মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল হয়ে উঠছে। তবু সেই অস্থিরতার মাঝেও ইরান, তেল রপ্তানি সম্পূর্ণরূপে বন্ধ করেনি। ইরানের উপকূল থেকে প্রায় ৩০ কিলোমিটার দূরে, পারস্য উপসাগরের একটি ছোট দ্বীপ, ‘খর্গ’ নীরবে চালিয়ে যাচ্ছে সেই কাজ। আন্তর্জাতিক এক সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, এখান থেকেই দেশের অধিকাংশ অপরিশোধিত তেল আন্তর্জাতিক বাজারে পাঠানো হয়। যুদ্ধ পরিস্থিতির মাঝেও এখান থেকে তেলের ট্যাঙ্কার নিয়মিতভাবে রওনা দিচ্ছে বলে স্যাটেলাইট তথ্য ইঙ্গিত দিচ্ছে।
2
8
বর্তমানে আমেরিকা ও ইজরায়েলের সামরিক অভিযানের কারণে গোটা অঞ্চলে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। এর ফলে উপসাগরীয় অঞ্চলের বহু জ্বালানি কার্য্যালয়ের কাজে ব্যাঘাত ঘটেছে। বিশেষ করে বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ হরমুজ প্রণালী এখন বড় উদ্বেগের কেন্দ্র হয়ে উঠেছে।
3
8
সাম্প্রতিক তথ্য বলছে, ইরানের তেল এখনও এই পথ দিয়েই আন্তর্জাতিক বাজারে পৌঁছাচ্ছে। ট্যাঙ্কার পর্যবেক্ষণ সংস্থা ট্যাঙ্কার ট্র্যাকার্স–এর তথ্য অনুযায়ী, ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে এই প্রণালী দিয়ে ইরান-সংযুক্ত ট্যাঙ্কার প্রায় ১ কোটি ২০ লক্ষ ব্যারেল তেল পরিবহন করেছে। তবে প্রকৃত পরিমাণ আরও বেশি হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। কারণ ইরানের অনেক ট্যাঙ্কার ইচ্ছাকৃতভাবে তাদের ট্র্যাকিং সিস্টেম বন্ধ করে দেয়। ফলে তাদের গতিবিধি নজরদারিতে ধরা পড়ে না।
4
8
বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের মোট তেল রপ্তানির প্রায় ৮০ থেকে ৯০ শতাংশ খার্গ দ্বীপ থেকেই পাঠানো হয়। ফলে দ্বীপটি ইরানের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান আর্থিক লাইফলাইন। এই পরিস্থিতিতে দ্বীপটি এখন আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক তথা কূটনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রে চলে এসেছে। আমেরিকার প্রশাসনিক কিছু কর্মকর্তা, এই দ্বীপটি দখলের সম্ভাবনা আছে এই বিষয়ে আলোচনা করেছেন বলে একটি প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।
5
8
বিশ্লেষকদের মতে, যদি খার্গ দ্বীপের তেল টার্মিনাল দখল করা হয় বা অচল করে দেওয়া হয়, তবে ইরানের তেল রপ্তানির বড় অংশ হঠাৎ বন্ধ হয়ে যেতে পারে। এতে দেশের তেল উৎপাদন প্রায় অর্ধেকে নেমে আসতে পারে। তবে এমন পদক্ষেপ নিলে ইরান পাল্টা প্রতিক্রিয়া জানাতে পারে। তখন হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচল বা আঞ্চলিক জ্বালানি অবকাঠামোর উপর হামলার ঝুঁকি বাড়তে পারে বলেও আসঙ্কা করা হচ্ছে।
6
8
বর্তমানে ইরান প্রতিদিন প্রায় ৩৩ লক্ষ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল উৎপাদন করে। পাশাপাশি প্রায় ১৩ লক্ষ ব্যারেল কনডেনসেট ও অন্যান্য তরল জ্বালানি উৎপাদন হয়। সব মিলিয়ে এটি বিশ্বের তেল সরবরাহের প্রায় ৪.৫ শতাংশ অধিকার করে আছে।
7
8
ইরানের বড় তেলক্ষেত্রগুলি থেকে পাইপলাইনের মাধ্যমে তেল সরাসরি খার্গ দ্বীপে পৌঁছে যায়। এই তেল প্রথমে দ্বীপের বিশাল স্টোরেজ ট্যাঙ্কে জমা হয়। তারপর সেখান থেকে ট্যাঙ্কারে ভরে আন্তর্জাতিক বাজারে পাঠানো হয়। খার্গ দ্বীপে প্রায় তিন কোটি ব্যারেল তেল সংরক্ষণের ক্ষমতা রয়েছে। শিপিং বিশ্লেষণ সংস্থা কপলারের হিসাব অনুযায়ী বর্তমানে সেখানে প্রায় ১ কোটি ৮০ লক্ষ ব্যারেল তেল মজুত রয়েছে।
8
8
স্বাভাবিক পরিস্থিতিতে এই পরিমাণ তেল প্রায় ১০ থেকে ১২ দিনে রপ্তানি করা হয়ে থাকে। ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি সময়ে খার্গ দ্বীপ থেকে তেল রপ্তানি হঠাৎ বেড়ে যায়। বিশেষজ্ঞদের ধারণা, যুদ্ধ শুরুর আগে ইরান পরিস্থিতি আন্দাজ করতে পেরেছিল। ১৫ থেকে ২০ ফেব্রুয়ারির মধ্যে প্রতিদিন তিন মিলিয়নেরও বেশি ব্যারেল তেল রপ্তানি করা হয়। যা দেশের স্বাভাবিক রপ্তানির প্রায় তিন গুণ। বিশ্লেষকদের মতে, সম্ভাব্য যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগেই তেল দ্রুত বাজারে পাঠানোর জন্যই এই রপ্তানি বাড়ানো হয়েছিল।