একে অন্যকে টক্কর দিচ্ছে কড়া। শুক্রবার ইরানে হামলা চালায় ইজরায়েল। একসঙ্গে ২০০ বিমান হামলা চালায় ইরান জুড়ে। কয়েকঘণ্টায় পাল্টা প্রত্যাঘাত। শনিবার রাতেও দফায় দফায় হামলা, বিস্ফোরণ, মৃত্যু মিছিল। তেহরান বনাম তেল আভিভের এই যুদ্ধে কে এগিয়ে? ইরানি মিসাইল, নাকি ইজরায়েলের উন্নত বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা?
2
12
স্থলভাগে সামরিক বাহিনীর সংখ্যার দিক থেকে ইরান ইজরায়েলের চেয়ে সংখ্যাগতভাবে এগিয়ে। বিশ্বের ১৪তম বৃহত্তম স্থায়ী সেনাবাহিনী, যার মধ্যে ৬ লক্ষ সক্রিয় সৈন্য এবং প্রায় ৩.৫ লক্ষ রিজার্ভ সৈন্য রয়েছে। ইরানের রয়েছে ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পস।
3
12
তুলনায় ইজরায়েল, একটি ছোট দেশ। সক্রিয় সৈন্য সংখ্যা ১.৭০ লক্ষ। তবে ইজরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর (IDF) উচ্চ প্রশিক্ষিত ৪.৫ লক্ষ রিজার্ভ সৈন্য রয়েছে। গ্লোবাল ফায়ারপাওয়ার ইনডেক্স অনুসারে, ইসরায়েলি সেনাবাহিনী বিশ্ব সেনাবাহিনীর মধ্যে ১৭তম স্থানে রয়েছে।
4
12
ইরানের আধাসামরিক বাহিনীতেও ২২০,০০০ সদস্য রয়েছে, যা ইসরায়েলের ৩৫,০০০ প্যারা ট্রুপারের চেয়ে সংখ্যার বিচারে অনেকটাই বেশি।
5
12
অন্যদিকে ইজরায়েল এয়ার ফোর্স অনেক উন্নত। ইসরায়েলি বিমান বাহিনীকে বিশ্বব্যাপী প্রযুক্তিগতভাবে সবচেয়ে উন্নত বলে মনে করা হয়। সেখানে ৮৯,০০০ সক্রিয় কর্মী রয়েছেন, যা ইরানের ৪২,০০০-এর দ্বিগুণেরও বেশি।
6
12
বিমানের হিসেবে- ইরানের ৩৫৮টি সক্রিয় বিমান রয়েছে এবং ৫৫১টি রিজার্ভ রয়েছে। ইজরায়েলের ৪৯০টি কার্যকরী বিমান রয়েছে এবং ৬১২টি রিজার্ভ রয়েছে।
7
12
যুদ্ধবিমানের বিচারে- ইজরায়েল ২৪১টি সক্রিয় যুদ্ধবিমান রয়েছে। যার মধ্যে ১৯৩টি তাৎক্ষণিকভাবে মোতায়েনের জন্য প্রস্তুত। অন্যদিকে ইরানের ১৮৬টি কার্যকরী যুদ্ধবিমান রয়েছে, যার মধ্যে ১২১টি প্রস্তুত রয়েছে।
8
12
ইজরায়েলি যুদ্ধবিমানের বহরে পঞ্চম প্রজন্মের স্টিলথ ফাইটার F-35I আদির, F-15 এবং F-16 যুদ্ধবিমানের মতো উন্নত বিমান রয়েছে। ইরানের যুদ্ধবিমানগুলি অনেক পুরনো এবং নিষেধাজ্ঞার কারণে সঠিক রক্ষণাবেক্ষণের অভাব রয়েছে। তথ্য, ইজরায়েলের কাছে ২৪০ এবং ইরানের কাছে ১৮৮টি যুদ্ধবিমান রয়েছে।
9
12
ইরানের ১০৭টি বিভিন্নি ধরনের নৌযান রয়েছে, সেখানে ইজরায়েলের রয়েছে ৬২টি। ইরানের নৌবাহিনী ব্যবহার করে সাতটি ফ্রিগেট, যা নেই ইজরায়েলের।
10
12
ড্রোনের প্রযুক্তি এবং সংখ্যায় ইজরায়ের শীর্ষে। ইজরায়েল-ইরান দু’ দেশের কাছেই রয়েছে বিভিন্ন ধরনের কামান-ট্যাঙ্ক। ফায়ারপাওয়ার ইনডেক্সের তথ্য, ইরানের মোট ১,৯৯৬টির মধ্যে ১,৩৯৭টি যুদ্ধ-প্রস্তুত ট্যাঙ্ক রয়েছে। ইজরায়েলের মোট ১,৩৭০টি ট্যাঙ্ক রয়েছে, যার মধ্যে ১,০৯৬টি সক্রিয় পরিষেবা প্রদান করছে।
11
12
ইরানের কাছে ৩০০০-এরও বেশি উন্নত ব্যালিস্টিক এবং ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের ভাণ্ডার রয়েছে, যার মধ্যে হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে যা ম্যাক ৫ গতিতে (শব্দের গতির পাঁচ গুণ) পৌঁছাতে পারে। ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ভাণ্ডারের মধ্যে রয়েছে, শাহাব-৩ (২০০০ কিমি পাল্লা), ফাতেহ-১১০ (৩০০ কিমি), খায়বার শেকান (১,৪৫০ কিমি), এবং ফাত্তাহ হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র।
12
12
ইজরায়েলের ক্ষেপণাস্ত্র ভাণ্ডার ছোট, তবে এর ক্ষেপণাস্ত্রগুলিকে ইরানের তুলনায় আরও উন্নত এবং আধুনিক বলে মনে করা হয়। তেল আভিভের ভাণ্ডারে রয়েছে LORA এয়ার-লঞ্চড ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, স্পাইস-২০০০, ডেলিলা এবং পাইথন সিরিজের গাইডেড ক্ষেপণাস্ত্র এবং ৪৮০০ কিলোমিটারেরও বেশি পাল্লার পারমাণবিক-সক্ষম জেরিকো III ICBM।