আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করে দিল আয়কর দফতর। ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষ জন্য ITR-1 (Sahaj), ITR-2, ITR-3 এবং ITR-4 (Sugam)-এর এক্সেল ইউটিলিটি প্রকাশ করা হয়েছে। পাশাপাশি চলতি করবর্ষের জন্য ITR-1 থেকে ITR-5 পর্যন্ত সমস্ত ফর্মও বিজ্ঞপ্তি জারি করে প্রকাশ করেছে কেন্দ্রীয় আয়কর দফতর।
2
10
এক্সেল ইউটিলিটি প্রকাশের ফলে করদাতারা এবার অফলাইনে নিজের রিটার্ন প্রস্তুত করতে পারবেন। প্রয়োজনীয় তথ্য পূরণ করার পর তা আয়কর দফতরের ই-ফাইলিং পোর্টালে আপলোড করে জমা দেওয়া যাবে। করদাতাদের ইউজার আইডি এবং পাসওয়ার্ড ব্যবহার করে লগ-ইন করে রিটার্ন দাখিল করতে হবে। নির্ধারিত সময়সীমা অনুযায়ী, ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে রিটার্ন জমা দেওয়ার সুযোগ থাকবে।
3
10
ITR-1 ফর্মে কী কী পরিবর্তন হয়েছে? চলতি বছরে ITR-1 (Sahaj) ফর্মে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনা হয়েছে। সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন হল, আগে ITR-1-এ শুধুমাত্র একটি বাড়ির আয় দেখানোর সুযোগ ছিল। এখন করদাতারা সর্বাধিক দুটি বাড়ি থেকে প্রাপ্ত আয়ের তথ্য এই ফর্মেই উল্লেখ করতে পারবেন।
4
10
এছাড়া, ভাড়াবাড়ির ক্ষেত্রে আদায় করা সম্ভব হয়নি এমন ভাড়ার জন্য নতুন একটি নির্দিষ্ট ঘর বা ফিল্ড যুক্ত করা হয়েছে। ফলে যাঁরা ভাড়া না পাওয়ার সমস্যার মুখে পড়েছেন, তাঁদের আয় দেখানো আরও সহজ হবে। অন্যদিকে, বিদেশে অবসরকালীন সুবিধা বা রিটায়ারমেন্ট বেনিফিট সংক্রান্ত তথ্য জানানোর বাধ্যবাধকতাও ITR-1 থেকে তুলে দেওয়া হয়েছে।
5
10
আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়ার সময় কী কী বিষয়ে সতর্ক থাকবেন? আয়কর দফতর করদাতাদের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় মাথায় রাখার পরামর্শ দিয়েছে। প্রথমেই নিজের জন্য সঠিক করব্যবস্থা বেছে নিতে হবে। একবার সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে কোন ব্যবস্থায় কম কর দিতে হবে, তা ভালোভাবে হিসাব করে নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ।
6
10
রিটার্ন জমা দেওয়ার আগে অবশ্যই Annual Information Statement (AIS) এবং Form 26AS ডাউনলোড করে টিডিএস, টিসিএস এবং জমা দেওয়া করের তথ্য মিলিয়ে দেখতে হবে। কোনও অসঙ্গতি থাকলে তা নিয়োগকারী সংস্থা, ব্যাংক বা সংশ্লিষ্ট কর কর্তনকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে মিলিয়ে সংশোধন করে নেওয়া উচিত। এছাড়া Form 16, ব্যাংক স্টেটমেন্ট, সুদের শংসাপত্র, বিনিয়োগের প্রমাণপত্র এবং কর ছাড় দাবি করার প্রয়োজনীয় নথিগুলি আগে থেকেই প্রস্তুত রাখতে হবে।
7
10
রিটার্নে আগে থেকে দেওয়া তথ্য যেমন PAN, স্থায়ী ঠিকানা, মোবাইল নম্বর, ই-মেল এবং ব্যাংক অ্যাকাউন্টের তথ্য সঠিক রয়েছে কি না, সেটিও ভালোভাবে যাচাই করা জরুরি। সঠিক ITR ফর্ম নির্বাচন করাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নিজের আয়ের উৎস অনুযায়ী ITR-1 থেকে ITR-7-এর মধ্যে উপযুক্ত ফর্ম বেছে নিয়ে মোট আয়, করছাড়, কর প্রদান এবং অন্যান্য তথ্য সঠিকভাবে পূরণ করতে হবে। রিটার্নের সঙ্গে কোনও নথি আলাদা করে সংযুক্ত করার প্রয়োজন নেই।
8
10
নির্ধারিত সময়ের মধ্যে রিটার্ন জমা না দিলে কী হবে? ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে রিটার্ন জমা না দিলে বিলম্ব ফি হিসেবে সর্বাধিক ৫,০০০ টাকা পর্যন্ত জরিমানা দিতে হতে পারে। এছাড়া কর বকেয়া থাকলে তার উপর সুদও প্রযোজ্য হবে। পাশাপাশি কিছু করছাড় এবং ক্ষতির সুবিধাও ভবিষ্যতে বহন করা যাবে না। রিটার্ন জমা দেওয়ার পর অবশ্যই ই-ভেরিফিকেশন সম্পূর্ণ করতে হবে। কেউ চাইলে ITR-V-এর স্বাক্ষর করা কপি ৩০ দিনের মধ্যে স্পিড পোস্টের মাধ্যমে বেঙ্গালুরুর সেন্ট্রালাইজড প্রসেসিং সেন্টারে পাঠিয়েও ভেরিফিকেশন করতে পারেন।
9
10
আগের বছরের ITR কি এখনও জমা দেওয়া যাবে? হ্যাঁ। যাঁরা আগের চারটি অ্যাসেসমেন্ট ইয়ারের রিটার্ন জমা দিতে পারেননি, তাঁরা ITR-U ফর্মের মাধ্যমে সেই রিটার্ন দাখিল করতে পারবেন। তবে চলতি অ্যাসেসমেন্ট ইয়ার ২০২৬-২৭-এর জন্য নিয়মিত ITR-ই জমা দিতে হবে।
10
10
বিশেষজ্ঞদের মতে, শেষ মুহূর্তের জন্য অপেক্ষা না করে প্রয়োজনীয় নথি আগে থেকেই প্রস্তুত রেখে সময়মতো রিটার্ন জমা দিলে অপ্রয়োজনীয় জরিমানা এবং জটিলতা এড়ানো সম্ভব।