টানা ধাক্কার পর অবশেষে ঘুরে দাঁড়াল সোনার বাজার। শুক্রবার, ২০ মার্চ সকালে মাল্টি কমোডিটি এক্সচেঞ্জে সোনার দামে ২ শতাংশের বেশি উত্থান দেখা যায়। মূলত আগের দিনের বড় পতনের পর ‘ভ্যালু বায়িং’ বা কম দামে কেনার প্রবণতা এবং চলতি রাজনৈতিক উত্তেজনার কারণেই এই পুনরুদ্ধার হয়েছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
2
9
এর আগে বৃহস্পতিবার বাজারে বড় ধাক্কা খেয়েছিল মূল্যবান ধাতু। এপ্রিল ডেলিভারির সোনা ফিউচার্স বন্ধ হয়েছিল প্রতি ১০ গ্রামে ১,৪৪,৯৫৪-এ, যা ৫ শতাংশেরও বেশি পতন। একইভাবে, মে ডেলিভারির রূপো ফিউচার্স প্রায় ৭ শতাংশ ধাক্কা খেয়ে দাঁড়ায় প্রতি কেজি ২,৩১,৪৬০-এ।
3
9
তবে শুক্রবার সকালে চিত্র পাল্টাতে শুরু করে। এমসিএক্সে সোনা ফিউচার্স বেড়ে ৩,৩৫০ বা ২.৩০ শতাংশ লাফিয়ে পৌঁছে যায় ১,৪৮,৩০২ প্রতি ১০ গ্রামে। একই সময়ে রূপোর দামও ৮,৫৪০ বা ৩.৭ শতাংশ বেড়ে দাঁড়ায় ২,৪০,০০০ প্রতি কেজিতে।
4
9
বিশ্লেষকদের মতে, সোনার দীর্ঘমেয়াদি চাহিদা এখনও মজবুত। কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কগুলির ধারাবাহিক সোনা কেনা এবং বিশ্বজুড়ে বাড়তে থাকা রাজনৈতিক অস্থিরতা—এই দুই বড় কারণ সোনার বাজারকে শক্তিশালী ভিত্তি দিচ্ছে। কিন্তু স্বল্পমেয়াদে কিছু বড় চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে, যার মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো মার্কিন ডলারের শক্তিশালী অবস্থান এবং সুদের হার কমানোর সম্ভাবনা কমে যাওয়া।
5
9
এই সপ্তাহে দেশীয় স্পট মার্কেটে সোনার দাম প্রায় ১০,৬০০ বা প্রায় ৭ শতাংশ পর্যন্ত পড়ে গিয়েছিল। আন্তর্জাতিক বাজারেও একই চিত্র—মার্কিন সোনা ফিউচার্স টানা তৃতীয় সপ্তাহের মতো ৭ শতাংশের বেশি পতনের পথে রয়েছে।
6
9
এই পতনের অন্যতম কারণ ডলারের শক্তি বৃদ্ধি। তেলের দামে হঠাৎ উত্থানের ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে ডলারের চাহিদা বেড়েছে। কারণ, বিশ্ববাজারে তেল মূলত ডলারে লেনদেন হয়। ফলে তেলের দাম বাড়লে ডলারের চাহিদাও বাড়ে, যা ডলারকে শক্তিশালী করে তোলে। আর ডলার শক্তিশালী হলে সোনার মতো ‘সেফ হ্যাভেন’ সম্পদের আকর্ষণ কিছুটা কমে যায়।
7
9
ডলার ইনডেক্সও এই সপ্তাহে ১০০-এর উপরে অবস্থান করছিল, যা সোনার ওপর চাপ সৃষ্টি করেছিল। যদিও বৃহস্পতিবার এটি কমে ৯৮.৯৭-এ নেমে আসে, তবে শুক্রবার আবার সামান্য বেড়ে ৯৯.৪২-এ পৌঁছায়।
8
9
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই মুহূর্তে সোনার বাজারে ওঠানামা স্বাভাবিক। একদিকে রাজনৈতিক ঝুঁকি সোনার দামকে সমর্থন দিচ্ছে, অন্যদিকে শক্তিশালী ডলার এবং সুদের হার সংক্রান্ত অনিশ্চয়তা দামকে চাপে রাখছে।
9
9
সব মিলিয়ে, স্বল্পমেয়াদে অস্থিরতা থাকলেও দীর্ঘমেয়াদে সোনার প্রতি বিনিয়োগকারীদের আস্থা অটুট রয়েছে। তাই বিনিয়োগের ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন করা এবং বাজারের গতিপ্রকৃতি বুঝে সিদ্ধান্ত নেওয়াই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।