩২,২৯৭ কোটি টাকা এসেছে, যা এখনও পর্যন্ত সর্বোচ্চ মাসিক সংগ্রহ।
6
14
জুলাইয়ে ৩১,৯৬১ কোটি টাকা এবং ২০২৫ সালের আগস্টে সংগ্রহের পরিমাণ ছিল ২৮,২৬৫ কোটি টাকা। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে এসআইপি সংগ্রহ বেড়েছে প্রায় ১৪ শতাংশ।
7
14
শুধু টাকার অঙ্কেই নয়, এসআইপি অ্যাকাউন্টের সংখ্যাতেও বড় পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। আগস্ট শেষে দেশে মোট এসআইপি অ্যাকাউন্টের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে প্রায় ১০.৭৫ কোটি।
8
14
এর মধ্যে প্রায় ১০.০২ কোটি অ্যাকাউন্ট থেকে নিয়মিত এসআইপি এসেছে। আগস্টে এর মোট এইউএম ছিল ১৮.৬২ লক্ষ কোটি টাকা, যা মিউচুয়াল ফান্ড শিল্পের মোট এইউএম-র প্রায় ২১.৪ শতাংশ।
9
14
আগস্টে নতুন এসআইপি রেজিস্ট্রেশনের সংখ্যাও ছিল উল্লেখযোগ্য। তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ৬৬.৪ লক্ষ নতুন এসআইপি রেজিস্ট্রেশন হয়েছে।
10
14
একই সময়ে প্রায় ৫৩.৮২ লক্ষ এসআইপি বন্ধ বা মেয়াদপূর্তির আওতায় এসেছে। ফলে নতুন এসআইপি যোগ হওয়ার প্রবণতা অব্যাহত রয়েছে।
11
14
ইক্যুইটি মিউচুয়াল ফান্ডেও বিনিয়োগের ধারা বজায় ছিল। আগস্টে ইক্যুইটি মিউচুয়াল ফান্ডে প্রায় ২৯,৩২৯ কোটি টাকা নিট বিনিয়োগ এসেছে।
12
14
এটি টানা ৬৬তম মাস, যখন ইক্যুইটি মিউচুয়াল ফান্ডে নিট ইনফ্লো দেখা গেল। বিশেষ করে মিড-ক্যাপ এবং স্মল-ক্যাপ ফান্ডে বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ ছিল বেশি।
13
14
তবে মিউচুয়াল ফান্ডে বিনিয়োগ বাজার-নির্ভর হওয়ায় এই বৃদ্ধির পিছনে শুধু নতুন টাকা বিনিয়োগই দায়ী নয়। বাজারের ওঠানামা এবং বিভিন্ন ফান্ডের সম্পদের মূল্য পরিবর্তনেরও প্রভাব থাকে। ফলে এইউএম-এর বৃদ্ধি এবং এসআইপি-এর রেকর্ড সংগ্রহ—দুই তথ্যকে আলাদা করে দেখা প্রয়োজন।
14
14
সব মিলিয়ে আগস্টের পরিসংখ্যানে মিউচুয়াল ফান্ড শিল্পে বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণের পরিমাণ স্পষ্ট হয়েছে। একদিকে ৮৭ লক্ষ কোটি টাকার বেশি এইউএম, অন্যদিকে ৩২,২৯৭ কোটি টাকার রেকর্ড এসআইপি সংগ্রহ—দুই ক্ষেত্রেই ভারতীয় মিউচুয়াল ফান্ড বাজারের বর্তমান আকার ও খুচরো বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণের ছবি উঠে এসেছে।