পশ্চিমবঙ্গে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হল জনগণনা ২০২৭-এর প্রথম পর্যায়ের কাজ। সোমবার, ১৬ আগস্ট থেকে রাজ্যজুড়ে শুরু হয়েছে গৃহতালিকা প্রস্তুতিকরণ ও গৃহগণনা (Houselisting Operations)। এই পর্বের কাজ চলবে আগামী ১৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত।
2
9
প্রথম পর্যায়ের বাড়ি বাড়ি গণনার আগে ১ থেকে ১৫ অগস্ট পর্যন্ত রাজ্যবাসীর জন্য স্ব-গণনা বা Self-Enumeration-এর সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। জনগণনা দফতরের তরফে জানানো হয়েছে, এই পর্বে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে ব্যাপক সাড়া মিলেছে। পশ্চিমবঙ্গের আনুমানিক মোট পরিবারের প্রায় এক-চতুর্থাংশ পরিবার ডিজিটাল স্ব-গণনা ব্যবস্থার মাধ্যমে নিজেদের তথ্য সফলভাবে জমা দিয়েছে।
3
9
স্ব-গণনা পর্ব শেষ হওয়ার পর এবার শুরু হয়েছে বাড়ি বাড়ি গিয়ে গৃহতালিকা প্রস্তুতির কাজ। যেসব পরিবার Self-Enumeration-এর মাধ্যমে তথ্য জমা দিতে পারেনি, তাদের চিন্তার কোনও কারণ নেই বলে জানিয়েছে জনগণনা দফতর। নির্ধারিত গৃহতালিকা ব্লকে গণনাকারীরা গিয়ে ‘Census 2027-HLO’ অ্যাপের মাধ্যমে মোবাইল ডিভাইসে ডিজিটাল পদ্ধতিতে তথ্য সংগ্রহ করছেন।
4
9
প্রতিটি পরিবারের কাছে আগে থেকে নোটিফাই করা প্রশ্নের ভিত্তিতে পরিবারের সাধারণ বিবরণ, পরিবারের জন্য উপলব্ধ সুযোগ-সুবিধা এবং পরিবারের কাছে থাকা সম্পদ সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। যাঁরা স্ব-গণনা প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করেছেন, তাঁদের সেই প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করার জন্য গণনাকারীর কাছে প্রাপ্ত Self-Enumeration ID প্রদান করতে হবে।
5
9
এই গোটা প্রক্রিয়ায় গণনাকারীদের কাজ তদারকির জন্য প্রত্যেক সুপারভাইজারের অধীনে প্রায় ছয়জন করে গণনাকারী কাজ করছেন। তাঁদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা ও সহায়তা দেওয়ার পাশাপাশি তথ্য সংগ্রহের কাজও পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
6
9
জনগণনা দপ্তরের মতে, ‘Census 2027-HLO App’-এর মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহ জনগণনা পরিচালনায় আধুনিক, দক্ষ ও প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থার দিকে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। ডিজিটাল পদ্ধতিতে তথ্য সংগ্রহের এই উদ্যোগ ‘ডিজিটাল ইন্ডিয়া’ এবং ‘বিকশিত ভারত @ ২০৪৭’-এর লক্ষ্যের সঙ্গেও সামঞ্জস্যপূর্ণ।
7
9
জনগণনা ২০২৭-এর কাজের ব্যবস্থাপনা ও নজরদারির জন্য Census Management and Monitoring System (CMMS) এবং Houselisting Block Creation (HLBC)-এর মতো একাধিক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করা হচ্ছে। গণনাকারী ও সুপারভাইজারদের নিয়োগপত্র এবং পরিচয়পত্রও ডিজিটাল পদ্ধতিতে প্রস্তুত করা হয়েছে।
8
9
এদিকে, জনগণনা নিয়ে রাজ্যজুড়ে সচেতনতা ও প্রচার কর্মসূচিও চালানো হয়েছে। জনগণনা দপ্তরের অফিসিয়াল সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম এবং টোল-ফ্রি হেল্পলাইন ১৮৫৫ নম্বরের মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে প্রয়োজনীয় তথ্য ও সহায়তা দেওয়াও হচ্ছে। সোমবার থেকে শনিবার সকাল সাড়ে ৯টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত জনগণনা সংক্রান্ত বিষয়ে হেল্পলাইনে যোগাযোগ করা যাবে।
9
9
জনগণনা দপ্তর পশ্চিমবঙ্গের তরফ থেকে জানানো হয়েছে, প্রথম দফায় বাড়ি চিহ্নিতকরণ হবে। যদি প্রথম বার জনগণনাকারী ব্যক্তি বাড়িতে কোনও সদস্যকে না পান , সেক্ষেত্রে বাড়ির বাইরে নিজের যোগাযোগ নম্বর লাগিযে দিয়ে আসবেন। বাড়ির সদস্যরা সেই নম্বরে ফোন করে যোগাযোগ করে নিতে পারবেন। পাশাপাশি যতক্ষণ না কোনও বাড়ির বাসিন্দাকে পাওয়া যাচ্ছে, ততবার জনগণনাকারীকে নিজের নির্দিষ্ট এলাকায় গিয়ে পুরো কাজ সেপ্টেম্বরের মধ্যে শেষ করতে হবে।