বিদ্যুৎ সঙ্কটে ভুগছে গোটা বাংলাদেশ। দেশবাসী সেই সঙ্কটের হাত থেকে রেহাই দিতে বিদেশ থেকে অতিরিক্ত বিদ্যুৎ কেনার কথা ভাবছে তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ সরকার।
2
13
বিদ্যুৎ সঙ্কটের জেরে আমজনতার মধ্যে তীব্র হচ্ছে ক্ষোভ। বাংলাদেশের বেশ কিছু এলাকার বাসিন্দাদের এই নিয়ে রাস্তায় নামতেও দেখা গিয়েছে। এতদিন ভারতের থেকে ১১ টাকা (বাংলাদেশি টাকা) প্রতি ইউনিটে বিদ্যুৎ কিনত বাংলাদেশ। তারাই এবার পরিস্থিতি সামাল দিতে চিনের থেকে ২৫ টাকা প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ কিনতে রাজি হয়েছে।
3
13
অর্থাৎ, ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে যে দামে বিদ্যুৎ কিনত বাংলাদেশ তার চেয়ে ১২৭ শতাংশ বেশি দামে চিনা সংস্থার থেকে বিদ্যুৎ কিনতে রাজি হয়েছে তারেক রহমানের সরকার। কিন্তু কেন এই সিদ্ধান্ত? এত সস্তায় বিদ্যুৎ পাওয়া সত্ত্বেও বাংলাদেশ কেন নিজের পায়ে কুড়ুল মারছে?
4
13
বিদ্যুতের জন্য ভারতের উপর প্রবলভাবে নির্ভরশীল বাংলাদেশ। এই রপ্তানি হওয়া বিদ্যুতের লেনদেনের জন্য রয়েছে একটি সেটলমেন্ট নোডাল এজেন্সি। এই বছর আগস্ট মাসে ভারতের কেন্দ্রীয় বিদ্যুৎ নিয়ন্ত্রক কমিশন সিদ্ধান্ত নেয় প্রতি সেটলমেন্টে ০.০১ টাকা (ভারতীয় টাকা) চার্জ বাড়ানো হবে।
5
13
এরপরেই আতঙ্কিত হয়ে পড়ে ঢাকা। এই দাম বৃদ্ধির বিষয়ে নয়াদিল্লিকে অনুরোধ করা ঢাকার তরফে। পরে ঢাকার অনুরোধ মেনে সেই চার্জ অর্ধেক করে ০.০০৫ টাকা করে দেওয়া হয়। তাতেও ঢাকার মন গলেনি। উল্টে চিনা সংস্থার থেকে বিদ্যুৎ কেনার বিষয়ে সিলমোহর দেওয়া হয়।
6
13
ঢাকার আমিনবাজার ধাপায় একটি ৪২ মেগাওয়াটের বিদ্যুৎ প্রকল্প চালু করতে চাইছে তারেক রহমানের সরকার। বর্জ্য থেকে এই বিদ্যুৎকেন্দ্র বিদ্যুৎ তৈরি করা হবে। বরাত দেওয়া হয়েছে একটি চিনা সংস্থাকে। প্রকল্পটি মূলত রাজধানীর ক্রমবর্ধমান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা সঙ্কট মোকাবেলার উদ্দেশ্যে করা হচ্ছে। যদিও এটি বাংলাদেশে ভারতের বিপুল পরিমাণ বিদ্যুৎ সরবরাহের বিকল্প হবে না।
7
13
এই প্রকল্পে বিদ্যুৎ পেতে বাংলাদেশকে ২৫ টাকা (বাংলাদেশি টাকা) প্রতি ইউনিট খরচ করতে হবে। ভারত থেকে কিনতে সেই খরচ ছিল মাত্র ১১ টাকা (বাংলাদেশি টাকা)। ০.০০১ টাকা (ভারতীয় টাকা) চার্জ আরোপ করলেও ভারতের চেয়ে ১২৭ শতাংশ বেশি দাম দিয়ে বিদ্যুৎ কিনতে রাজি হয়েছে ঢাকা।
8
13
বাংলাদেশের সংবাদমাধ্য দ্য ডেইলি স্টারের মতে, ২০২১-২৫ অর্থবর্ষের মধ্যে আমদানি করা বিদ্যুতের গড় খরচ দ্বিগুণেরও বেশি বেড়েছে। এই পাঁচ বছরে ইউনিট প্রতি ৫.৮২ টাকা থেকে বেঁড়ে ১১.৭২ টাকায় (বাংলাদেশি টাকা) দাঁড়িয়েছে। আমিনবাজার বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ প্রকল্পের জন্য প্রস্তাবিত ইউনিট প্রতি ২৫ টাকা (বাংলাদেশি টাকা) ট্যারিফ, ২০২৫ অর্থবর্ষে বাংলাদেশে আমদানি করা বিদ্যুতের গড় মূল্যের দ্বিগুণেরও বেশি হবে।
9
13
২০২৫ অর্থবর্ষে বাংলাদেশের মোট বিদ্যুৎ ক্রয় খরচের প্রায় ১৫.৮ শতাংশই ছিল ভারত থেকে আমদানি করা বিদ্যুৎ। দ্য ডেইলি স্টারের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সে বছর প্রায় ১,২১,৪২০ কোটি টাকা (বাংলাদেশি মুদ্রায়)-র মোট বিদ্যুৎ কিনেছে ঢাকা। যার মধ্যে ভারতকে প্রায় ১৯,২২৫ কোটি টাকা (বাংলাদেশি মুদ্রায়) পরিশোধ করা হয়েছে।
10
13
ঢাকার আমিনবাজারের ভাগাড় থেকে উৎপাদিত বিদ্যুৎ প্রকল্পটির ক্ষমতা হবে ৪২ মেগাওয়াট। পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী ১৮ মাসের মধ্যে উৎপাদন শুরু হতে পারে। ২০২৮ সালের অগস্ট-সেপ্টেম্বর নাগাদ জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহের সম্ভাবনা রয়েছে।
11
13
এই প্রকল্পে বাংলাদেশ সরকারকে সরাসরি কোনও বিনিয়োগ করতে হবে না। কারণ চিনা বিনিয়োগকারী সংস্থা শুধু বিদ্যুৎ উৎপাদন করবে না, আমিনবাজারের আবর্জনা প্রক্রিয়াকরণ এবং সেই বর্জ্য থেকে জৈব সার উৎপাদনও করবে। এর পাশাপাশি, ভাগাড় ব্যবহারের জন্য ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনকে মাসে মাসে টাকাও দেবে সংস্থাটি। অর্থাৎ, প্রকল্পটির লক্ষ্য একসঙ্গে আবর্জনা ব্যবস্থাপনা, বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং পরিবেশ রক্ষা।
12
13
প্রতি ইউনিট ২৫ টাকা দাম শুনতে বেশি মনে হতে পারে, এ কথা স্বীকার করেছেন বাংলাদেশের স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমও। তবে তাঁর যুক্তি, এই প্রকল্পের লাভ শুধু বিদ্যুৎ উৎপাদনে সীমাবদ্ধ নয়। আবর্জনা কমানো, পরিবেশ দূষণ নিয়ন্ত্রণ এবং কার্বন ক্রেডিট থেকে আয়, এই সব মিলিয়ে প্রকল্পের অতিরিক্ত খরচ সামলানোর চেষ্টা করা হবে। বাংলাদেশের যুক্তি, তারা আসলে শুধু বিদ্যুৎ কিনছে না, আবর্জনা ব্যবস্থাপনা ও পরিবেশগত সুবিধার জন্যও খরচ করছে।
13
13
বাংলাদেশের চিন-ঘনিষ্ঠতা, মক্কা চুক্তিতে অন্তর্ভূক্ত হওয়ার ইচ্ছে প্রকাশ-সহ সাম্প্রতিক নানা পদক্ষেপে ভ্রু কুঁচকেছে রাজনৈতিক মহল। ভারত এখনও এ ব্যাপারে কোনও মন্তব্য না করলেও বিদেশ মন্ত্রকের তরফে জানানো হয়েছে যে, সব ঘটনাপ্রবাহের উপর নজর রাখা হচ্ছে।