এক দোষেই জীবন ছারখার, ভয়ঙ্কর কালসর্প দোষ ১২ প্রকার, কোন কোন সমস্যা? কীভাবে মুক্তি পাবেন?
নিজস্ব সংবাদদাতা
৪ জুন ২০২৬ ১৩ : ১২
শেয়ার করুন
1
23
জ্যোতিষশাস্ত্রমতে, কালসর্প দোষ কৃতকর্মের ফল৷ পূর্বজন্মের কিছু খারাপ কাজের ফলস্বরূপ এই জন্মে জন্মছকে কালসর্প দোষ দেঝা যায়৷
2
23
ভারতীয় বৈদিক জ্যোতিষশাস্ত্রের সবচেয়ে আলোচিত ও ভয়াবহ যোগগুলির অন্যতম ‘কাল সর্প দোষ’ বা ‘কাল সর্প যোগ’।
3
23
শব্দটির অর্থ — ‘সময়ের সর্প’। জাতকের কোষ্ঠীতে রাহু ও কেতু এই দুই ছায়াগ্রহ এমনভাবে অবস্থান করে যে বাকি সাত গ্রহ — সূর্য, চন্দ্র, মঙ্গল, বুধ, বৃহস্পতি, শুক্র ও শনি — সকলেই সেই দুই ছায়াগ্রহের ফাঁকে আটকে পড়ে।
4
23
চন্দ্র, রবি, বৃহস্পতি, শনি, বুধ,শুক্র এবং মঙ্গল এই সাতটি গ্রহ জীবনের বিভিন্ন ক্ষেত্রের চালিকাশক্তি বলে মনে করা হয় জ্যোতিষশাস্ত্রে৷ এই সাতটি গ্রহ লগ্ন, সম্পদ, সুখ, সন্তান, রোগ, গৃহাদি, ভাগ্য, কর্ম, প্রেম সবকিছুই দেখা হয়৷
5
23
১২ রকমের কালসর্প দোষ হয়৷ জন্মছকে রাহু কেতুর অবস্থানের উপর নির্ভর করে কালসর্প দোষের রকমফের৷
জ্যোতিষীরা বলেন, একবার এই কর্মফল মিটে গেলে জাতকের জীবন আবার নতুন উচ্চতায় উঠতে পারে। কালসর্প দোষের প্রভাব কম করার জন্য জ্যোতিষীর পরামর্শ, প্রতিদিন হনুমান চালিশা পাঠ করতে হবে৷ প্রতিদিন মহামৃত্যুঞ্জয় মন্ত্র ১০৮ বার পাঠ করা প্রয়োজন৷
21
23
প্রতিকারের পথও বাতলেছে শাস্ত্র। যোগ্য জ্যোতিষীর পরামর্শ অনুযায়ী রাহু-কেতুর পুজা করা প্রয়োজন।
কাল সর্প যন্ত্র স্থাপন করে ‘ওঁ ভুজঙ্গেশায় বিদ্মহে, সর্পরাজায় ধীমহি, তন্নো নাগঃ প্রচোদয়াৎ’ — সর্প গায়ত্রী মন্ত্র জপ করতে পারেন।
22
23
ভৈরবদেবের আরাধনা, শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা পাঠ, দুর্গাপুজোও বিশেষভাবে ফলপ্রদ বলে বিশ্বাস।
নাসিকের ত্রিম্বকেশ্বর, অন্ধ্রপ্রদেশের কালহস্তী, উজ্জয়িনী — এই তীর্থে কাল সর্প পুজোর আলাদা মাহাত্ম্য। নাগপঞ্চমীতে উপবাস ও দান-ধ্যানকেও উপায় হিসেবে দেখা হয়।
23
23
আধুনিক জ্যোতিষীরা মনে করিয়ে দেন, এই দোষ থাকলেই জীবন থেমে যায় না — সাফল্য পাওয়া বহু মানুষের কোষ্ঠীতেই এই যোগ আছে। শ্রদ্ধা, ধৈর্য ও সৎ পরিশ্রমই আসল প্রতিকার, ভয় নয়।