লো আর্থ অরবিট আধুনিক বিশ্বের একটি অদৃশ্য কিন্তু অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামো। পৃথিবীর পৃষ্ঠ থেকে প্রায় ২০০ থেকে ২,০০০ কিলোমিটার উচ্চতায় অবস্থিত এই কক্ষপথে ঘুরছে হাজার হাজার উপগ্রহ, যেগুলির ওপর নির্ভর করে আমাদের ইন্টারনেট, জিপিএস, আবহাওয়ার পূর্বাভাস, সামরিক নজরদারি।
2
9
কিন্তু সাম্প্রতিক গবেষণা ও মহাকাশ বিশেষজ্ঞদের সতর্কবার্তা অনুযায়ী, কোনও পূর্বাভাস ছাড়াই এই লো আর্থ অরবিট ব্যবস্থা বিপর্যস্ত হয়ে পড়তে পারে।
3
9
এই সম্ভাব্য বিপর্যয়ের মূল কারণ হল মহাকাশ আবর্জনার অস্বাভাবিক বৃদ্ধি। পরিত্যক্ত উপগ্রহ, ভাঙা রকেটের অংশ এবং সংঘর্ষে তৈরি লক্ষ লক্ষ ক্ষুদ্র ধ্বংসাবশেষ ক্রমশ বিপজ্জনক করে তুলছে।
4
9
একটি ছোট ধাতব টুকরোও ঘণ্টায় প্রায় ২৮,০০০ কিলোমিটার বেগে চললে সক্রিয় উপগ্রহের জন্য মারাত্মক ভয়ানক হয়ে উঠতে পারে। একটির সঙ্গে আরেকটির সংঘর্ষ হলে শুরু হতে পারে চেইন রিঅ্যাকশন, যাকে “কেসলার সিনড্রোম” বলা হয়—যার ফলে পুরো কক্ষপথই ব্যবহার অযোগ্য হয়ে যেতে পারে।
5
9
আরও একটি বড় ঝুঁকি হল হঠাৎ সৌর ঝড় ও সূর্যগত কার্যকলাপ। শক্তিশালী সৌর ফ্লেয়ার বা করোনাল মাস ইজেকশন পৃথিবীর চৌম্বক ক্ষেত্রকে প্রভাবিত করে উপগ্রহের ইলেকট্রনিক সিস্টেম অচল করে দিতে পারে। এই ধরনের ঘটনা আগাম বোঝা সব সময় সম্ভব নয়, ফলে একসঙ্গে বহু উপগ্রহ অকেজো হয়ে পড়ার আশঙ্কা থেকেই যায়।
6
9
এছাড়াও, সাম্প্রতিক বছরগুলিতে বাণিজ্যিক উপগ্রহ উৎক্ষেপণের হিড়িক পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। হাজার হাজার স্যাটেলাইট নিয়ে গঠিত মেগা-কনস্টেলেশন যেমন যোগাযোগ ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করছে।
7
9
তেমনই সংঘর্ষের ঝুঁকিও বহুগুণ বাড়াচ্ছে। যথাযথ আন্তর্জাতিক নিয়ন্ত্রণ ও সমন্বয়ের অভাব এই সংকটকে আরও গভীর করছে।
8
9
লো আর্থ অরবিটে কোনও বড় ধস নামলে তার প্রভাব শুধু মহাকাশেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। মোবাইল নেটওয়ার্ক ব্যাহত হওয়া, বিমান চলাচলে সমস্যা, আবহাওয়ার পূর্বাভাসে ভুল, এমনকি আর্থিক লেনদেনের ওপরও তার সরাসরি প্রভাব পড়তে পারে।
9
9
এই পরিস্থিতি এড়াতে প্রয়োজন কঠোর আন্তর্জাতিক নীতি, মহাকাশ আবর্জনা পরিষ্কারের প্রযুক্তিতে বিনিয়োগ এবং দায়িত্বশীল উপগ্রহ ব্যবস্থাপনা। অন্যথায়, কোনও সতর্ক সংকেত ছাড়াই লো আর্থ অরবিট ভেঙে পড়া শুধু সময়ের অপেক্ষা হয়ে থাকতে পারে।