লাইফ সাইকেল ফান্ড যাকে অনেক সময় টার্গেট ডেট ফান্ডও বলা হয়, এমন একটি মিউচুয়াল ফান্ড যেখানে বিনিয়োগের কৌশল আপনার বয়স ও অবসর গ্রহণের সম্ভাব্য সময় অনুযায়ী স্বয়ংক্রিয়ভাবে পরিবর্তিত হয়। অর্থাৎ, আপনি কবে অবসর নিতে চান তা ধরে নিয়ে ফান্ডটি ধীরে ধীরে ঝুঁকির মাত্রা কমিয়ে আনে।
2
9
ধরা যাক, আপনি ২৫ বছর বয়সে বিনিয়োগ শুরু করলেন এবং ৬০ বছর বয়সে অবসর নিতে চান। শুরুতে ফান্ডটি আপনার অর্থের বড় অংশ শেয়ারবাজারে (ইকুইটি) বিনিয়োগ করবে, কারণ দীর্ঘ সময় থাকায় ঝুঁকি নেওয়ার সুযোগ বেশি এবং সম্ভাব্য রিটার্নও বেশি।
3
9
কিন্তু সময়ের সাথে সাথে—অবসর যত ঘনিয়ে আসবে—ফান্ডটি ধীরে ধীরে ইকুইটি কমিয়ে বন্ড বা স্থিতিশীল আয়ের খাতে বেশি বিনিয়োগ করবে। এই প্রক্রিয়াকে “গ্লাইড পাথ” বলা হয়।
4
9
স্বয়ংক্রিয় সম্পদ বণ্টন: আপনাকে আলাদা করে বাজার পর্যবেক্ষণ করে শেয়ার-বন্ডের অনুপাত বদলাতে হয় না। ফান্ড ম্যানেজারই তা করে দেন।
5
9
সময় সাশ্রয়ী: বিনিয়োগ সম্পর্কে গভীর জ্ঞান না থাকলেও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা করা সহজ হয়। একটিমাত্র ফান্ডে বিনিয়োগ করেই বৈচিত্র্য পাওয়া যায়।
6
9
ঝুঁকি ধীরে ধীরে কমানো: অবসরের কাছাকাছি এসে বড় বাজার পতনের ঝুঁকি কমে, কারণ তখন ফান্ডটি তুলনামূলক নিরাপদ সম্পদে বেশি বিনিয়োগ করে।
7
9
মানসিক চাপ কমায়: বাজার ওঠানামা নিয়ে অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা কম হয়, কারণ বিনিয়োগ কৌশল আগেই নির্ধারিত।
8
9
যারা দীর্ঘমেয়াদি অবসর পরিকল্পনা করতে চান কিন্তু নিয়মিত পোর্টফোলিও রিব্যালান্স করতে চান না, তাদের জন্য লাইফ সাইকেল ফান্ড খুবই কার্যকর। বিশেষ করে নতুন বিনিয়োগকারী বা ব্যস্ত পেশাজীবীদের জন্য এটি সহজ ও কার্যকর সমাধান।
9
9
সবশেষে বলা যায়, লাইফ সাইকেল ফান্ড অবসর পরিকল্পনাকে সহজ, শৃঙ্খলাপূর্ণ ও লক্ষ্যভিত্তিক করে তোলে। সঠিক সালভিত্তিক ফান্ড নির্বাচন করে নিয়মিত বিনিয়োগ করলে ভবিষ্যতের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা অনেকটাই সহজ হয়ে যায়।