বিরোধী দল ভেঙে বিধায়ক টেনে মহারাষ্ট্রে সরকার গড়েছে বিজেপি। কিন্তু ক্ষমতার অলিন্দে যখন দলবদলের নাটক চলছে, তখন রাজ্যের সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনে নেমে এসেছে চরম অর্থনৈতিক সংকট। ঠিক এই আবহেই সুবিধাবাদী ও নীতিহীন ক্ষমতার রাজনীতির বিপরীতে দাঁড়িয়ে এক স্বচ্ছ, পরিচ্ছন্ন রাজনীতির ডাক দিয়ে ময়দানে নামল সিপিআই(এম)।
2
8
'স্বচ্ছ রাজনীতির পক্ষে আন্দোলন'—এই স্লোগানকে সামনে রেখেই রাজ্যজুড়ে মিছিল ও গণসমাবেশের ডাক দিয়েছে দলটি। সম্প্রতি বিড জেলার পারালি এবং ওয়ার্ধা শহরে আয়োজিত এই প্রতিবাদ কর্মসূচিতে কেবল দলীয় কর্মী-সমর্থকরাই নন, শামিল হয়েছেন সমাজের নানা স্তরের সাধারণ মানুষও।
3
8
একদিকে ক্ষমতার খেলা, অন্যদিকে প্রতিদিনের বেঁচে থাকার লড়াইয়ে সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাস উঠছে। মহারাষ্ট্রে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দামের ধাক্কায় সংসার চালাতে হিমশিম খাচ্ছে মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত পরিবারগুলো। সেপ্টেম্বরের শুরুতেই এক লাফে প্রতি লিটার মোষের দুধের দাম ৯ টাকা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১০২ টাকায়।
4
8
পরিবহন জ্বালানি সিএনজি-র দাম কেজিপ্রতি ২ টাকা বেড়ে হয়েছে ৮৮ টাকা। আর জ্বালানির দাম বাড়ার সরাসরি প্রভাব পড়েছে গণপরিবহনে—ন্যূনতম অটো ভাড়া বেড়ে হয়েছে ২৭ টাকা এবং ট্যাক্সি ভাড়া হয়েছে ৩৩ টাকা। ফলে বাজারে গেলে বা যাতায়াত করতে গেলেই সাধারণ মানুষের পকেটে টান পড়ছে।
5
8
এই দুরবস্থার জন্য রাজ্যের বিজেপি নেতৃত্বাধীন জোট সরকারকে সরাসরি দায়ী করেছে সিপিআই(এম)। বিরোধী এনসিপি ও শিবসেনার একাংশকে ভাঙিয়ে গদিতে বসা এই জোট সরকার জনজীবনের সমস্যা মেটানোর চেয়ে দলভাঙা আর ক্ষমতার রাজনীতিতেই বেশি ব্যস্ত।
6
8
পারালি এবং ওয়ার্ধার মিছিলে এই জনবিরোধী ও নীতিহীন রাজনীতির বিরুদ্ধে বিকল্প রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়ে তোলার বার্তা দেওয়া হয়। মিছিলে অংশ নেওয়ার পর অনুষ্ঠিত হয় গণ কনভেনশন, যেখানে সাধারণ মানুষকে একজোট হয়ে রুখে দাঁড়ানোর আহ্বান জানানো হয়।
7
8
প্রতিবাদ সভায় সিপিআই(এম) পলিট ব্যুরো সদস্য অশোক ধাওলে ও মরিয়ম ধাওলে, রাজ্য সম্পাদক অজিত নাওলে এবং কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য বিনোদ নিকোলে উপস্থিত ছিলেন। আরএসএস ও বিজেপির রাজনীতির কঠোর সমালোচনা করে অশোক ধাওলে বলেন, কর্পোরেট ও সাম্প্রদায়িক শক্তির আঁতাত দেশের রাজনীতিকে কলুষিত করে তুলছে।
8
8
জনগণের রায়কে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে টাকার জোরে সরকার গড়া হচ্ছে এবং বিরোধী জনপ্রতিনিধিদের কেনাবেচা করা হচ্ছে। এমনকি রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিলে প্রশাসনিক ব্যবস্থা ও ডিলিমিটেশনকে ব্যবহার করা হচ্ছে সাধারণ মানুষকে অধিকারহীন করার জন্য। এই পরিস্থিতিতে রাজনীতিকে ক্ষমতার খেলা আর দুর্নীতির পাঁক থেকে বের করে আনতে সিপিআই(এম)-এর মতো গণমুখী শক্তিকে আরও সক্রিয় ও শক্তিশালী ভূমিকা পালন করতে হবে বলে তিনি স্পষ্ট বার্তা দেন।