গৃহস্থালির এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ফের ২৯ টাকা বাড়ানোর পর সাধারণ মানুষের মধ্যে অসন্তোষ বাড়লেও কেন্দ্রের পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রক দাবি করেছে, বিশ্বের বহু দেশ এবং প্রতিবেশী রাষ্ট্রের তুলনায় ভারতীয় পরিবারগুলি এখনও সবচেয়ে কম দামে রান্নার গ্যাস পাচ্ছেন।
2
12
সাম্প্রতিক মূল্যবৃদ্ধির ফলে ১৪.২ কেজির গৃহস্থালির এলপিজি সিলিন্ডারের দাম বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯৪২ টাকা। পশ্চিম এশিয়ায় সংঘাত শুরু হওয়ার পর এটি দ্বিতীয় দফার মূল্যবৃদ্ধি। দুই দফা মিলিয়ে মোট ৮৯ টাকা দাম বেড়েছে।
3
12
তবে কেন্দ্রের বক্তব্য, আন্তর্জাতিক বাজারে এলপিজির মূল্যবৃদ্ধির চাপ পুরোপুরি গ্রাহকদের ওপর চাপানো হয়নি। মন্ত্রকের দাবি, বর্তমানে একটি ১৪.২ কেজির সিলিন্ডার সরবরাহ করতে খরচ পড়ছে ১,৬০০ টাকারও বেশি। অথচ সাধারণ গ্রাহককে দিতে হচ্ছে ৯৪২ টাকা এবং প্রধানমন্ত্রী উজ্জ্বলা যোজনার সুবিধাভোগীরা কার্যত মাত্র ৬৪২ টাকায় সিলিন্ডার পাচ্ছেন।
4
12
মন্ত্রকের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “আন্তর্জাতিক বাজারে এলপিজির দাম দ্রুত বাড়লেও সেই অতিরিক্ত আর্থিক বোঝার বড় অংশ সরকার বহন করছে। ফলে গ্রাহকদের ওপর সম্পূর্ণ চাপ পড়ছে না।”
5
12
কেন্দ্রের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, প্রতিবেশী দেশগুলিতে এলপিজির দাম ভারতের তুলনায় অনেক বেশি। পাকিস্তানে একটি সিলিন্ডারের দাম প্রায় ১,০৪৬ টাকা, নেপালে ১,২০৭ টাকা, বাংলাদেশে প্রায় ১,২২৫ টাকা এবং শ্রীলঙ্কায় ১,২৪১ টাকা।
6
12
উন্নত দেশগুলির মধ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে একই পরিমাণ এলপিজির দাম প্রায় ১,৭৫৫ টাকা, অস্ট্রেলিয়ায় ১,৭৬৫ টাকা এবং কানাডায় ২,৪১১ টাকার কাছাকাছি।
7
12
উজ্জ্বলা যোজনার গ্রাহকদের জন্য কেন্দ্র আরও ৩০০ টাকার সরাসরি ভর্তুকি দেয় বছরে প্রথম চারটি রিফিলের ক্ষেত্রে। ফলে তাঁদের কার্যকর খরচ ৬৪২ টাকায় নেমে আসে।
8
12
বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমান মূল্যবৃদ্ধির প্রধান কারণ আন্তর্জাতিক বাজারে এলপিজির দামের ঊর্ধ্বগতি। ভারতের প্রায় ৬০ শতাংশ এলপিজি চাহিদা আমদানির মাধ্যমে পূরণ হয়। এই আমদানির মূল্য নির্ধারিত হয় সৌদি আরামকোর মাসিক ‘সৌদি কনট্রাক্ট প্রাইস’ -এর ভিত্তিতে।
9
12
ফেব্রুয়ারিতে যেখানে এই আন্তর্জাতিক মূল্য ছিল প্রতি টন ৫৪৩ মার্কিন ডলার, সেখানে পশ্চিম এশিয়ার উত্তেজনা এবং হরমুজ প্রণালীতে সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার জেরে এপ্রিল মাসে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৭৭৫ ডলার প্রতি টন। জুন মাসে এই মূল্য আরও বেড়ে ৭৯০ ডলার প্রতি টনে পৌঁছেছে। অর্থাৎ ফেব্রুয়ারির তুলনায় আন্তর্জাতিক এলপিজির দাম প্রায় ৪৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
10
12
মন্ত্রকের হিসাব অনুযায়ী, বর্তমান আন্তর্জাতিক মূল্যের ভিত্তিতে একটি গৃহস্থালির সিলিন্ডারের প্রকৃত খরচ ১,৬০০ টাকারও বেশি। ফলে প্রতি সিলিন্ডারে প্রায় ৭০০ টাকার আর্থিক ঘাটতি সরকার বহন করছে।
11
12
অন্যদিকে, হোটেল ও ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানে ব্যবহৃত ১৯ কেজির বাণিজ্যিক সিলিন্ডারের দাম দিল্লিতে বর্তমানে ৩,১১৩.৫০ টাকা। অর্থাৎ প্রতি কেজিতে প্রায় ১৬৪ টাকা। তুলনায় গৃহস্থালির গ্রাহকরা প্রতি কেজি এলপিজির জন্য প্রায় ৬৬ টাকা দিচ্ছেন।
12
12
কেন্দ্রের দাবি, আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতা সত্ত্বেও সাধারণ মানুষের স্বার্থ রক্ষায় ভর্তুকি ও মূল্য নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে এলপিজিকে এখনও তুলনামূলকভাবে সাশ্রয়ী রাখা হয়েছে।