বাসে বা ট্রেনে যাওয়ার পথে হকারদের কাছ থেকে সবুজ মটর ভাজার প্যাকেট কিনে নেওয়া অনেকেরই অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। অনেকেই মনে করেন, সুস্বাদু ও পুষ্টিকর সবুজ মটরশুঁটিই খাচ্ছেন। কিন্তু এই মুখরোচক খাবারটির আড়ালে লুকিয়ে রয়েছে এক রহস্য।
2
10
অনুসন্ধানে জানা গিয়েছে, বাজারে যে উজ্জ্বল সবুজ মটর বিক্রি হচ্ছে, তা আদতে আসল সবুজ মটরশুঁটি নয়। শিয়ালদহ বৈঠকখানা বাজারের এক ব্যবসায়ীর কথায়, বাজারে এত পরিমাণ আসল সবুজ মটর জোগাড় করা অসম্ভব।
3
10
কারিগরেরা সাধারণ মটরের সঙ্গে কৃত্রিম রং মিশিয়ে এই ‘সবুজ মটর’ তৈরি করে খুচরো ব্যবসায়ীদের কাছে পৌঁছে দেয়। ৫ বা ১০ টাকার প্যাকেটে প্রতিদিন শুধু শিয়ালদহ শাখার এক- একজন হকারই প্রায় চার-পাঁচ কেজি করে এমন মটর বিক্রি করেন।
4
10
ট্রেন ও বাসের কয়েকশো হকারের হিসেব মেলালে দেখা যাচ্ছে, কলকাতা ও তার আশপাশের জেলায় প্রতিদিন শত শত কেজি এই ভেজাল মটর বিক্রি হচ্ছে।
5
10
আসল মটরের সঙ্গে এর ফারাক বেশ স্পষ্ট। আসল শুকনো মটরশুঁটির রং এত বেশি গাঢ় হয় না এবং তার দামও কিছুটা বেশি।
6
10
অন্যদিকে, রং করা মটর প্রসেস করার ফলে তা হলুদ মটর ভাজার চেয়েও তুলনামূলকভাবে নরম হয় এবং সহজে কামড় দেওয়া যায়। ফলে সাধারণ মানুষ না বুঝেই এর প্রতি আকৃষ্ট হচ্ছেন।
7
10
সবচেয়ে আশঙ্কার বিষয় হলো, মটরে যে সবুজ রং ব্যবহার করা হচ্ছে, তা কোনও খাদ্যপযোগী রং (ফুড কালার) নয়।
8
10
বরং এতে দেদার মেশানো হচ্ছে শিল্পক্ষেত্রে ব্যবহৃত বিষাক্ত রাসায়নিক বা ইন্ডাস্ট্রিয়াল কালার। বিশেষ করে শিশুরাই এই খাবারের মূল গ্রাহক, যা তাদের মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকির মুখে ঠেলে দিচ্ছে।
9
10
বিশেষজ্ঞদের মতে, আসল মটরশুঁটিতে আয়রন, ফসফরাস, ফোলেট এবং ভিটামিন এ, সি ও কে-র মতো দরকারী পুষ্টিগুণ থাকে।
10
10
এর প্রোটিন ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে ও পেশীর শক্তি বাড়াতে সাহায্য করে। কিন্তু এই কৃত্রিম রং দেওয়া মটর খেলে পেটের সমস্যা ও হজমের গণ্ডগোল তো বটেই, দীর্ঘমেয়াদে শরীরে বাসা বাঁধতে পারে ক্যান্সারের মতো মারণ রোগও।