অবিশ্বাস্য হলেও সত্যি, দু'চাকার দামে মিলবে চার চাকা! বাজারে ঝড় তুলতে আসছে এই গাড়ি
২৬ জুন ২০২৬ ১১ : ৫৮
- 1
- 14
ভারতীয় মধ্যবিত্ত পরিবারের কাছে গাড়ি কেনার প্রধান শর্তই হল কম খরচ এবং ভরসাযোগ্য পারফরম্যান্স। সাধারণ মানুষের এই চাহিদাকে সঠিকভাবে অনুধাবন করেই দেশের প্রথম সারির গাড়ি প্রস্তুতকারক সংস্থা মারুতি সুজুকি বাজারে নিয়ে এসেছিল তাদের অন্যতম জনপ্রিয় মডেল 'এস-প্রেসো'। লঞ্চ হওয়ার পর থেকেই ভারতীয় রাস্তায় এই গাড়িটি নিজের একটা আলাদাই জায়গা তৈরি করে নিয়েছে। বিশেষ করে যারা তুলনামূলক কম বাজেটের মধ্যে একটি এসইউভি গাড়ির মতো ফিল এবং লুক পেতে চান, তাদের কাছে এই মিনি এসইউভিটি এখন অত্যন্ত প্রিয় একটি বিকল্প। বর্তমান সময়ে দাঁড়িয়েও এর জনপ্রিয়তা একটুও কমেনি, বরং এর অনন্য ডিজাইন ও মাইলেজ একে বাজারে অন্যদের থেকে অনেকটাই এগিয়ে রেখেছে।
- 2
- 14
এই গাড়িটির সবচেয়ে বড় প্লাস পয়েন্ট হল এর চমৎকার ডিজাইন। সাধারণ হ্যাচব্যাক গাড়ির তুলনায় এর রোড প্রেজেন্স বা রাস্তায় চলার লুকটা বেশ নজরকাড়া। এর সোজা ফ্রন্ট ফাসিয়া এবং চেনা গ্রিল গাড়িটিকে একটি চওড়া ও মাসকুলার চেহারা দেয়। এর সঙ্গে রয়েছে টুইন-চেম্বার হেডল্যাম্প এবং বোল্ড ফ্রন্ট বাম্পার। গাড়িটির চওড়া হুইল আর্চ এবং সাইড ক্ল্যাডিং একে একটি স্পোর্টি ভাব এনে দেয়, যার ফলে কম দামে একটু উঁচুতে বসে দাপটের সঙ্গে গাড়ি চালাতে যারা ভালোবাসেন, তাদের কাছে এটি খুব আকর্ষণীয় মনে হয়।
- 3
- 14
বাইরে থেকে গাড়িটি দেখতে যতটা কমপ্যাক্ট বা ছোটখাটো লাগে, এর ভেতরের কেবিন কিন্তু বেশ আরামদায়ক এবং পর্যাপ্ত জায়গাযুক্ত। গাড়ির ভেতরে ঢুকলেই সবার আগে চোখ যাবে এর ইউনিক ড্যাশবোর্ডের দিকে। এর সেন্ট্রাল কনসোলে একটি গোলাকার ডিজাইন রয়েছে, যা কিছুটা মিনি কুপার গাড়ির কথা মনে করিয়ে দেয়।
- 4
- 14
এই গোল অংশের মধ্যেই ডিজিটাল ইনস্ট্রুমেন্ট ক্লাস্টার এবং ৭ ইঞ্চির স্মার্টপ্লে স্টুডিও টাচস্ক্রিন ইনফোটেইনমেন্ট সিস্টেমটি সুন্দরভাবে বসানো হয়েছে। এই সিস্টেমে অ্যাপল কারপ্লে এবং অ্যান্ড্রয়েড অটো সাপোর্ট পাওয়া যায়, যা আজকের যুগের চালকদের জন্য খুবই দরকারি। এর পাশাপাশি ব্লুটুথ কানেক্টিভিটি, স্টিয়ারিংয়ে থাকা অডিও কন্ট্রোল এবং ভয়েস রিকগনিশনের সুবিধাও রয়েছে এতে।
- 5
- 14
চলনক্ষমতা বা পারফরম্যান্সের দিক থেকেও এস-প্রেসো বেশ চটপটে। এই গাড়িতে ব্যবহার করা হয়েছে একটি ১.০ লিটারের নেক্সট-জেন কে-সিরিজ ডুয়াল জেট, ডুয়াল ভিভিটি পেট্রোল ইঞ্জিন। এই ইঞ্জিনটি থেকে সর্বোচ্চ ৬৬ bhp পাওয়ার এবং ৮৯ Nm টর্ক পাওয়া যায়, যা শহরের নিত্যদিনের জ্যাম কিংবা হাইওয়ে—সব জায়গাতেই বেশ ভালো শক্তি জোগায়। গাড়িটিতে ৫-স্পিড ম্যানুয়াল গিয়ারবক্সের পাশাপাশি রয়েছে ৫-স্পিড অটো গিয়ার শিফট বা এজিএস প্রযুক্তির সুবিধা। ফলে শহরের ব্যস্ত রাস্তায় যারা বারবার ক্লাচ চাপার ঝামেলা এড়াতে চান, তারা অনায়াসেই এর অটোমেটিক ভ্যারিয়েন্টটি বেছে নিতে পারেন।
- 6
- 14
আমাদের দেশে গাড়ি কেনার সময় মাইলেজের বিষয়টা সবসময়ই পাখির চোখ থাকে। আর এই জায়গাতেই মারুতি সুজুকি বাজিমাত করেছে। এস-প্রেসো তার সেগমেন্টে অন্যতম সেরা মাইলেজ দেয়। এর পেট্রোল ম্যানুয়াল ভ্যারিয়েন্টে প্রতি লিটারে প্রায় ২৪ কিলোমিটারের বেশি পথ চলা যায়। আবার যারা অটোমেটিক বা এজিএস ভ্যারিয়েন্ট ব্যবহার করেন, তাদের ক্ষেত্রে মাইলেজের পরিমাণ দাঁড়ায় প্রতি লিটারে প্রায় ২৫.৩ কিলোমিটার।
- 7
- 14
এছাড়া যারা আরও সাশ্রয়ে যাতায়াত করতে পছন্দ করেন, তাদের জন্য কোম্পানির ফিটেড এস-সিএনজি ভ্যারিয়েন্টও রয়েছে। সিএনজি মোডে এই গাড়িটি প্রতি কেজিতে প্রায় ৩২.৭৩ কিলোমিটার পর্যন্ত মাইলেজ দিতে পারে, যা জ্বালানির চড়া দামের বাজারে সাধারণ মানুষের পকেটের ওপর চাপ অনেকটাই কমিয়ে দেয়।
- 8
- 14
নিরাপত্তার দিক থেকেও মারুতি সুজুকি এই গাড়িতে বেশ কিছু জরুরি আপডেট এনেছে। গাড়িটি তৈরি হয়েছে কোম্পানির সিগনেচার হার্টেক্ট প্ল্যাটফর্মের ওপর ভিত্তি করে, যা আরোহীদের বাড়তি সুরক্ষা দেয়। সেফটি ফিচারের কথা বলতে গেলে, এই গাড়ির সব মডেলেই স্ট্যান্ডার্ড হিসেবে দেওয়া হয়েছে ডুয়াল ফ্রন্ট এয়ারব্যাগ।
- 9
- 14
এর সাথে রয়েছে অ্যান্টি-লক ব্রেকিং সিস্টেম (ABS) এবং ইলেকট্রনিক ব্রেক-ফোর্স ডিস্ট্রিবিউশন (EBD)। দুর্ঘটনা এড়াতে এতে ইলেকট্রনিক স্ট্যাবিলিটি প্রোগ্রাম (ESP) এবং হিল হোল্ড অ্যাসিস্ট ফিচার দেওয়া হয়েছে, যা পাহাড়ি রাস্তা বা ফ্লাইওভারে গাড়িটিকে পেছনের দিকে গড়িয়ে যাওয়া থেকে আটকে রাখে। এছাড়াও রয়েছে রিভার্স পার্কিং সেন্সর, স্পিড অ্যালার্ট সিস্টেম এবং সিট বেল্ট রিমাইন্ডার।
- 10
- 14
শহরের ভাঙাচোরা গলি হোক কিংবা হাইওয়ের খারাপ রাস্তা, সব জায়গাতেই এই গাড়ির রাইড কোয়ালিটি বেশ আরামদায়ক। এর অন্যতম প্রধান কারণ হলো এর দুর্দান্ত গ্রাউন্ড ক্লিয়ারেন্স। এই গাড়িতে ১৮০ মিলিমিটারের গ্রাউন্ড ক্লিয়ারেন্স পাওয়া যায়, যা যেকোনও বড় এসইউভির মতোই কার্যকর এবং বড় বাম্পারগুলো অনায়াসে পার হতে সাহায্য করে। গাড়িটির সিটিং পজিশন উঁচুতে হওয়ায় চালক সামনের রাস্তার একটি পরিষ্কার ভিউ পান, যাকে কমান্ডিং ড্রাইভিং পজিশন বলা হয়। এছাড়া এর টার্নিং রেডিয়াস মাত্র ৪.৫ মিটার হওয়ায় খুব ছোট জায়গার মধ্যেও গাড়িটি সহজে ঘোরানো সম্ভব।
- 11
- 14
যেকোনো গাড়ি কেনার পেছনে আসল চাবিকাঠি হলো তার বাজেট। মারুতি সুজুকি এস-প্রেসোর সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিক হলো এর সাশ্রয়ী এক্স-শোরুম দাম। বর্তমানে ভারতীয় বাজারে এই মিনি এসইউভির বেস ভ্যারিয়েন্ট অর্থাৎ এসটিডি মডেলটির এক্স-শোরুম দাম শুরু হচ্ছে মাত্র ৩.৫০ লক্ষ টাকা থেকে। এরপর যত আপনি ওপরের ভ্যারিয়েন্টের দিকে যাবেন, ফিচারের সাথে সাথে দামেও সামান্য বদল আসবে। গাড়িটির একদম টপ-স্পেক ভ্যারিয়েন্ট অর্থাৎ VXi Plus Opt AT মডেলটির এক্স-শোরুম মূল্য সর্বোচ্চ ৫.২৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত যায়।
- 12
- 14
এর মাঝে যারা পরিবেশবান্ধব ও পকেট-ফ্রেন্ডলি রাইড চান, তাদের জন্য এস-সিএনজি ভ্যারিয়েন্টগুলোর দাম ৪.৬২ লক্ষ টাকা থেকে শুরু করে ৫.১২ লক্ষ টাকার মধ্যে রাখা হয়েছে। তবে অন-রোড প্রাইস বা গাড়ির চূড়ান্ত দাম বিভিন্ন রাজ্যের রোড ট্যাক্স, আরটিও চার্জ এবং ইনসিওরেন্স পলিসির কারণে কিছুটা কম-বেশি হতে পারে।
- 13
- 14
ভারতের বাজারে এই গাড়ির সরাসরি টক্কর হয় রেনো কুইডের মতো জনপ্রিয় মডেলের সাথে। তবে মারুতি সুজুকির দেশজোড়া বিশাল সার্ভিস নেটওয়ার্ক, সস্তা মেইনটেন্যান্স বা দেখভালের খরচ এবং গাড়ির দুর্দান্ত রিসেল ভ্যালু থাকার কারণে এই মিনি এসইউভিটি প্রতিযোগিতায় অনেকটাই এগিয়ে থাকে।
- 14
- 14











