বহু বছর পর আবারও ইরান থেকে তরল পেট্রোলিয়াম গ্যাস আমদানি করল ভারত। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সাময়িকভাবে তেহরানের তেল ও পরিশোধিত জ্বালানির উপর নিষেধাজ্ঞা শিথিল করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে শিল্প মহলের সূত্রে জানা গিয়েছে। এই সিদ্ধান্ত এমন এক সময়ে নেওয়া হয়েছে, যখন দেশ জুড়ে তীব্র গ্যাস সঙ্কটের মুখোমুখি ভারত।
2
7
সূত্রের খবর, নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা ট্যাঙ্কার ইরানি এলপিজি নিয়ে ভারতের পশ্চিম উপকূলের ম্যাঙ্গালোর বন্দরের দিকে এগোচ্ছে। উল্লেখযোগ্যভাবে, এই ট্যাঙ্কারটি প্রথমে চীনের উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছিল। পরে গন্তব্য পরিবর্তন করে ভারতমুখী করা হয়। এই ঘটনাই আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে নতুন করে আলোড়ন ফেলেছে।
3
7
এই আমদানি করা এলপিজি কার্গোটি ভাগ করে নেবে দেশের তিনটি বড় তেল সংস্থা—ইন্ডিয়ান অয়েল কর্পোরেশন, ভারত পেট্রোলিয়াম এবং হিন্দুস্থান পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন লিমিটেড। জানা গিয়েছে, একটি ট্রেডারের মাধ্যমে এই কার্গো কেনা হয়েছে এবং এর মূল্য ভারতীয় মুদ্রায় পরিশোধ করা হবে। ভবিষ্যতে আরও ইরানি এলপিজি আমদানির সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখছে ভারত।
4
7
২০১৯ সালে পশ্চিমী নিষেধাজ্ঞার চাপে ইরান থেকে জ্বালানি আমদানি কার্যত বন্ধ করে দিয়েছিল ভারত। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে, জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আবার সেই পথেই ফিরতে হচ্ছে দেশকে। যদিও সরকারের এক উচ্চপদস্থ আধিকারিক রাজেশ কুমার সিনহা দাবি করেছেন, তাঁর কাছে এই ধরনের কোনও আমদানির খবর নেই।
5
7
বর্তমানে ভারত বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম এলপিজি আমদানিকারক দেশ। গত বছর দেশে প্রায় ৩৩.১৫ মিলিয়ন মেট্রিক টন এলপিজি ব্যবহৃত হয়েছে, যার প্রায় ৬০ শতাংশই আমদানি নির্ভর। এর মধ্যে প্রায় ৯০ শতাংশ জ্বালানি আসে মধ্যপ্রাচ্য থেকে। ফলে এই অঞ্চলের অস্থিরতা সরাসরি ভারতের জ্বালানি সরবরাহে প্রভাব ফেলছে।
6
7
চলতি সঙ্কট মোকাবিলায় সরকার শিল্পক্ষেত্রে গ্যাস সরবরাহ কমিয়ে গৃহস্থালির রান্নার গ্যাস নিশ্চিত করার চেষ্টা করছে। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালীতে আটকে থাকা এলপিজি ট্যাঙ্কারগুলিকেও সরিয়ে আনার কাজ চলছে।
7
7
সব মিলিয়ে, ইরান থেকে এলজিপি আমদানি ভারতের জ্বালানি নীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় নির্দেশ করছে। আন্তর্জাতিক কূটনীতি, জ্বালানি নিরাপত্তা এবং অর্থনৈতিক বাস্তবতার মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখতে এই পদক্ষেপ কতটা কার্যকর হয়, এখন সেটাই দেখার।