সারা বিশ্বজুড়ে কুসংস্কার এবং বহু পুরনো বিশ্বাস সামাজিক রীতিনীতিকে প্রভাবিত করে চলেছে। যা কখনও কখনও বিপজ্জনক চরম পর্যায়ে পৌঁছে যায়।
2
9
এই ধরনের বিশ্বাস প্রায়শই ক্ষতিকর ঘটনার ঘটিয়েছে। যার মধ্যে নরবলিও রয়েছে। তবে ঝাড়খণ্ডের একটি গ্রাম এমন একটি ঐতিহ্য অনুসরণ করে, যাকে তারা কুসংস্কারের পরিবর্তে সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য বলে মনে করে।
3
9
ঝাড়খণ্ডের লোহোরডাগা জেলার খুখরা গ্রামে স্থানীয়দের বিশ্বাস, তাঁদের গ্রামের একটি পাহাড় যে কোনও মহিলার গর্ভে থাকা সন্তানের লিঙ্গের ভবিষ্যদ্বাণী করে দেয়।
4
9
গ্রামবাসীরা দাবি করেন, এই বিশ্বাসটি প্রায় চারশো বছর ধরে প্রচলিত আছে। প্রসবের পূর্বে লিঙ্গ নির্ধারণ ভারতে অবৈধ। শুধুমাত্র কঠোর পরিস্থিতিতেই অনুমোদিত হওয়া সত্ত্বেও এই প্রথাটি এখনও প্রচলিত রয়েছে।
5
9
স্থানীয় বিশ্বাস মতে, গ্রামের কাছের একটি পাহাড়ের উপর চাঁদের মতো একটি চিহ্ন দেখে বোঝা যায় যে গর্ভবতী মহিলা ছেলে না মেয়ে সন্তান প্রসব করবেন।
6
9
গ্রামবাসীদের দাবি, এই প্রথার উৎসকে নাগবংশী বংশের শেষ শাসক রাজা চিন্তামণি শরণ নাথ শাহদেও-এর শাসনকালে। তাঁদের আরও দাবি, পাহাড়ের দেখানো চিহ্নগুলি সব সময় সঠিক প্রমাণিত হয়েছে।
7
9
এই আচারের অংশ হিসেবে গর্ভবতী নারীরা একটি নির্দিষ্ট দূরত্ব থেকে চাঁদের আকৃতির চিহ্নের দিকে পাথর ছোড়েন। যদি পাথরটি আকৃতিটির ভেতরে পড়ে, তবে বিশ্বাস করা হয় যে পুত্র সন্তানের জন্ম হবে। যদি বাইরে পড়ে, তবে কন্যা সন্তানের জন্ম হবে বলে আশা করা হয়।
8
9
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, তাঁরা এই রীতিটি ভক্তি এবং বিশ্বাসের সঙ্গে পালন করেন। এর ফলাফল তাঁদের বিশ্বাসকে আরও দৃঢ় করে তুলেছে। গ্রামবাসীরা আরও দাবি করেন যে, এই প্রথার ফলে যে লিঙ্গই সামনে আসুক না কেন, তার ফলে কোনও প্রকারের লিঙ্গবৈষম্যের সৃষ্টি হয় না।
9
9
যদিও স্থানীয় কর্তৃপক্ষ এবং চিকিৎসারা বারবার বলছেন যে, গর্ভাবস্থায় লিঙ্গ নির্ধারণ করা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। (এই প্রতিবেদনে উল্লেখিত বিষয় স্থানীয় বিশ্বাসের উপর ভিত্তি করে লেখা হয়েছে। আজকাল ডট ইন কোনও রকম কুসংস্কারে বিশ্বাস করে না বা প্রচারে প্রশ্রয় দেয় না। ভারতে লিঙ্গ নির্ধারণ দণ্ডনীয় অপরাধ।)